আনোয়ারা ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজীতে অতিষ্ঠ চালক-মালিকরা, পুলিশ বক্স ভাংচুর, গাড়ীতে আগুন

বদরুল হক, আনোয়ারা :: আনোয়ারা ট্রাফিক পুলিশের দুই কর্মকর্তার বেপরোয়া চাঁদাবাজীতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ছোট বড় যানবাহনের চালক ও মালিকরা। একাধিক চালক অভিযোগ করে জানান, বিনা কারণেই ট্রাফিক পুলিশ গাড়ী আটকিয়ে প্রায় জিম্মি করে টাকা আদায় করে। ট্রাফিক পুলিশ গাড়ী আটকানোর পর অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েন আইনের কাছে, বৈধ কাগজ পত্র থাকার পরও বাধ্য হয়ে অনেকে ঝামেলা এড়াতে ট্রাফিককে উৎকোচ দিয়ে সড়কের যানবাহন নিয়ে চলাচল করে। আজ ১৪ নভেম্বর সকাল ১১টায় বাশখালী হতে আসা কাভার্ডভ্যান আটকিয়ে চালকের কাছ থেকে চাঁদা চাওয়া হয়। গাড়ীর সব বৈধ কাগজ দেখার পরও চাঁদা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে কাভার্ডভ্যান চালক, এতে ট্রাফিক কর্মকর্তা ও পুলিশের সাথে থাকা স্থানীয় মুন্না নামের এক যুবক চালককে ধরে গাড়ী থেকে নামিয়ে পুলিশ বক্সে নিয়ে এসে মামলার ভয় দেখায়, তারপরেও কাভার্ডভ্যান চালক চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে পুলিশের সাথে থাকা যুবক মুন্না চালককে পেটাতে থাকে, ক্ষিপ্ত হয়ে কাভার্ডভ্যান চালক ট্রাফিকের সহযোগী মুন্নার গায়ে হাত তুললে ট্রাফিক কর্মকর্তা আনোয়ার এসে চালককে বেধরক পেটানো আরম্ভ করে। এতে আশেপাশে থাকা অন্য যানবাহনের চালকরা ক্ষিপ্ত হয়ে ট্রাফিক পুলিশের মোটর সাইকেলে আগুন দিয়ে পুলিশ বক্স ভাংচুর চালায়, পরিস্তিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে চাতরী চৌমুহনী বাজারে থাকা শত শত সিএনজি চালক ও স্থানীয় গাড়ীর মালিক এবং সাধারন জনগণ রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে প্রতিবাদ শুরু করে। এতে পিএবি সড়কে প্রায় ১ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে পরিস্তিতি বেসামাল হতে শুরু করে, পরে আনোয়ারা থানা পুলিশ খবর পেয়ে চাতরী চৌমুহনী বাজারে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত চালককে তাৎক্ষণিক আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। যানবাহনের চালক, মালিক ও যাত্রীরা জানান, বৈধ কাগজ থাকার পরও ট্রাফিক কর্মকর্তা নজরুল ও আনোয়ারের চাঁদাবাজীতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে তারা। পুলিশের সাথে চাঁদাবাজীতে নামে স্থানীয় কয়েকজন যুবক, তাদের অত্যাচার অনেক সহ্য করেছি। অবিলম্বে আমরা স্থানীয় যুবক এবং ট্রাফিকের ২ কর্মকর্তার শাস্তি দাবী জানাচ্ছি ।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আনোয়ারার ট্রাফিক ইনচার্জ নজরুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অসত্য, আজকের ঘটনায় পুলিশের কাজে বাঁধা দেওয়ার অপরাধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*