টি আই সুভাষ দে‘র অত্যচারে অতিষ্ঠ গাড়ীর মালিক ও শ্রমিকরা, অধিনস্থদের মাঝে ক্ষোভ

জিএসএসনিউজ ডেস্ক :: নগর ট্রাফিকের টি আই (প্রশাসন) সুভাষ দে‘র অত্যাচারে অতিষ্ট্য হয়ে উঠেছে নগরীর যানবাহন মালিক ও শ্রমিকরা। প্রতিনিয়ত নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা। কারণে-অকারণে ট্রাফিক আইনে বিভিন্ন ধারায় মামলা দিয়ে এবং সেই মামলা নিস্পত্তি করতে গিয়ে আর্থিক ও মানসিক ভাবে হয়রানি করছেন টি আই সুভাষ, এমন অভিযোগ নগরীর যানবাহন মালিক ও শ্রমিকদের। ক্ষোভ বিরাজ করছে সদরঘাট ট্রাফিক অফিসের অধিনে মাঠে কর্মরত টি আই,সার্জেন্ট ও কনেস্টেবল গণ। অনুসন্ধানে জানাযায়, ২০১৮ সালের জানুয়ারীর শেষের দিকে নগর ট্রাফিকের টি আই(প্রশাসন) হিসেবে সদরঘাট ট্রাফিক অফিসে যোগদান করেন সুভাষ দে। তিনি যোগদান করার পর সদরঘাট ট্রাফিক অফিসের সব অনিয়মই নিয়মে পরিণত করেছে। নিয়ম মতে টিআই প্রশাসনের দায়ীত্ব হচ্ছে অন্যান্য টি আই,সার্জেন্ট ও কনেস্টেবলদের ডিউটি বন্ঠন করা এবং সড়কে কর্মরত অবস্থায় ট্রাফিকের কোন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তিনি তার দায়িত্বে সীমিত না থেকে পুরো সদরঘাট ট্রাফিক অফিস নিয়ন্ত্রন করছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে সদরঘাট ট্রাফিক অফিস থেকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগর ট্রাফিকের কয়েক জন কর্মকর্তা বলেন, সপ্তাহিক ডিউটি বন্ঠনের সময় টি আই(প্রশাসন) নির্দেশ দেন কয়টি মামলা করতে হবে এবং কয়টি গাড়ী টো করতে হবে। ফলে আমরা যারা রাস্থায় দায়িত্ব পালন করি আমাদের মনুষ্যত্ব জলাঞ্জলী দিয়ে কাজ করতে হয়। এছাড়া ডিউটি বন্ঠন করার সময় তার পছন্দের টি আই , সার্জেন্ট ও কনেস্টেবলদের উর্বর অর্থাৎ আয় ভালো হয় এমন পয়েন্টে দায়িত্ব দেয়। আর যারা তার অনুগত নয় তাদের ডিউটি দেয় যত্রতত্র । এই ডিউটি বন্ঠনেও সুভাষের রোজগার রয়েছে, উর্বর পয়েন্ট অর্থাৎ আয় ভালো হয় এমন পয়েন্টে ডিউটি নিতে সপ্তাহে ৪-৫ হাজার টাকা গুণতে হয়। এমনকি প্রসিকিউশনকে ও চলতে হয় তার নির্দেশে। ট্রাফিক আইনের ধারামতে জরিমানার ২/৩ গুণ জরিমানা আদায় করতেও প্রসিকিউশনের উপর চাপসৃষ্টি করেন তিনি। নগরীর অনেক যানবাহন মালিক ও শ্রমিকরা জানান, এই টি আই আসার পর আমাদের সড়কে যান চালানো অসাধ্য হয়ে পড়েছে। যে কোন সময় আমরা মালিক-শ্রমিক সংগঠন আন্দোলনের ডাক দিতে পারি এমন মন্তব্য করে তারা বলেন, সড়কে গাড়ী চললে ছোটখাট সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তার জন্য গাড়ী টো করে মোটা অংকের টাকা আদায়,যখন-তখন নানা অপরাধ দেখিয়ে চালকদের কাছ থেকে টাকা দাবী করা, দাবীকৃত টাকা না দিলে ট্রাফিক আইনে বিভিন্ন ধারায় মামলা দেওয়া, আবার এই মামলা নিস্পত্তি করতে গেলে নির্ধারিত জরিমানার অধিক টাকা আদায় করা, সবই যেন তাদের ইচ্ছার উপর নির্ভর করছে। ট্রাফকি বিভাগের অপর এক সুত্র জানায়, নগরীর প্রবেশদ্বার কর্ণফুলি ব্রীজ,কাপ্তাই রাস্তার মাথা, মুরাদপুর,দুইনাম্বার গেইট এলাকায় গ্রাম সিএনজি নগরে প্রবেশ করার টোকেন দিয়ে মাসিক লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন টি আই সুভাষ দে। প্রতিদিন নগরীর প্রতিটি প্রবেশ মূখে ৭০-৮০ টি গ্রাম সিএনজি প্রবেশ করে। সিএনজি প্রতি মাসিক আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা মুল্যের টোকেন কিনতে হয়। মাসের শেষে প্রায় সাড়ে তিনশ সিএনজির টোকেনের টাকা আনায়াসে চলে যায় টি আই সুভাষ দে‘র’ পকেটে। এই সব প্রবেশ মূখে কর্মরত সার্জেন্ট ও দায়ত্বিপ্রাপ্ত টি আইরা এক প্রকার অনিচ্ছাকৃত ভাবে তার নির্দেশ পালন করছে বলে গুনঞ্জন রয়েছে নগর জুড়ে। এক কথায় সদরঘাট ট্রাফিক অফিস একপ্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছে টি আই সুভাষের কাছে। এই ব্যাপারে কথা বলতে তার মুটোফোনে বার বার ফোন করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*