Home / চলতি খবর /  শিক্ষিকা শাপলার জিঘাংসার শিকার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তামান্না 

 শিক্ষিকা শাপলার জিঘাংসার শিকার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তামান্না 

আসাদুজ্জামান বাবুল : রাজধানী ঢাকার মিরপুর রূপনগরে অবস্থিত কামাল আহম্মেদ মজুমদার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী তামান্না আক্তার মুক্তি স্কুল শিক্ষিকা শাপলার জিঘাংসার শিকার। প্রতিবাদ করায়  শিক্ষার্থী তামান্না আক্তার মুক্তির বড় ভাই আল আমিনকে পোহাতে হয় অমানবিক পুলিশী নির্যাতন। বোনকে মারধর ও স্কুল থেকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে গভর্নিং বডির সদস্যদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করতে চেয়েছিলেন আল-আমিন।

এ কারণে, তাকে থানায় নিয়ে হেনস্তা করেন গভর্নিং বডির সদস্য সুইটি আক্তার শিনু। এমনকি রূপনগর থানার ওসির রুমে নিয়ে তাকে মারধর করতে করতে কান থেকে রক্ত বের করে ফেলেন থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোকাম্মেল।
শনিবার সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) মিলনায়তনে নিজের ওপর এ নির্ম, ও নির্দয় নির্যাতনের কথা বর্নণা করেন আল-আমিন।

তিনি বলেন, আমার ছোট বোন তামান্না আক্তার মুক্তি রূপনগরের কামাল আহম্মেদ মজুমদার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে স্কুলের শাপলা নামের একজন শিক্ষিকার বাসায় প্রাইভেট পড়ত। আমাদের পারিবারিক সমস্যার কারণে গত জুন মাস থেকে আমরা ঐ শিক্ষিকার কাছে প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করে দেয়। শিক্ষিকা আমাদের কাছে ২০ দিনের বেতন পেতেন। এই টাকা না দেয়ায় ২৭ জুলাই শিক্ষিকা শাপলা ম্যাডাম ক্লাসের মৌমিতা নামে এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে আমার বোনকে মারধোর করান। এতে আমার বোন মারাত্মকভাবে আহত হয়। শুধু তাই নয়, আমার বোনকে দুইটা পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি।
আহত বোনের ওপর নির্যাতনের বিচার চাইতে আমি স্কুলে যাই। বিচার না পেয়ে স্কুলের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করার ঘোষণা দেই। তখন গভর্নিং বডির সদস্য সুইটি আক্তার শিনু আমাকে ডেকে নিয়ে রূপনগর থানায় যায়। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই সেখানে থাকা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোকাম্মেল আমাকে ধরে মারধর শুরু করেন এবং তৎকালীন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ্ আলমের রুমে নিয়ে যায়।

সেখানে আমিসহ, ওসি শাহ্ আলম, ওসি (তদন্ত) মোকাম্মেল এবং গভর্নিং বডির সদস্য সুইটি আক্তার শিনু এই চারজন উপস্থিত ছিলেন। তখন মোকাম্মেল আমাকে বেধরক মারতে থাকেন। ওসি সাহেব আমাকে সুইটির কাছে মাফ চাইতে বলেন। আমি সুইটির কাছে মাফ চাই।

ওসি শাহ আলম আমাকে গালি দিয়ে বলেন, ‘পা ধরে মাফ চা।’ আমি পা ধরে মাফ চাইলে ইন্সপেক্টর মোকাম্মেল আমাকে নিয়ে থানা হাজতে ঢোকান। আল আমিন আরো বলেন, একই দিনে আমাকে তিন বার থানার হাজতে ঢোকানো হয়, আবার ৩ বার বের করানো হয়। পরে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে আমাকে থানা থেকে ছাড়া হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত আল-আমিন ও তামান্নার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘থানার তদন্ত অফিসার (মোকাম্মেল) আমার ছেলেকে বলেছেন, এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তোকে মিথ্যা মামলা দিয়ে সারাজীবন জেলে কাটানোর ব্যবস্থা করব, নতুবা ক্রসফায়ার দিয়ে মেরে ফেলব।’
বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন আরো বলেন, বিষয়টি সুরাহার জন্য গভর্নিং বডির সদস্য সুইটি আক্তার শিনু, থানার ওসি (তদন্ত) মোকাম্মেল ও থানার এসআই কামরুল আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। অন্যথায় হয়রানির পরিমাণ আরো বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়। এ কথা শোনার পর আমি আমার ছেলেকে কয়েকদিনের জন্য বাড়ির বাইরে পাঠিয়ে দেই। এ ঘটনায় সুবিচারের আশায়, গত ৮ জুন বাংলাদেশ ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (আইজিপি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এবং ডিসি মিরপুর বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন।

নির্যাতন, টাকা দাবি ও মিথ্যা মামলায় ধরিয়ে দেয়ার হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে কামাল আহম্মেদ মজুমদার স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য সুইটি আক্তার শিনু বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। এটা স্কুলের ব্যাপার, ছাত্রীর সঙ্গে ছাত্রীর মারামারি হয়েছে। এ বিষয় নিয়ে যখন তারা আমার কাছে আসে, তখন ছেলেটির (আল-আমিন) সঙ্গে আমার কথা কাটাকাটি হয়, একপর্যায়ে সে আমাকে ধাক্কা দেয়। আমি পুলিশে ফোন দিলে, পুলিশ এসে তাকে ধরে নিয়ে যায়। আমার এক মামার অনুরোধে আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করিনি।
এই অভিযোগের বিষয়ে ডিসি মিরপুর, মাসুদ আহাম্মদ এর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই রকম অভিযোগের কোন কপি আমার হাতে আসেনি। যদি আমার কাছে কোন অভিযোগ আসে অবশ্যই তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রূপনগর থানায় যোগাযোগ করা হলে বর্তমান ওসি বলেন, থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ আলম বদলি হয়ে বর্তমানে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগে রয়েছেন। নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার হুমকির বিষয়ে ইন্সপেক্টর-অপারেশন্ মোকাম্মেলের কাছে জানতে সরকারি মোবাইলে ফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

About gssnews2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*