Home / চলতি খবর /  এবার আসছে রাজউকের ১ লাখ টাকায় ফার্মগেট-সাতরাস্তা ফ্লাইওভার 

 এবার আসছে রাজউকের ১ লাখ টাকায় ফার্মগেট-সাতরাস্তা ফ্লাইওভার 

বেঞ্জামিন রফিক : বালিশ বা পর্দাকান্ডের মতো নির্লজ্জ জালিয়াতি না হলেও রাজউকের বরাদ্দ নিয়ে উদ্ভট এক কান্ডে শুরু হয়েছে তোলপাড়। রাজধানীর যানজট নিরসনে ফার্মগেট থেকে সাতরাস্তা মোড় পর্যন্ত নতুন করে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।তবে ফ্লাইওভারটি নির্মাণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র এক লাখ টাকা।

রাজউকের চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছরের বাজেটে এ বরাদ্দ রাখা হয়। অপরিকল্পিত এই প্রকল্প ও এর উদ্ভট বরাদ্দ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এই বরাদ্দ দিয়ে ফ্লাইওভার তো দূরের কথা তার পকিল্পনা পর্যায়ে যে বৈঠকগুলো হয় তার খরচও হবে না।

জানা গেছে, রাজউকের চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (সংস্থার নিজস্ব তহবিল) চলতি প্রকল্পের তালিকায় ১৩ নম্বর কলামে ফার্মগেট থেকে সাতরাস্তা একটি পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাতে বরাদ্দ রাখা হয় মাত্র এক লাখ টাকা। এই ফ্লাইওভারটি নির্মাণের উদ্যোগ ২০১৮-১৯ অর্থবছরেও ছিল। ওই অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটেও একই বরাদ্দ রাখা হয়। কিন্তু নগরীর প্রাণকেন্দ্রে এমন একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ ও তাতে বরাদ্দ রাখা হলেও সংশ্লিষ্ট শীর্ষস্থানীয় কেউ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি।

জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন,‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি ভালো বলতে পারবো না।’ তিনি রাজউক চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

তবে বিষয়টি সম্পর্কে কথা বলার জন্য একাধিকবার ফোন করলেও রাজউক চেয়ারম্যান ফোন ধরেননি। বিষয়টি উল্লেখ করে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও সাড়া দেননি। কথা বলার জন্য তার কার্যালয়ে গেলে তার ব্যক্তিগত সহকারী জানতে চান আলোচনার বিষয় সম্পর্কে। এসময় এই ফ্লাইওভারটির নির্মাণ পরিকল্পনা ও তার ব্যয় বিষয়ে সাক্ষাৎ প্রত্যাশী জানানো হলে তিনি (রাজউক চেয়ারম্যান) এ বিষয়ে কোনও কথা বলতে পারবেন না বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়ে দেওয়া হয়।

ফ্লাইওভারটির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলামের কাছে। তিনি জানান, এমন কোনও পরিকল্পনা রাজউকের আছে কিনা তার জানা নেই। এরপর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজউক ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারাও বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প)মো. এহসান জামিল  বলেন, ‘রাজউকের এমন কোনও পরিকল্পনা আছে বলে আমার জানা নেই।’ তাহলে বিষয়টি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে কিভাবে এলো এবং এজন্য বরাদ্দও রাখা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘কোনও এক সময় কারও মাথায় এটি এসেছে, সে হিসেবে হয়তো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যা এখনও চলমান আছে।’

বিষয়টি সম্পর্কে নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, রাজউকের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটে এমন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সেই পরিকল্পনা সম্পর্কে শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের কেউ ‘অবগত নন’ এটা কি করে সম্ভব? তাহলে প্রতিষ্ঠানটি কি ধরনের বাজেট করে আর তার বাস্তবায়ন কিভাবে করে এমন প্রশ্নও তুলেছেন তারা।

 

About gssnews2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*