Home / জেলার খবর / আলোর পাঠশালা’ মুসলিমাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়।

আলোর পাঠশালা’ মুসলিমাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়।

শেখ জাহিদ হাসানঃ কথায় বলে, ধ্যানের চর্চা হয় গুহায়, ধর্মের চর্চা হয় মসজিদ-মন্দিরে, নীতির চর্চা হয় পরিবারে, বিদ্যার চর্চা হয় বিদ্যালয়ে অর্থাৎ জাগতিক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের জন্য প্রয়োজন হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
শিক্ষা লাভের স্তর ভেদে আমরা এদের বলি বিদ্যালয়, কলেজ এবং মহাকলেজ ইত্যাদি। এ সকল প্রতিষ্ঠান থেকে আমরা যে জ্ঞান বা শিক্ষা লাভ করি তার নাম ফর্ম্যাল বা আনুষ্ঠানিক শিক্ষা অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা।
এমনি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিলেটেের বালাগঞ্জ উপজেলার মুসলিমাবাদ গ্রামে অবস্থিত ”মুসলিমাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়।”
১৯৮৩ সাল থেকে শুরু করে এর পথচলা। ৬ষ্ট শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী এই বিদ্যালয়টির বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা আটশত পায়ত্রিশ জন। শিক্ষক সংখ্যা ষোল জন। বিদ্যালয়টিতে রয়েছে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার। বইয়ের সংখ্যা তিন হাজার। বিদ্যালয়টির জমির পরিমাণ ১ দশমিক ৯৩ একর।
৩৪ বছর ধরে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয়টি। এই বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে অনেক শিক্ষার্থীই দেশে-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ পদে এবং সমাজসেবামূলক কর্মকা-ে নিয়োজিত আছেন।
ভালো ফলাফলের বিচারে বালাগঞ্জের  অনন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এটি। প্রতিষ্ঠানের ভালো ফলাফলের কারণ শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং ম্যানেজিং কমিটির দক্ষ পরিচালনা। বর্তমানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফুর রহমান চৌধুরী। তাঁর সাবলীল নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির পথচলাকে করেছে আরো গতিময়। বিদ্যালয়টির বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রদীপ সিংহ।
পাঠক্রমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সহ-পাঠক্রমিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়ও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা বেশ সুনাম অর্জন করে চলেছে। সাপ্তাহিক পরীক্ষা, নিয়মিত পাঠদান, কম মেধাবীদের গুরুত্ব সহকারে তত্ত্বাবধান, সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি_ বিদ্যালয়ের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের প্রমাণ রাখে।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীর অভিমতঃডা. মির্জা আবু নাসের এম রাহেল বলেন, এই স্কুলে পড়ালেখা করে আজ আমি ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করছি। আমাদের স্কুলের ছাত্ররা অনেকে ভালো জায়গায় চাকরি করছে। এখনো আমরা গর্বের সঙ্গে বলি আমরা মুসলিমাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। আশা রাখি এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যাবে। যুগ যুগ শিক্ষা দান করুক বিদ্যালয়টি।
বর্তমান শিক্ষার্থীদের মতামতঃ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী শেখ মাজেদা জান্নাত পপি জানায়, বিদ্যাপিঠে পড়তে পেরে আমি গর্বিত। এখান থেকে পাশ করে অনেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যলয়ে অধ্যায়ন করছেন। আমিও চাই ভালো ফলাফল করে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে।
৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মির্জা নুসরাত জাহান দিনা জানায়, কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে তুমি কোন স্কুলের শিক্ষার্থী। তখন মুসলিমাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বললে নিজের মধ্যে খুবই তৃপ্তি পাই। আগামীতে ভালো ফলাফল অর্জন করে সবাইকে জানিয়ে দিতে চাই আমি মুসলিমাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
শিক্ষকদের কথাঃমুসলিমাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন জানান, বালাগঞ্জের কয়েকটি পুরাতন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মুসলিমাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় একটি।আমি এই স্কুলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান
করাতে পেরে গর্ববোধ করি।
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সালাহ্ উদ্দিন জানান, মানুষ গড়ার কারিগর এই বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির কয়েক যুগ পার হলেও শিক্ষার দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়ে নাই। প্রতি বছরই ভালো ফলাফল করছে শিক্ষার্থীরা। আগামীতে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোনার বাংলা গড়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকরবে এটাই প্রত্যয়।
প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যঃমুসলিমাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফুর রহমান চৌধুরী জানান, বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ সুন্দর রাখতে এবং শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের জন্য কাজ করছেন তারা।
তিনি বলেন, “বিগত ২২ বছর ধরে এখানে সরকারিভাবে কোনও ভবন নির্মাণ করা হয়নি। তাই বর্তমানে এলাকাবাসীর উদ্যোগে একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে এছাড়া আরও কাজ চলছে।”
তিনি আরো বলেন,বর্তমানে সুশীল সমাজ ও দক্ষ জাতি গঠনের লক্ষে সুশিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অন্তর্নিহিত গুণাবলীর সার্বিক বিকাশ সাধন, মূল্যবোধ সৃষ্টি ও মানসিক উৎকর্সতার বৃদ্ধি ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের দেশ প্রেমিক আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য কাজ করে যাচ্ছে।
ম্যানিজিং কমিটির সভাপতির বক্তব্য :মুসলিমাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রদীপ সিংহ জানান, বিদ্যালয়ের ফলাফল ভালো। খুবই সুনামের সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে শিক্ষকরা। আশা রাখি এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

About gssnews2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*