Home / চলতি খবর / মেলান্দহের নয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছামিউল হকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

মেলান্দহের নয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছামিউল হকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

রোকনুজ্জামান সবুজ জামালপুর : জামালপুরের মেলান্দহের চরপলিশা গ্রামের বাসিন্দা চরপলিশা নয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছামিউল হক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতারণার আশ্রয়ে স্থানীয় কৃষক সুরুজ মন্ডলের ১০ শতাংশ জমি দলিল করে নেওয়ার অভিযোগসহ স্থানীয় বহু নিরীহ মানুষের ভুমি জবর দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন দপ্তরে অন্ততঃ ১০টি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার চরবানি মৌজার বিআরএস ১৫৯২ নং খতিয়ানের ২২৮২ নং দাগের রেকর্ডীয় ১০ শতাংশ ভুমির পৈতৃক সুত্রে মালিক মেলান্দহের চরবানিপাকুরিয়া ইউনিয়নের চরপলিশা পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত রইচ উদ্দিনের পুত্র সুরুজ মন্ডল। তিনি এলাকায় অত্যান্ত সহজ সরল একজন ভাল মানুষ হিসাবেই পরিচিত। সুরুজ মন্ডল পৈতৃক সুত্রে প্রাপ্ত ওই জমি দীর্ঘদিন যাবত ভোগ দখলকার রয়েছেন।
অপরদিকে মেলান্দহের চরবানিপাকুরিয়া ইউনিয়নের চরপলিশা গ্রামের তোজাম্মেল হকের পুত্র স্কুল শিক্ষক ছামিউল হক ও তার ভাই ছালাউদ্দিন, ছানোয়ার হোসেন ও মো. শাহীন এবং একই গ্রামের মৃত খলিলের পুত্র ময়নাল ও ময়নালের পুত্র আরিফ গংরা এলাকার চিহ্নিত ভুমিদস্যুচক্র হিসাবে পরিচিত। তারা একত্রে যোগাসাজশে ভুমি ব্যবসার নামে দীর্ঘদিন যাবত এলাকার নিরীহ মানুষের সাথে প্রতারনার আশ্রয়ে ভুমি জবরদখল প্রক্রিয়ায় লিপ্ত রয়েছেন।

অভিযোগে আরো জানা গেছে, মেলান্দহের চরপলিশা গ্রামের ছামিউল হক গংরা দীর্ঘদিন যাবত একই গ্রামের সুরুজ মন্ডলের পৈর্তৃক জমিটি নানা প্রলোভনে জবর দখলের পায়তারা করছিল। এরই জেরধরে ছামিউল হক গংরা আজ থেকে আনুুমানিক ১০/১২ বছর আগে সুরুজ মন্ডলের জমিটি উচ্চ মুল্যে ক্রয়ের প্রস্তাব দেয়। সুরুজ মন্ডল জমিটি বিক্রয়ের জন্য রাজি হলে ছামিউল হক গংরা জমিটির কাগজপত্র ঠিকটাক করার প্রয়োজন জানিয়ে সহজ সরল সুরুজ মন্ডলকে নিয়ে মেলান্দহ সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে যায়। সেখানে তারা একটি সাব কবলা দলিলে টিপসহি গ্রহণ করলে সহজ সরল সুরুজ মন্ডল জমিটির মুল্য দাবী করেন। ওই সময় ছামিউল হক ও ছালাউদ্দিন গংরা দলিল সম্পদনের পর টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেয়। এতে সুরুজ মন্ডল ক্ষিপ্ত হয়ে সাব- রেজিষ্ট্রারের সামনে উপস্থিত না হয়েই সেখান থেকে নিজ বাড়িতে চলে আসেন। এ ঘটনার ১০/১২ বছর পর সম্প্রতি ছামিউল হক গংরা জমিটি বিক্রয় পূর্বক হস্তান্তরের জন্য একটি দলিল সম্পাদন হয়েছে বলে স্থানীয়দের জানান। ওই সময় সহজ সরল সুরুজ মন্ডল দলিল সস্পাদনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তখন ছামিউল হক গংরা জমিটি থেকে সুরুজ মন্ডলকে উচ্ছেদের হুমকি প্রদান করেছে। এছাড়াও ছামিউল হক গংদের বিরুদ্ধে একই এলাকার নূর মোহাাম্মদ, রাশেদা বেগম, খন্দকার আকলিমা আক্তার,নাজমুল হক ও মোহাম্মদ আলীসহ অনেকেরই জমি প্রতারনা মুলকভাবে জবর দখলের অভিযোগ রয়েছে।

এনিয়ে নিরীহ কৃষক সুরুজ মন্ডলসহ স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। এব্যাপারে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় ভুমিদস্যু ছামিউল হক গংদের বিরুদ্ধে জামালপুরের জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার ও মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্র্মকর্তা ও মেলান্দহের ওসির নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগকারী ভুক্তভোগীদের মধ্যে  উল্লেখযোগ্য  ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন, চরপলিশা গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক সুরুজ মন্ডল, নূর মোহাাম্মদ, রাশেদা বেগম, খন্দকার আকলিমা আক্তার,নাজমুল হক ও মোহাম্মদ আলী। এব্যাপারে স্থানীয়দের দাবী, এলাকায় সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তাসহ নিরীহ মানুষের ভুমি রক্ষার জন্য দস্যুদের বিরুদ্ধে শিঘ্রই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হউক।
মেলান্দহের চরপলিশা গ্রামের বাসিন্দা চরপলিশা নয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অভিযুক্ত ছামিউল হক বলেন, “আমি এলাকার একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করি। স্থানীয় অবুঝ শিশুদের অক্ষর জ্ঞান দেওয়াসহ এলাকার প্রতিটি শিশুুকে প্রকৃত মানুষ হিসাবে গড়ে তুলাই আমার কাজ। আমি কখনো কারো সাথে কোন প্রকার প্রতারণা করি নাই।

 

About gssnews2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*