Home / চলতি খবর / কুলাউড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

কুলাউড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

চিনু রঞ্জন তালুকদার, মৌলভীবাজার : কুলাউড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার এর বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে এক ভুক্তভোগী পরিবার রবিবার (৬ অক্টোবর)।

ভুক্তভোগী লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন- কুলাউড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনোয়ার দীর্ঘ দিন যাবৎ অর্থাৎ ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে এক টানা ৮ বছর ধরে একই জায়গায় চাকুরী করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে একই জায়গায় কর্মরত থাকায় সরকারি দায়িত্ব পালনে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বিজ্ঞানের সরজ্ঞামাদি পৌঁছে দেয়ার নির্দেশনা থাকলেও সে তা না করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর এই খরচের দায়িত্ব দিয়ে খরচের বরাদ্ধকৃত সরকারি টাকা আত্মসাৎ করছেন। অফিসেও নিয়মিত উপস্থিত থাকেননা।

তিনি আরো বলেন- আমার সন্তানরা প্রবাসে থাকিয়া হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে দেশে টাকা পাঠায়। এ টাকা দিয়ে আমাদের সাংসারিক খরচ ও আনুসঙ্গিক আয়দায় আমরা করে থাকি। বাড়িতে আমি ও আমার স্বামী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক একা থাকি। আমার পিতা: মো: হুছন উল্লা জীবিত থাকা অবস্থায় রাজনগর উপজেলার ৬নং টেংরা ইউনিয়নের আদিনাবাদ গ্রামের আব্দুল খালিকের সঙ্গে আমাকে বিয়ে দেন। বিয়ের কয়েক বছর পর আমার পিতার পরামর্শে চাটুরা গ্রামে আমার পিতার বাড়ির অনতি দুরের জমি খরিদ করিয়া সেখানে আমি বসবাস করে আসিতেছি। এমতাবস্থায় আমার ছোট ভাই মো: আনোয়ার আমার স্বামীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমরা তার দাবীকৃত ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে অক্ষমতার কথা জানালে সে আমাদের বাড়ির পাশে থাকা জমি আমাদের কাছে বিক্রয় করতে ইচ্ছা প্রকাশ করে এবং এই জমির মূল্য বাবদ তাকে ২০ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য বলে। কিন্তু আমি ও আমার স্বামী তাকে এত টাকা দিতে পারবো না এবং জমি কিনতে অপরাগতা প্রকাশ করি। এতে সে আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে নানা ভাবে হুমকি ও হয়রানি করার ফন্দি আটে।

এক পর্যায়ে আমাদের কেনা জায়গা জমি তার নিজের কব্জায় নেওয়ার জন্য আত্মসাৎ করাতে মৌলভীবাজারের ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে স্বত্ব মোকদ্দমা নং ৩৯/২০১৩ইং দায়ের করে। এ ছাড়াও এ্কই বছর একই আদালতে আরো ২টি মামলা দায়ের করে। একাধিক মামলায় জড়িয়ে নানা ভাবে আমাদেরকে হয়রানি করছে। আনোয়ার বিগত বিএনপি সরকারের আমলে প্রথম থানা প্রজেক্ট কর্মকর্তা (টিপিও) হিসেবে চাকুরী নেওয়ার পর তার কিছুই ছিল না। কিন্তু ঘুষ দুর্নীতি আশ্রয় নিয়ে চাঁদাবাজি, সুদ ও নিয়োগ বাণিজ্য করে গত কয়েক বছরে অঢেল টাকার মালিক হয়েছে। দীর্ঘ দিন বাড়ির পাশে চাকুরী করার কারণে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগসহ নানা প্রকার অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারী প্রার্থীদের চাকুরী পাইয়ে দেওয়ার নামে অলিখিত চুক্তি মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা অবৈধ পথে কামাই করছে। এই অবৈধ পথে আয়ের টাকা দিয়ে সে ইতোমধ্যে তার নিজের নামে ও স্ত্রী সন্তানের নামে মৌলভীবাজার শহরের গির্জাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক কোটি টাকার জমি গোপনে ক্রয় করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।তাছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে নামে বেনামে একাউন্টে এবং এফ ডি আর করে কয়েক কোটি টাকা জমা আছে। এসব অনুসন্ধান করলেই তার আয় বহিভূত নগদ টাকা ও অঢেল সম্পদের পাহাড়ের সত্যতা পাওয়া যাবে।

উপস্থিত সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন- বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনর ঘোষিত দেশে চলমান ঘুষ-দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে দেশের স্বার্থে তার দুর্নীতির বিষয়টি নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে দুর্নীতি দমন বিভাগ ও সরকারের কাছে দাবি জানাই। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- আনোয়ারের বোনের জামাই মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক তার বড় বোন আলেয়া বেগম, রোকেয়া বেগম, ভাংগনা শফিক মিয়া, প্রতিবেশী মাম্মদ মিয়া, ইলিয়াছ আলী, আব্দুল খালিক (২), মোঃ জিলু মিয়া, শাহাব উদ্দিন প্রমুখ।

 

About gssnews2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*