Home / চলতি খবর / মুসলীম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশ্ব ইজতেমার সমাপ্তি
????????????????????????????????????

মুসলীম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশ্ব ইজতেমার সমাপ্তি

আব্দুস সবুর খান, টঙ্গী : বিশ্ব মুসলীম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনায়, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় তুরাগ নদীর তীরে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমানের অংশগ্রহণের মাধ্যমে মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের আশায় আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। গতকাল রোববার সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমার আখেরি মোনাজাত শুরু হয়ে শেষ হয় ১২টা ৭ মিনিটে। লাখো মুসল¬ীর আখেরী মোনাজাতে ১৭মিনিটে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় টঙ্গীর তুরাগ তীরে তাবলীগ জামাত আয়োজিত ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার সমাপ্তি হয়েছে। বিশ^ মুসলীম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম সমাবেশে ভারতের দিল্লির নিজামউদ্দিন মারকাজের শূরা সদস্য মাওলানা জামশেদ।
মোনাজাতে জীবনের সকল গুণা মাফ, কবরের আযাব, জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্তি এবং জান্নাত নসিবের জন্য আল্লাহর নিকট আবেদন জানানো হয়। ইজতেমা ময়দান ও আশেপাশে খোলা জায়গায় সমবেত মুসল্লিরা ‘আমিন আমিন, ‘ইয়া আল্লাহু’ ‘ইয়া আল্লাহু’ ধ্বনিতে চোখের পানিতে ভাসেন। আল্লাহর দরবারে অনুনয়-বিনয় করে দুনিয়ার কৃতকর্মের কথা স্মরণ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ইজতেমাস্থলে তাবলীগ জামাতের সমবেত দেশী-বিদেশী মুসল্লীদের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর ও আশপাশের জেলার কয়েক লাখ মুসল্লী বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে এ আখেরি মোনাজাতে শরিক হন। গত ১০ জানুয়ারি শুরু হয়েছিল বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। প্রথম পর্বে ৬৪টি জেলার মসুল্লিরা অংশ নেন। ১২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছিল প্রথম পর্ব।
এদিকে আখেরী মোনাজাতে যোগদিতে রোববার ভোর থেকে মানুষ ছুটতে থাকে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের দিকে। ইজতেমা প্যান্ডেলসহ আশপাশের এলাকা মানুষে মানুষে পরিপূর্ণ হয়ে যায় মোনাজাত শুরুর আগেই। ছুটে আসা মুসল্লীরা আল্ল¬াহর দরবারে গুণাহ মাফের জন্য কান্নাকাটি করেছেন অজরধারায়। মোনাজাতে মানুষের আল্লাহর দরবারে আহাজারিতে টঙ্গীর পুরো এলাকা রূপ নেয় ধর্মীয় নগরীতে। নিজের গুণা মাফের জন্য দু’হাত তুলে আল্ল¬াহর দরবারে কান্নাকাটি করে। মোনাজাত শুরুর পূর্বে লাখ লাখ মানুষ রাস্তার উপর, বাড়ির ছাঁদে, বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে বসে মোনাজাতে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। দোয়ায় নবী করিম (সা:) এর তরীকা মনের মধ্যে পয়দা করার তৌফিক দান, গুণাগার বান্দাদের দোয়া কবুল, গুণা মাফ করে জানমাল কোরবানী দেওয়ার তৌফিক দান, মুসলমানদের জানমাল হেফাজত, মুসমানদের দেশকে হেফাজত, ইমানী জিন্দেগী, ইমান আখলাককে কবুল, ঈমানের দ্বীনের কাজকে মজবুত করে দেয়া, আল্ল¬াহ হাবিবের সুন্নতের পথে চলার তৌফিক দান, নবীর সুন্নতকে নসিব করার, নবীর হাওজে কাউসারের পবিত্র পানি পান করার নসিব এবং আমলনামা ডান হাতে দেওয়ার ও দ্বীনের পথে এবং আখিরাতকে কবুল নসিব করার এবং দুনিয়াধারী না হয়ে আখিরাতী বানানোর জন্য লাখো মুসল¬ী দু’হাত তুলে দোয়ায় অংশ নেন।
সাদ অনুসারীদের দুই পর্বের ইজতেমার তারিখ ঘোষণা
বিশ্ব ইজতেমার মাওলানা জুবায়ের অনুসারীদের দুই পর্বের ইজতেমার তারিখ ঘোষণার পর মাওলানা সাদ অনুসারীরা আগামী ৫৬তম বিশ্ব ইজতেমার পৃথক সময়ে দুই পর্বের তারিখ ঘোষণা করেছেন। গতকাল রোববার ১৯ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতের আগে ইজতেমার বয়ান মঞ্চ থেকে এ তারিখ ঘোষণা করা হয়। মাওলানা সাদ অনুসারীদের ইজতেমা আয়োজক কমিটির শুরার বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এ তারিখ ঘোষণা করা হয় বলে জানান ইজতেমার মিডিয়া সমন্বয়কারী মো. সায়েম। ঘোষাণা অনুযায়ী আগামী ২৫, ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর ২০২০ প্রথম পর্ব এবং ১, ২ ও ৩ জানুয়ারি ২০২১ দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৩ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ইজতেমা ময়দানে সা’দ অনসুসারীদের পাঁচ দিনের জোড় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।
গত ১২ জানুয়ারি ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত শেষে মাওলানা জুবায়ের অনুসারীদের ইজতেমার দুই দফার তারিখ ঘোষণা করা হয়। সেই ঘোষণা অনুসারে তাদের ইজতেমার প্রথম ধাপ হবে ৮, ৯ ও ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় ধাপ অনুষ্ঠিত হবে ১৫, ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি।
মহিলাদের অংশগ্রহণ : আখেরী মোনাজাতে অংশ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার মহিলা মুসল্ল¬¬ীও ইজতেমা ময়দানের আশেপাশে, বিভিন্ন মিলকারখানা, বাসা-বাড়িতে ও বিভিন্ন দালানের ছাঁদে বসে আখেরী মোনাজাতে অংশ নিতে দেখা যায়। ইজতেমায় মহিলাদের জন্য আলাদা কোন ব্যবস্থা না থাকায় যে যেখানে পেরেছেন সেখানে বসেই লাখো মুসল¬ীর সাথে মোনাজাতে অংশ নিতে নিয়েছেন। আখেরী মোনাজাতের সময় বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও মোবাইলের মাধ্যমে বাড়ি-ঘরে বসে লাখ লাখ নারী-পুরুষ ও শিশু আখেরী মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা : এবারের বিশ্ব ইজতেমায় নজীরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে। ৫স্তরর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সাড়ে ৮হাজারের অধিক পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি দায়িত্বরত ছিল সাদা পোষাকী গোয়েন্দা পুলিশ। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে আকাশে র‌্যাবের হেলিকপ্টার টহল, নৌ-পথে স্পীড বোটে সতর্ক টহল ও নজরদারী। আকাশ ও নৌ-পথের পাশাপাশি সড়ক পথগুলোতে খালি চোখ ছাড়াও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে বাইনোকুলার দিয়ে মুসল্ল¬ীসহ সকলের চলার পথ ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম অস্থায়ীভাবে স্থাপিত র‌্যাবের প্রধান নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে মনিটরিং করা হয়েছিল। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন।
ইজতেমা ঘিরে মৌসুমি ব্যবসা :
টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে বাহারি সব পণ্যের ব্যবসা খুলে বসেছিলেন স্থানীয় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি হকার ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ছিল জমজমাট ব্যবসা। টঙ্গীর তুরাগ পাড় ছাড়াও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা রাস্তার দুই পাশে তাদের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন। ইজতেমার আখেরি মোনাজাত শেষে মুসল্লী¬রা পায়ে হেঁটেই ফিরছেন অনেকেই। এসব মুসল্লী¬দের জন্য রাস্তার দু’পাশে বিভিন্ন পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। সেখানে বিক্রি হয় আতর, টুপি-জায়নামাজ, তসবিহ, চাদর, কম্বল ও জ্যাকেটসহ নিত্যপণ্যের সকল দ্রব্যসামগ্রী।
আরো ২ মুসল্লীর মৃত্যু:
বিশ্ব ইজতেমায় এসে শনিবার দিবাগত রাতে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এবারের দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় অংশ নিতে এসে ১০ জন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। টঙ্গী হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে, বার্ধক্যজনিত কারণে ও দুর্ঘটনায় তারা মারা যান। শনিবার দিবাগত রাতে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার চাঁদপাড়া দূর্গাদাহ গ্রামের মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে মো. শাহ আলম (৬৫) ও চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানার খাদিমপুর গ্রামের মৃত মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে ফজলুল হক (৬৮)। এই নিয়ে দুই পর্বের বিশ^ ইজতেমায় ২২ মুসল্লীর মৃত্যু হলো।

About gssnews2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*