Home / জেলার খবর / কমলনরের চরকাদিরার উন্নয়নের প্রতিচ্ছবিঃজননন্দিত ইব্রাহিম বাবুল মোল্লাহ

কমলনরের চরকাদিরার উন্নয়নের প্রতিচ্ছবিঃজননন্দিত ইব্রাহিম বাবুল মোল্লাহ

এম.শাহরিয়ার কামাল কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) : মোঃ ইব্রাহিম বাবুল মোল্লাহ ঐতিহ্যবাহী মোল্লাহ পরিবারের সন্তান। গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ৮নং চরকাদিরা ইউনিয়নের চরঠিকা গ্রামে। বাবা মরহুম আঃ লতিফ মোল্লাহ, যিনি তার জীবদ্দশায়

চরকাদিরা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সচিব ছিলেন।কাদিরা ইউপিবাসীর অধিকার নিয়ে আজীবন কথা বলছেন, সামর্থনুযায়ী মানুকে দান করেছেন, বিপদে আপদে এগিয়ে গেছেন। এক সময়ে নীতিবান ও সৎ মানুষ হিসেবে পুরো উপজেলায় তার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে এক কথায় একজন ভালোমানুষ হিসেবেই এলাকায় প্রতিষ্ঠা পান তিনি। লোকজনের সাথে মিলেমিশে জনগুরুত্বপূর্ন কাজ আর আড্ডাবাজির মধ্যদিয়ে মানবসেবায় জীবনটাকে বিলিয়ে দিয়ে গেছেন পিতা প্রয়াত ইউনিয়ন পরিষদ সচিব আঃ লতিফ মোল্লাহ। ইউনিয়ন পরিষদ সচিব থাকাবস্থায় চরকাদিরা ইউপিবাসীর সুখ দুঃখে অবদান রাখাসহ কার্যালয়ের সকল বিষয়ে সততা নিষ্ঠা দক্ষতা আর আন্তরিকতার সাথে কার্য সম্পাদন করার পুরস্কার হিসেবে সরকারি খরচে নির্মিত পরিষদ ভবনটির সৌজন্যে আঃ লতিফ মোল্লাহ নামকরন করা হয়েছে। নেমপ্লেটের খচিত অক্ষরে লিখা লতিফ মোল্লাহ যেন সৃতি হয়ে আজো বেচে আছেন লাখো মানুষের মাঝে।

শিক্ষা ও কর্মজীবন : ইব্রাহিম বাবুল মোল্লাহ পারিবারিক শিক্ষাগ্রহন করে মেট্রিকুলেশান শেষে নব্বইয়ের দশকে কর্মের টানে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্য পাড়ি জমান। কিছুদিন একটি প্রাইভেট কন্সট্রাকশন কোম্পানিতে ক্ষুদ্র

কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন এরপর সাব-ঠিকাদারির দায়ীত্বপালন করেন দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতা আর ভালো পারফর্মেন্সসহ চারিত্রিক বিশ্বস্ততাই নিজের ভাগ্য বদলাতে সাহায্য করে তাকে।এরপর নিজেকে আরো এগিয়ে নিতে দুই হাজার সনের শুরুর দিকে তিনি নিজ প্রতিষ্ঠান ইব্রাহিম কনশ্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি

 

প্রতিষ্ঠান দাড় করাতে সক্ষম হন। তারপর থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি এবং ব্যক্তিগত বহুতল ভবন নির্মাণের কন্ট্রাকটরী নিয়ে কাজ শুরু করেন। মাত্র কয়েক বছরে

দেশের স্বনামধন্য কয়েকটি ঠিকাদারি লাইসেন্সধারী কোম্পানির মধ্যে ইব্রাহিম কনস্ট্রাকশন এখন অন্যতম পরিচিত নাম। যে কোম্পানিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫হাজার লোকের জীবন জিবিকা নির্বাহ হচ্ছে। লাঘব হচ্ছে তাদের অভাব অনটন।

এলাকায় ব্যপক উন্নয়ন কার্যক্রম : ইব্রাহিম বাবুল মোল্লাহ রাজধানী ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কখনো চিন্তা করেননি, যদিও তিনি পারতেন দেশের অন্যসব দশজনের মতো বিলাশবহুল জীবনজাপন করতে,বিদেশে গাড়িবাড়ির মালিক হতে, কিন্তু ওসব না করে তিনি জন্মস্থান নিজ এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক নজর দিয়েছেন এলাকার

বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে প্রতিষ্ঠা করেছেন বৃহৎদুটি ইটভাটা। মরহুম পিতা আঃ লতিফ মোল্লার নামে নামকরণ করে দুটি ভাটার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক সামাজিক বেক্তিবর্গসহ উপজেলার প্রায়প্রতিটি পরিবারকে নিমন্ত্রণ করে মহা ধুমধামের সহিত মেজবানি অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছেন।

ব্যক্তিগত উদ্যোগে চরকাদিরার মানুষের দুঃখ লাঘবে লতিফ ব্রীক্স নামে দুটি ভাটায় গ্রামের প্রায় এক হাজার বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন। গ্রামের প্রতিটি মানুষের কাছে এখন ইব্রাহিম বাবুল মোল্লার প্রশংসার কমতি নেই। এলাকাঘুরে বাবুল মোল্লাহ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রায় শতাধিক লোকজন

বলেন,বাবুল মোল্লাহ তার নিজের অর্থায়নে চরকাদিরা ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তাঘাটগুলো মেরামত করে দিয়েছেন। এতে নিজভাটায় উৎপাদনকৃত ইট আর শুরকির যোগান দিয়ে মেরামতকরে সড়কগুলোকে করেছেন টেকসই।এতেকরে বিভিন্ন যানচলাচল আর পথচারিরা তার এমন মহতি উদ্যোগের প্রশংসাসহ প্রানভরে দোয়া করছেন নিয়োমিত।

চরকাদিরা ইউনিয়নসহ পুরো উপজেলায় প্রায় পাচশতাধিক পরিবার তার দেয়া টিউবওয়েল দিয়ে পানির তৃষ্ণা নিবারণ করছে। অসহায় রুগীদের চিকিৎসা-অপারেশন করতে দান করে আসছেন অকাতরে। নামজানা প্রায় বিশটিরও বেশি এতিমখানায় নিয়মিত চালডাল

তরকারিসহ নগদ অনুদান করে আসছেন তিনি।এযাবত পর্যন্ত অসংখ্য অসহায় মেয়েদের নিজ খরচে বিবাহ কাজ সম্পূর্ন করেছেন, এছাড়া গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় তার অবদানের কমতি নেই। এলাকার অবকাঠামোগত এবং সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে এগিয়ে এসে নানাবিদ উন্নয়ন

অগ্রগতিতে অবদান রাখায় কাদিরা ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষ আজ সাবলম্বীপ্রায়। রাজনৈতিক অঙ্গনেও উজ্জল নক্ষত্র হিসেবে তার অবস্থান : অন্যদিকে সমাজসেবামুলক কাজের পাশাপাশি রাজনীতিতেও ব্যাপক আলোচনায় ইব্রাহিম বাবুল মোল্লাহ। বিগত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পক্ষে বিপুল গণসংযোগ করেছেন।

চরকাদিরাবাসীর সুখ দুঃখ উন্নয়নে পাশে থেকে কাজ করার কারনে শুধুমাত্র বাবুল মোল্লার একান্ত আগ্রহ ও অবদানের কারণে উক্ত ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে। তেমনি উপজেলা নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে বিপুল অর্থের যোগান দিয়েছেন আলোচনায় উঠে আসা এই বিশিষ্ট শিল্পপতি দানবীর বাবুল মোল্লাহ। সাম্প্রতিক পহেলা আগষ্ট উদযাপন উপলক্ষে বাবুল মোল্লাহ তার

ব্যক্তিগত উদ্যোগে আটশত বিরিয়ানির প্যাকেট ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ফটো সম্বোলিত আটশত গেন্জী উপহার দিয়েছেন। যেখানেই আওয়ামীলীগের সভা সংগঠন হয় সেখানেই অর্থনৈতিক ডোনার বাবুল মোল্লার সরব উপস্থিতি আর সহযোগীতার হাত

প্রসারিত থাকে। ইউনিয়নের এমন কোন দলীয় অনুষ্ঠান নেই যেখানে বাবুল মোল্লার অনুদানের ছোঁয়া লাগেনা। আওয়ামীলীগের সামান্য সমর্থক হয়েও দলের উন্নয়ন কর্মকান্ডে যে অসামান্য অবদান তিনি রেখে চলছেন এতে করে ইউনিয়নবাসী তাদের এই প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখা শুরু করে দিয়েছেন ইতিমধ্যেই।

ইউনিয়নবাসীর মুখে মুখে গুঞ্জণ আগামী ইউপি নির্বাচনে বাবুল মোল্লাই হবেন চরকাদিরা ইউনিয়নের যোগ্য কান্ডারী। তারা যে কোন মুল্যে তাদের পছন্দের প্রিয় মানুষ বাবুল মোল্লাকে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য করবেন- এমনটাই আলোচনা বিরাজ করছে পুরো ইউনিয়ন ব্যাপী। বাবার আদর্শের প্রতি লক্ষ্য রেখে পরোপকারে নিজেকে বিলিয়ে দেয়া বাবুল মোল্লাহকে প্রশাসনিকভাবে দেয়া হয়েছে বিশেষ সম্মান।

কমলনগর থানা কমিউনিটি পুলিশিং সেল কমিটির সেক্রটারি বানানো হয়েছে তাকে। তাছাড়া থানা বেষ্টনীর সৌন্দর্য্য বর্ধনে আলোকসজ্জা ও অবকাঠামো উন্নয়নে রেখেছেন বিশেষ অসামান্য অবদান। সবমিলিয়ে ইব্রাহিম বাবুল মোল্লাহ এলাকায় সর্বাগ্রে একজন পরোপকারি দানবীর হিসেবেই পরিচিতি হয়ে আছেন- এমনটাই জানালেন এলাকাবাসী।

 

About gssnews2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*