Home / চলতি খবর / রূপপুর দুর্নীতিতে গণপূর্তের ৭ প্রকৌশলীকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

রূপপুর দুর্নীতিতে গণপূর্তের ৭ প্রকৌশলীকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

আসাদুজ্জামান বাবুল : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গণপূর্ত বিভাগের সাত প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তদন্তে ৬২ কোটি ২০ লাখ ৮৯ হাজার টাকার অনিয়মের কথা অভিযোগ উঠে আসে। হাই কোর্টের নির্দেশে গত জুলাই মাসে আদালতে জমা দেওয়া ঐ তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্নীতির জন্য ৩৪ জন প্রকৌশলীকে দায়ী করা হয়। বালিশকাণ্ডে ৩৩ প্রকৌশলীকে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকে তলব করেন।
দুদকের তলবে সাড়া দিয়ে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী বুধবার (৬ নভেম্বর) সকালে সেগুন বাগিচায় কমিশন কার্যালয়ে হাজির হন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলম, পাবনা গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: তারেক ও তাহাজ্জুদ হোসেনকে দুদক উপ-পরিচালক মো: নাসির উদ্দিনসহ দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তারা সকাল ১০টা থেকে দুপুর সোয়া ৩টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
দ্বিতীয় পর্বে বিকালে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: মোস্তফা কামাল, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: কামারুজ্জামান, মো: আবু সাঈদ ও মো: ফজলে হককে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের চোখ এড়াতে মুখ ঢেকে বের হন নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলম। প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কী লাভ এসব করে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বালিশকাণ্ডসহ দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগের বিষয় গত ১৭ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক নাসির উদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করেন।
ঐ অনুসন্ধানী টিমের অপর দুই সদস্য হলেন, দুদকের সহকারী পরিচালক মো: আতিকুর রহমান ও উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ।
রূপপুর প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মাণাধীন গ্রিনসিটি আবাসন প্রকল্পের ২০ ও ১৬ তলা ভবনের আসবাব ও প্রয়োজনীয় মালামাল কেনা ও ভবনে উত্তোলন কাজে অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে গত ১৯ মে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর মন্ত্রণালয়ের বড় কর্তাদের হুশ হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি বালিশের পেছনে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৭১৭ টাকা। এর মধ্যে বালিশের দাম ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা, আর আর সেই বালিশ ফ্ল্যাটে ওঠানোর খরচ ৭৬০ টাকা দেখানো হয়েছে।
গ্রিন সিটি আবাসন পল্লীর নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা ও তা ভবনে তোলায় অনিয়ম নিয়ে গত ১৬ মে একটি দৈনিক ‘কেনা-তোলায় এত ঝাঁজ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্পের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের থাকার জন্য গ্রিন সিটি আবাসন পল্লীতে ২০ তলা ১১টি ও ১৬ তলা আটটি ভবন হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০ তলা আটটি ও ১৬ তলা একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ২০ তলা ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি বালিশ কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর ভবনে বালিশ ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা।
প্রতিটি টেলিভিশন কেনায় খরচ দেখানো হয়েছে ৮৬ হাজার ৯৭০ টাকা। আর টেলিভিশন ওপরে ওঠাতে দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ৬৩৮ টাকার খরচ। বিছানার খরচ ৫ হাজার ৯৮৬ টাকা দেখানো হয়েছে; তা ভবনে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৯৩১ টাকা। প্রতিটি ওয়ারড্রোব কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫৯ হাজার ৮৫৮ টাকা। আর তা ওঠাতে দেখানো হয়েছে ১৭ হাজার ৪৯৯ টাকার খরচ। এরকম বৈদ্যুতিক চুলা, বৈদ্যুতিক কেটলি, রুম পরিষ্কারের মেশিন, ইলেকট্রিক আয়রন, মাইক্রোওয়েভ ইত্যাদি কেনাকাটা ও ভবনে তুলতে অস্বাভাবিক খরচ দেখানো হয়েছে।
প্রতিটি রেফ্রিজারেটর কেনার খরচ দেখানো হয়েছে ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা। রেফ্রিজারেটর ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা। একেকটি খাট কেনা দেখানো হয়েছে ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকা। আর খাট ওপরে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা।

About gssnews2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*