Home / চলতি খবর / জুড়ীতে টিলা কাটার মহোৎসব

জুড়ীতে টিলা কাটার মহোৎসব

চিনু রঞ্জন তালুকদার, মৌলভীবাজার ঃ জুড়ীতে অবাধে চলছে টিলা কাটার মহোৎসব। অপরিকল্পিতভাবে টিলা কাটার ফলে ৪ ইউনিয়নের ১১ গ্রামে প্রায় ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ টিলার নিচে গড়ে ওঠা ২শতাধিক বাড়িঘর ভারী বর্ষণ কিংবা ভূকম্পনে টিলা ধসে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। জানা গেছে, উপজেলা সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের মোহাম্মদ নগর, মনতৈল, চম্পকলতা, কালীনগর গ্রামে খান বাহাদুর ওয়াক্ফ এস্টেট ও সরকারি খাস জমির অন্তর্ভুক্ত উঁচু টিলাগুলো, পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর, কৃষ্ণনগর, আমতৈল, গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের জামকান্দি, কচুরগুল, লাঠিটিলা, সাগরনাল ইউনিয়নের হাফিজি দক্ষিণ বড়ডহর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে একটি ভূমিখেকো চক্র অবাধে টিলা কেটে মাটি বিক্রি করছে। অভিযোগ উঠেছে, হাফিজি দক্ষিণ বড়ডহর গ্রামের মৃত বরপাইয়ার পুত্র আব্দুল মালিক ও মৃত আব্দুল খালিকের পুত্র আজিদ মিয়া, মৃত বটুল মিস্ত্রীর পুত্র আমির মিস্ত্রী এবং ওই গ্রামের আশপাশের এলাকার হারুনুর রশিদ, মোস্তফা হোসেন, সেলু মিয়াসহ আরো বেশ কয়েকজন মাটি ব্যাবসায়ি অবাধে টিলা কেটে মাটি বিক্রির সাথে জড়িত। প্রতিদিন এসব এলাকার বিভিন্ন টিলা থেকে প্রতি ট্রাক মাটি ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ওই চক্রের লোকজন দীর্ঘ এক যুগ ধরে কালী নগর, হাফিজি দক্ষিন বড়ডহর গ্রামের বিভিন্ন টিলা কেটে গভীর গর্ত করে চুনামাটি সংগ্রহ করে পলিথিনের বস্তায় ভরে সিরামিক সামগ্রী তৈরির জন্য রাজধানী শহর ঢাকায় পাচার করে আসছে। এসব বাড়ি ঘরে বসবাসকারী মনতৈল গ্রামের অহিদ মিয়া (৪৭), জায়েদ আলী (৫৪), চম্পকলতা গ্রামের আরমান আলী (৪৫), আব্দুল হাসিম (৪৮), মোহাম্মদ নগরের রফিক মিয়া (৫২), লোকমান আহমদ (৪৯) সহ আরো অনেকেই জানান-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা ভূমিহীন খাস জমি বন্দোবস্ত নিয়ে তাতে বসতবাড়ি তৈরি করেছেন। তারা আরো বলেন, সামনে আসছে বর্ষা মৌসুম। ওই সময় যে কোনো মুহুর্তে টিলা ধসে দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পাড়ে।

About gssnews2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*