Home / চলতি খবর / বকশীগঞ্জে বুনো হাতির তান্ডব : ফসল ও বাড়ীঘরের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি

বকশীগঞ্জে বুনো হাতির তান্ডব : ফসল ও বাড়ীঘরের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি

রোকনুজ্জামান সবুজ জামালপুর : জামালপুরের বকশীগঞ্জের ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও ভারতীয় বুনো হাতির তান্ডব শুরু হয়েছে। দুইদিন ধরে ভারতীয় বুনো হাাতি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ফসল ও বাড়ী ঘরের ক্ষতি করছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের সোমনাথপাড়া সীমান্ত এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকালে শুরু হয়েছে হাতির তান্ডব। ওইদিন বিকালে সোমনাথপাড়া দিয়ে ভারতীয় অর্ধশতাধিক বন্য হাাতির একটি দল বাংলাদেশের প্রায় ১ কিলোমিটার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ফসলি জমিতে তান্ডব চালায়। গত রবিবার থেকেই বুনো হাতির দলটি ভারতীয় সীমান্ত এলাকার গারো পাহাড়ে অবস্থান করছিল। বৃহস্পতিবার বিকালে হাতির দলটি খাদ্যের সন্ধানে বাংলাদেশের ১ কিলোমিটার অভ্যন্তরের লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে বকশীগঞ্জ উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী কামালপুর ইউনিয়নের সোমনাথপাড়া, গারোপাড়া, টিলাপাড়া, যদুরচর, সাতানীপাড়া, মৃধাপাড়াসহ স্থানীয় ৬টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার আতঙ্কিত মানুষ দুইদিন ধরে নির্ঘুম রাতযাপন করছেন। ওইসব আতঙ্কিত মানুষজন স্বস্ব এলাকায় বুনো হাতির তান্ডব ঠেকাতে হাতি আসার ঝুকিপুর্ণ জায়গায় স্থানীয়ভাবে জেনারেটর এর মাধ্যমে আলোক সজ্জা করে এবং উচ্চ শব্দে ঢাকঢোল পিটিয়ে রাতভর হৈহুল্লোর করেছেন। বকশীগঞ্জের কামালপুর ইউনিয়নের সোমনাথপাড়ার বাসিন্দা আবু তালেব জানান, ভারতীয় বুনো হাতি অক্টোবর মাসের শেষের দিকে রূপা আমন ধান পাকার সময় ধান খাওয়ার জন্য বাংলাদেশে প্রবেশ করে। কিন্তু এবছর অনেক আগেই হাতির দল বাংলাদেশে এসে ফসলের ক্ষতি করা শুরু করেছে। এদিকে কৃষকরা তাদের ফসল রক্ষা করার জন্য জমির চারিদিকে বিদ্যুতের তার দিয়ে ঘেরাও করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব তারের এক পার্শ্বে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়। ফলে ওসব বিদ্যুতের তারের স্পর্শ পেয়ে প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও হাতির দল পালিয়ে গেছে। স্থানীয়রা আরো জানান, এবছর ধান পাকার আগেই হঠাৎ করে হাতির দল বাংলাদেশে আসা শুরু করেছে। এবার এলাকায় বুনো হাতি ঠেকাতো কোন পুর্ব প্রস্তুুতি ছিলনা। তবে ইতিধ্যেই এলাকায় হাতির প্রবেশ ঠেকাতে কাজ শুরু করেছে এলাকাবাসী। এছাড়াও ভারতীয় বুনো হাতির কবল থেকে বাংলাদেশী মানুষের জানমাল রক্ষার্থে বিজিবি’র সদস্যরাও বকশীগঞ্জের ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় টহল জোরদার করেছে বলেও জানা গেছে।
৩৫ বিজিবি ব্যাটিলিয়নের কমান্ডিং অফিসার (সিও) লে. কর্ণেল এসএম আজাদ জানান, বুনো হাতির তান্ডবের সময় সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যদের টহল জোরদার করা হয়েছে। জামালপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) এনামুল হক জানান, বুনো হাতির কবল থেকে মানুষ ও ফসল রক্ষার জন্য বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুনো হাতি উপদ্রæত বকশীগঞ্জের ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় জেনারেটর ও বৈদ্যুতিক বাতি সরবরাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

About gssnews2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*