Home / চট্টগ্রামের খবর / আনোয়ারায় মদ চালানের গুঞ্জণ প্রশাসনের নজরদারী প্রয়োজন

আনোয়ারায় মদ চালানের গুঞ্জণ প্রশাসনের নজরদারী প্রয়োজন

বদরুল হক,আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) :মাদক ও ইয়াবার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স ঘোষনার পর প্রসাশনের সাঁড়াষী অভিযানে আনোয়ারার ইয়াবা কারবারীদের মধ্যে কিছু চুনোপুটি ধরা পড়লেও অধরা রয়েগেছে রাঘব-বোয়ালরা। অভিযানের ফলে কিছুদিন তারা আত্মগোপনে চলে গেলেও আবারো তৎপর হয়ে উঠেছে আনোয়ারার ইয়াবা গডফাদাররা। গত ৩ বছরে আনোয়াারা থানা পুলিশ প্রায় ২২ কোটি টাকার মাদক জব্দ করে ৪৪৬ জনকে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে ৩৪১টি মামলা দেওয়ার পরে ও ইয়াবা চক্রের শক্ত নেটওর্য়াক ভাঙ্গা সম্ভব হয়নি। রাঘব-বোয়ালরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছেন অনেকে। আবার অনেকে জামিনে বের হয়ে জড়িয়ে পড়ছে একই ব্যবসায় ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কৌশল বদল করে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। তবে অভিযানের কারণে ইয়াবার দাম আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। সারাদেশে বিভিন্ন বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে ১৫৩জন নিহত হলেও আনোয়ারায় প্রসাশনের শীর্ষ তালিকাভুক্ত ইয়াবার গডফাদাররা রয়ে গেছে অক্ষত। যার কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা আগের মতোই বেপরোয়া রয়ে গেছে । বর্তমানে অনেকে জামিনে এসে অনেকটা প্রকাশ্যেই তাদের কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। আনোয়ারা গহিরা ও জুঁইদন্ডী এলাকার সাগর পাড়ের লোকজন মনে করছেন সাগরে চলাচলরত ট্রলার যে গুলো গহিরা ও জুঁইদন্ডী উপকুলীয় সাগর পাড়ে আসে সেগুলোকে প্রশাসনের তল্লাশির আওতায় আনতে না পারলে মাদক রোধ করা সম্ভব নয়।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন,মাদক কারবারীদের সাথে জড়িত যারা গ্রেফতার হয়েছিল তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় তাদের এমন তৎপরতা আবারো দেখতে হচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা কঠোর না হলে মাদক প্রবেশ কিংবা ব্যবসা ঠেকানো সম্ভব নয়। এ অবস্থায় অভিযান ও হবে ‘চোর পুলিশথ খেলার মতো। গত কয়েকদিন যাবত আনোয়ারা পারকী সমূদ্র সৈকত এলাকায় মদের বড় চালান খালাসের খবরে পুরো আনোয়ারায় চাঞ্চল্যেকর সৃষ্ঠি হয়েছে । কিন্তুু এখনো পর্যন্ত চালান উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ২০১৮ সালে সংশোধন করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী কারও কাছে ২০০গ্রাম ইয়াবা পাওয়া গেলেই তার মৃত্যুদন্ডের বিধাণ করা হয়েছে।

এব্যাপারে আনোয়ারা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান সভাপতি আব্দুরনূর চৌধূরী বলেন, শর্ষের ভিতরে যদি ভূত থাকে তাহলে কোনো মহৎ উদ্দেশ্যই সফল হবে না। একটি জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য মাদকই যথেষ্ঠ। ইয়াবার মতে ভয়ঙ্কর মাদক কোথা থেকে আসছে,কোন পয়েন্ট দিয়ে আসছে তা তো আনোয়ারার প্রশাসন ও সরকারের সর্বোচ্চ মহল পর্যন্ত অবগত। তাই আমার পরার্মশ আনোয়ারার সংসদ সদস্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধূরী জাবেদের পরার্মশক্রমে, আনোয়ারা উপকূলীয় এলাকায় একটি যৌথবাহিনী গঠণ করা উচিত। তা না হলে আনোয়ারাকে পুরোপুরি মাদক মুক্ত করা সম্ভব হবে না।

এ ব্যাপারে আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধরী জানান, আনোয়ারা উপজেলাকে মাদক মুক্ত করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাচ্ছি। ভূমিমন্ত্রীর পরিষ্কার নির্দেশ আছে মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে কঠিন শাস্তি দেওয়া হোক। তিনি আরোও বলেন, আনোয়ারায় এতো উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তুু একমাত্র মাদক ও ইয়াবার কারণে আমাদেরকে লজ্জিত হতে হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীকে জারজ সন্তান উল্লেখ্য করে বলেন, একজন উপজেলা জনপ্রতিনিধি হিসেবে যতটুকু ভূমিকা রাখার দরকার তাহা পালন করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান। এব্যাপারে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) দুলাল মাহমুদ মোবাইল ফোন আলাপে জানান, মাদক ব্যবসায়ী সে যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার আপ্রাণ চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে আনোয়ারা থানা পুলিশ। এখানে কে ছোট, কে মাঝারি আর কে গডফাদার তাদের কেউই আইনের উর্ধে নন। আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েকদিন যাবত মদের বড় চালান খালাসের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,ঐ এরিয়াটা কর্নফুলী থানার। আমারা শুনেছি মদের একটি বড় চালান খালাস হয়েছে। তথ্য পাওয়ার পর পর সব জায়গায় পুলিশের সোর্স, গোয়েন্ধা ও প্রশাসনের লোকেরা তৎপর রয়েছে। চালানটি উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছি।যদি আনোয়ারা থানার এরিয়ার ভিতরে পাওয়া যায় তাহলে এতটুকু নিশ্চিন্তে বলা যায় যে, সে যতবড় শক্তিধর হোক তাদের মূল শিকড় বের করা হবে।কোনো ধরণের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানান।

এ ব্যাপরে কর্ণফুলীর বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) শাহ আলম সুমন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছি। স্থানীয় জন প্রতিনিধিসহ সকলের সাথে যোগাযোগ করে সঠিক তথ্য নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি । ঘটনা হলো ঐ এরিয়াটা সীমান্তবর্তী হওয়ায় সঠিক সময়ে তথ্য পেতে দেরী হয়েছে। যদি সত্যিই মদের চালান খালাস হয়ে থাকে তাহলে আশাকরি প্রশাসনের জালে আটকে পড়বে ।

About gssnews2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*