Home / চলতি খবর / ক্যাসিনো গডফাদার ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের গডফাদার কে ?

ক্যাসিনো গডফাদার ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের গডফাদার কে ?

আসাদুজ্জামান বাবুল : ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে ক্যাসিনো কারবারের গডফাদার দাবি করেছেন রিমান্ডে থাকা যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ। এর বাইরে যুবলীগের শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতাসহ ঢাকা সিটি করপোরেশনের অনেকের নাম বলেছেন তিনি। নব্বইদশকের শুরুতে সাদা সিদে সহজ সরল একজন যুবক এত বেপরোয়া হয়ে উঠলো কিভাবে, কোন নেতার হাত ধরে এর খোজ নিতে গিয়ে জানা গেল অনেক অজানা কাহিনী। গুলিস্তানের ফুটপাতে ঝুরিতে জুতা বিক্রেতা শত কোটি টাকার মালিক।
কিশোরগঞ্জে-৫ আসন নিকলী-বাজিতপুর থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন এর পতোক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগীতায় আজকের ইসমাইল চৌধুরী সমাট তৈরি হয়েছে। আমাদের অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, এই সংসদ সদস্যর হাত ধরেই তিনি শিখেছে কিভাবে টাকা ইনকাম করতে হয় এবং তা খরচ করতে হয়।আরো জানা যায় সিঙ্গাপুরের বে-মেরিনা হোটেলে ক্যাসিনো খেলার হাতেখরিও ঐ সংসদ সদস্যের মাধ্যমে। নব্বইদশকের শুরু থেকেই রাজধানীর কাকরাইলে নিয়মিত অনুসারী সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে আড্ডা দেওয়া জুয়া খেলাই ছিলো তার কাজ। কারন বঙ্গবাজার গুলিস্থান এলাকাই সিটি করপোরেশন মার্কেটের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল ঐ সংসদ সদস্যের। ২০০৮ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। গুলিস্থান এলাকায় গড়ে ওঠা প্রত্যেকটি মার্কেট তার নিয়ন্ত্রনে চলে আসে।
২০১৪ সালে বঙ্গবাজার মার্কেটে এই সংসদ সদস্য এমপি শাওন ও ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে সাথে নিয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদারের সহযোগীতায় ৬০০ (ছয়শত) দোকানের কাগজ তৈরি করে প্রত্যেকটি দোকান ১৫ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা দরে বিক্রয় করে আফজাল হোনেন এমপি, যুবলীগ গুলিস্থান ইউনিটের সভাপতি, ঢাকা ট্রেড সেন্টার, ও বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সে এর
সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা, মহানগর আওয়মীগ সদস্য জহিরুল ইসলাম, ২০ নং ওর্য়াড যুবলীগের সভাপতি শাহবুদ্দিন, মোজাম্মেল মধু চেয়ারম্যান, বিএনপি নেতা শাহ আলম চৌধুরী, জাফর আহম্মেদ তালুকদার বেলায়েত ও ইউসুফসহ ৮/১০ জনের মধ্যে শত কোটি টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেওয়ার গুরুতোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য যে, আফজাল হোসেন এমপি তিন মাসে আগে কয়েকটি মার্টের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ পুরুত্বপূর্ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের কারণ অনসন্ধান করতে গিয়ে জানায়ায়। দুনীতিবাজ ও মাফিয়াচক্র বিরোধী অভিযানের আগাম আভাস পেয়েই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্টসুত্রে জানায়।
এই চক্র বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সে মার্কেটর উন্নয়নের নামে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ষড়যন্ত্রমুলক ভাবে মার্কেটটি ভেঙ্গে আবার কোটি কোটি লোপাট করার চক্রান্ত করে যা তিন হাজার দোকান মালিকদের আদালতের দারস্থ হয়ে নিষেধাজ্ঞা আনার কারণে আফজাল, নাজমুল হুদা, জহিরদের দিবা স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়।
মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পত্তি ‘গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের অনিয়ম ও দুনীর্তির মাধ্যমে শত কোটি টাকা লোপাটের ঘটনা তদন্তে গঠিত জাতীয় সংসদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কাজ করেছেন। এজন্য গঠন করা হয় একটি সাবকমিটি। লোপাটের বিষয়টির তদন্ত গুরুত্ব দিয়ে সংসদীয় কমিটির সভাপতি শাজাহান খান নিজেই এই সাব কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন।
অনুরুপভাবে, কল্যাণ ট্রাস্টের অপর একটি প্রকল্প চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের ৭১ নং প্লটের ওপর বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের অনিয়ম তদন্তে আরো একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এছাড়া টিকাটুলির রাজধানী সুপার মার্কেটের অনিয়মসহ ট্রাস্টের বিভিন্ন স্থাপনা ও সম্পদের অনিয়ম কমিটি পর্যায়ক্রমে তদন্ত করবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
সংসদীয় কমিটির আহবায়ক, ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভবনে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা লিজ নিয়ে সেখানে দোকান তৈরি করে মাসে ৩০ লাখ টাকা ভাড়া তোলা হচ্ছে। অথচ পার্কিংয়ের জায়গায় কোনও স্থাপনা করা রাজউকের আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ।
প্রসঙ্গত, গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ২০০১ সালে যে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়। শুরুতেইে ঐ চুক্তিটি অসম ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। চুক্তি অনুযায়ী, এখানে বিশ তলা ভবন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১০ তলা নির্মাণের পর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি পালিয়ে যায়। এর আগেই নির্মিত ৮৮৩টি দোকানের মধ্যে ৫৪০টির পজেশন বিক্রি করে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় ঐ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। গত এক দশকে বিক্রির বাইরে থাকা কমপ্লেক্সের আট তলা পর্যন্ত ৩৪৩টি দোকানও জবরদখল হয়ে গেছে। কেউ কেউ বিভিন্ন উপায়ে ট্রাস্টের কাছ থেকে এগুলোর বৈধতাও নিয়েছে। আবার কেউ কেউ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের থেকে ভুয়া বরাদ্দপত্র দেখিয়ে দখল করে আছে। নবম ও দশম তলার বরাদ্দ না থাকলেও প্রভাবশালী চক্র পজেশন দখল করে নিজেদের কাজে ব্যবহার করছেন।
সিটি করপোরেশনের এসব মার্কেটের নেতৃত্বকে পুজি করে নেতারা কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদারের সহযোগীতায় যা দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক নিরোপেক্ষ তদন্ত অভিযান পরিচালনা করলেই কেঁচো খুরতে সাপ বেড়িয়ে আসবে বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছেন। গুলিস্থান শপিংকমপ্লেক্সে বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সে ফুলবাড়ীয়া সুপার মার্কেট, ঢাকা ট্রেড সেন্টারসহ সকল মার্কেটের এসব দুর্নীতি অবিলম্বে দুদক কর্তৃক তদন্তপূবক ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবীতে পরিনত হয়েছে।

About gssnews2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*