Home / চলতি খবর / সফলতা ব্যর্থতা স্বীকার করে বিদায়ী অফিস করলেন ডিএমপি কমিশনার

সফলতা ব্যর্থতা স্বীকার করে বিদায়ী অফিস করলেন ডিএমপি কমিশনার

আসাদুজ্জামান বাবুল : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া কর্মজীবনের শেষ কার্যদিবসে সাংবাদিকদের শোনালেন তার গত ৪ বছর ৭ মাস ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সফলতা ব্যর্থতার কথা।
বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১,৬৮০ দিনের কমিশনার থাকাকালীন দুই জায়গায় ব্যর্থতার আক্ষেপ রয়েছে। একটি হলো-জনগণ থানায় যে সেবা প্রত্যাশা করে, তা পূরণে আমরা অনেকাংশে ব্যর্থ হয়েছি। আরেকটি হলো- যানজট। ঢাকায় সিগন্যাল ব্যবস্থা একটি সংস্থা দেখভাল করে, পানি জমলে আরেকজনের সাহায্য নিতে হয়। এসবের কারণে যানজট নিরসন পুরোপুরি সম্ভব হয়নি।
কমিশনার বলেন, আমার সবচেয়ে বড় সফলতা জঙ্গি দমন বলে আমি মনে করি। দেশে-বিদেশে বাংলাদেশ এখন জঙ্গি দমনের রোলমডেল। এ ছাড়া ঢাকা শহরে আমি ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরমের ব্যবস্থা চালু করি। গত চার বছর সাত মাসের বেশি সময় আমি ডিএমপি’র ৩৪ হাজার সদস্যকে এক ছাতার নিচে রেখে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছি। সফলতা ব্যর্থতা মিলেই ছিল আমার এই কর্মজীবন।
উল্লেখ্য, বর্তমানে রাজধানী ঢাকার ৭২ লাখ ভাড়াটিয়ার তথ্য আমাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে কোনো সন্ত্রাসী কোনো অপরাধ করে ঢাকায় এসে লুকিয়ে অবস্থান করতে পারবে না। এ ছাড়াও জনগণের হয়রানি বন্ধে বিনা অপরাধে গ্রেফতার বন্ধ, থানায় জিডির ফরমেট করা ফরম, ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সিস্টেম চালু করেছি। কমিশনার হিসেবে আমি শতভাগ সফল হয়েছি, তা বলবো না। তবে অনেক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি।
পুলিশের পোশাকে অনেকেই দুর্নীতি-অপরাধ করে। তাদের দায়ের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিটা পেশায় দুর্নীতিবাজ, অপরাধী রয়েছে। পুলিশেও এমন রয়েছে। কেউ অপরাধ করলে এটা একান্তই তার ব্যক্তিগত। এর দায় গোটা বাহিনী নেবে না। তবে পুলিশের কেউ যেন অন্যায় অপরাধ না করে, সেদিকে আমি লক্ষ্য রেখেছি।
অনেকে অভিযোগ করেন ২০১৮ সালের নির্বাচনে পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী ?
এ প্রশ্নের উত্তরে ডিএমপি কমিশনার বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। তারা সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কখনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করেননি। এসব কথা বিভ্রান্তিমূলক। ঢাকায় একসময় এমন পরিস্থিতি হয়েছে কেউ যানবাহনে বোমা ছুড়েছে, কেউ আগুন দিয়েছে, কেউ ভাঙচুর চালিয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সবসময় মানুষের নিরাপত্তা ও জনগণের জানমাল রক্ষায় কাজ করেছে। যাহারা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত কাজে জড়িত ছিল তাদেরকে গ্রেফতার করেছে। এই কাজকে যদি কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার কথা বলে তাহলে এটা মিথ্যা ব্লেম দেয়া হবে।
কমিশনার বলেন, গুলশান হামলায় স্মৃতিচারণ করে তার সামনে দুজন চৌকস অফিসারের অকালে চলে যাওয়া ও বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ইভেন্টে নিরাপত্তার বর্ণনাও দেন। একবার অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দল নিরাপত্তাহীনতার কথা বলে বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলতে আসতে চায়নি। এরপর তাদের দেশের একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক পাঠিয়েছিল, আমরা তাদের আমাদের নিরাপত্তা প্রেজেন্টেশন দেই। তারা আমাদের প্রেজেন্টেশনে মুগ্ধ হয়েছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়া খেলতে আসে। নিরাপদে বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলে গিয়েছে। তারা আমাদের নিরাপত্তা-ব্যবস্থার প্রশংসাও করেছে।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আপনাদের উপলব্ধি করতে হবে আপনারা জনগণের বন্ধু। জনগণের টাকায় আপনারা বেতন পান। ক্ষমতার দম্ভ নয়, লাঠি ঘুরিয়ে নয়, জনতার আস্থার প্রতীক হওয়ার চেষ্টা করুন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি বলেন, আজ আমার শেষ কার্যদিবস। আমি এই পদ এবং বিশেষ করে এই পবিত্র পোশাককে খুব মিস করব। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় আমি আমার পরিবার বন্ধু বান্ধবসহ কাউকেই কোনো সময় দিতে পারিনি। ১০ মিনিটের জন্য কারও সঙ্গে কোনো আড্ডাও দিতে পারিনি। অবসরের পর এখন তাদের সময় দেব।

About gssnews2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*