মনির হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন : পরিকল্পনায় স্ত্রী বাস্তবায়নে দেবর

 জিএসএস নিউজ২৪বিডি ডটকম ডেস্ক :  মনির হত্যা রহস্য উদঘাটন করে সংবাদ সম্মেলন করছেন ডিএমডির গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মোস্তাক আহমেদ। মনিরুজ্জামান মনির নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার পরিকল্পনা করে তার স্ত্রী কাজল। আর সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে তার দেবর মিন্টু। তাদের অনৈতিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে এ ঘটনা ঘটায় তারা। এজন্য এক লাখ টাকায় তিন ভাড়াটে খুনির মাধ্যমে মনিরকে হত্যা করায় মিন্টু। মনিরকে হত্যার রহস্য উদঘাটনের পর শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানের উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ।

স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে কাজল। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ৮ সেপ্টেম্বর বাড্ডা থানাধীন সাঁতারকুলের মেরুল হিন্দু পাড়ার রাম মঙ্গলের বাড়ির পাশে খোলা মাঠ থেকে মনিরুজ্জামান মনিরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলা ও পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। অজ্ঞাত অবস্থায় পড়ে থাকা মরদেহটিকে শনাক্ত করে আজমল হক মিন্টু। এরপর বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা করে মিন্টু। তবে পুলিশের দৃষ্টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘুরিয়ে দিতে এটা ছিনতাইকারীদের কাজ বলে ধারণার কথা জানায় সে।

তবে এই মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ নিহত মনিরের স্ত্রী কাজলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা এবং নিজে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে কাজল। শুক্রবার আদালতে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে সে।

পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘ ৮ বছরের অনৈতিক সম্পর্কের এক পর্যায়ে মিন্টু বিয়ের প্রস্তাব দেয় কাজলকে। কিন্তু দুই সন্তানের জননী কাজলের জন্য বাধা ছিল তার স্বামী মনির। এ কারণে মনিরকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে সে। আর সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে মিন্টু। ভাবির কথা শুনেই বড় ভাই মনিরকে হত্যা করতে তিন ভাড়াটে খুনির সঙ্গে ১ লাখ টাকার চুক্তি করে ছোট ভাই মিন্টু।

এরপর তার দেওয়া তথ্য এবং জবানবন্দির ভিত্তিতে শুক্রবার রাতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছোট ভাই আজমল হক মিন্টু সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে বাড্ডা থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন- আব্দুল মান্নান, সোহাগ ওরফে শাওন, ফাহিম।

ডিসি মোস্তাক বলেন, মনির ফেনীতে কাজ করতেন। তবে তার পরিবার থাকতো গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে। সম্প্রতি তিনি বাড়ি যান। তখনই হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘাতক। মিন্টু তার বড় ভাই মনির কে ফোন দিয়ে জানায়, আমি বিয়ে করবো, তাই ঢাকায় মেয়ে দেখেছি, তুমি এসে দেখে যাও। এতে মনির রাজি না হওয়াতে বারবার অনুরোধ করতে থাকে মিন্টু। তার স্ত্রী কাজলও ঢাকা যাওয়ার জন্য তাকে বলে। মনির দিনাজপুর থেকে ঢাকার গাবতলী আসেন। ঢাকা শহর ভালোমতো না চেনায় ছোটভাইকে ফোন দিলে মিন্টু মান্নানের ফোন নম্বর দেয় এবং মান্নান তাকে নিয়ে আসবে বলে জানায়।

তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী মান্নান বাড্ডা সাঁতারকুলের নির্জন ওই স্থানে মনিরকে নিয়ে যায়। এসময় ভাড়াটে খুনি শাওন ও ফাহিম সেখানে উপস্থিত হয়। তাদের হাতে ছুরি ছিল। এই ছুরি দিয়ে মনিরের গলায় প্রথমে ফাহিম, এর পরপরই মান্নান আবারও আঘাত করে। মনির মাটিতে পড়ে যায়। এরপর তাদের নির্দেশ মতো শাওন ছুরি দিয়ে মনিরের পেটে উপর্যুপরি আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।

এরপর হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি মিন্টুকে জানায় মান্নান। এরপর মিন্টু বিষয়টি তার ভাবি কাজল রেখাকে জানায়। আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিসি মোস্তাক আহমেদ জানান, কিলিং মিশন শেষে চুক্তির অগ্রিম পাওয়া ৩০ হাজার টাকা নিজের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয় খুনিরা। এই টাকার মধ্য থেকে মান্নান নেয় ১০ হাজার টাকা, ফাহিমকে দেওয়া হয় ৫ হাজার টাকা এবং বাকি ১৫ হাজার টাকা নেয় শাওন।ডিসি মোস্তাক আরও জানান, তিন ভাড়াটে খুনি থাকতে কড়াইল বস্তিতে। তাদের ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি ৭০ হাজার টাকা পরে দেবে বলে জানিয়েছিল আসামি মিন্টু।

Edited : Benzamin, Updated 2018-11-08, saturday,   at 03-24pm

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*