Home / চলতি খবর / কাঠগড়ায় ৫ মিনিট দাড়িয়ে জামিন পেলেন ড. ইউনূস

কাঠগড়ায় ৫ মিনিট দাড়িয়ে জামিন পেলেন ড. ইউনূস

শরীফুল হক, নিউজ ডেস্ক : ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী। ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করায় চাকরিচ্যুতের অভিযোগে নিজ প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের কর্মীদের দায়ের করা পাঁচ মামলায় আত্মসমর্পণ করে ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় স্থায়ী জামিন পেয়েছেন। এই পাঁচ মামলায় জামিন নিতে শ্রম আদালতের কাঠগড়ায় তাকে পাঁচ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। জামিন পাওয়ার পর মুচকি হেসে এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন তিনি। এসময় তার সাথে ছিলেন গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের কর্মকর্তারা।

আজ (রোববার) সকাল ১০টায় পাঁচ মামলায় জামিন নিতে শ্রম আদালতে উপস্থিত হন তিনি। এসময় প্রথম শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান শাহজাহানের খাস কামরায় প্রবেশ করেন। খাস কামরায় ড. ইউনূসের সঙ্গে কর্মকর্তারা প্রবেশ করে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন। বেলা সাড়ে ১১টার কিছুক্ষণ পর প্রথম শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান তার খাস কামরা থেকে এজলাসে ওঠেন। ওই সময় ড. ইউনূস বিচারকের খাস কামরায় বসেছিলেন।

দুপুর ১২টার দিকে ড. ইউনূস দ্বিতীয় শ্রম আদালতে আত্মসমর্পণ করতে যান। আদালতে গিয়ে তিনি পেছনের টেবিলে বসেন। হাস্যোজ্জ্বল মুখে সবার সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। এসময় দ্বিতীয় শ্রম আদালতের বিচারক জাকিয়া পারভীন এজলাসে উঠেন (তৃতীয় শ্রম আদালতের বিচারক ছুটিতে থাকায় দ্বিতীয় আদালতে শুনানি হয়)।

পেশকার ড. ইউনূসের পাঁচ মামলা শুনানির জন্য ডাকেন। এসময় ড. ইউনূসকে কাঠগড়ায় যেতে বলা হয়। তার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বসার জায়গায় দাঁড়াতে বললেও এজলাস থেকে আবারও বলা হয় কাঠগড়ায় দাঁড়াতে। ১২টা ৫ মিনিটে তিনি মলিন মুখে কাঠগড়ায় ওঠেন। তখন তার আইনজীবীরা বলেন, ড. ইউনূস সম্মানিত ব্যক্তি। বয়সেও প্রবীণ। এসব বিবেচনায় তার জামিন মঞ্জুর করা হোক। আদালত তখন পাঁচ মামলায় ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর তার আইনজীবী ২০৫ ধারায় আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরার একটি আবেদন করেন। আদালত তা মঞ্জুর করেন এবং তাকে অভিযোগ গঠন শুনানির দিন উপস্থিত হতে বলেন।

দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তিনি কাঠগড়া থেকে আবারও প্রথম শ্রম আদালতের খাস কামরায় চলে যান। সেখানে তিনি তার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করেন। ১২টা ৪০ মিনিটে খাস কামরা থেকে বের হন। পাঁচ মিনিট পর আদালত চত্বর ত্যাগ করেন।

গত ৯ অক্টোবর ট্রেড ইউনিয়নের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগের মামলায় শান্তিতে  নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের বিচারক রহিবুল ইসলাম। আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টে সময় চেয়ে ড. ইউনূসের পক্ষে আবেদন করা হয়।

গত ৩ জুলাই ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের সদ্য চাকরিচ্যুত সাবেক তিন কর্মচারী। আদালত ৮ অক্টোবর তাদের হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। অপর দুজন হলেন একই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজনীন সুলতানা ও উপ-মহাব্যবস্থাপক খন্দকার আবু আবেদীন।

৮ অক্টোবর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হতে বলা হয়। কিন্তু ওইদিন পূজার বন্ধ থাকায় পরদিন (৯ অক্টোবর) মামলাটির শুনানি হয়। ওইদিন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজনীন সুলতানা ও উপ-মহাব্যবস্থাপক খন্দকার আবু আবেদীন আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। অপরদিকে ড. ইউনূস আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

অপরদিকে একই অভিযোগে হোসাইন আহমেদ ও আব্দুর গফুর নামে গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের দুই কর্মী ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও দুই মামলা করেন। মামলা দুটির জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য ছিল।

 

 

About gssnews2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*