Home / মুক্তমত / আমাদের তৈরী বর্তমান বাংলাদেশ

আমাদের তৈরী বর্তমান বাংলাদেশ

মোঃ জানে আলম: আমরা যতই, শাক দিয়ে- মাছ ডাকি না কেন, দেশের সবাই জানে যে- এই নির্বাচনটা আসলেই লোক দেখানো প্রহসন। যে অর্জন, আসলেই পরিকল্পিত এবং একপক্ষীয় গুরুত্বারোপ। যার মাঝে নেই কোন বৃন্দু পরিমাণ তৃপ্তি। বাংলার ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র এমনই তো ছিলো যে- বৈষম্যের বিরুদ্ধে সমাজের সাম্য, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও জনগণের মানবিক মর্যাদাবোধ সমুন্নত রাখা। এখন, মূলমন্ত্রকে বাদ দিয়ে- ভিন্ন পন্থায় বর্ষপূর্তি করা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে অবশ্যই বেমানান। মেনে নিলাম, অন্য প্রতিদন্ধীদের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্কের কারণে, এমন পন্থাগুলো পালন নিয়ে সন্দেহ পোষণের ন্যায্য কারণ আছে। কিন্তু, তাই বলে- জোর করে ক্ষমতায় থাকতে হবে, তা নিতান্তই অনাকাঙ্ক্ষিত। একজন মুক্ত বুদ্ধিসম্পন্ন বিশ্বিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ন্যায়পরায়ন বিচারকের যেমন সমাজে বড় সম্মান, তেমনি সম্মানের অধিকারী একজন জনপ্রতিনিধিরও। কারণ, একটি গণ-তান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের উপকারে- আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মতো বড় কাজ তিনিই করে থাকেন। কিন্তু, পুলিশ আর প্রশাসনের মাধ্যমে যারা নির্বাচিত হয়, তাদের সে সম্মান থাকে না। এখন থেকে, পুলিশও তাদেরকে সালাম দেবে না। উল্টো তাদের পুলিশকেই সালাম দিতে হবে।
বাংলাদেশে অতি-ধনী বৃদ্ধির হার সারা পৃথিবীকে ছাড়িয়ে গেছে, যা অতীতে কখনো হয়নি। ভয়াবহ উন্নয়নের কারণেই তা সম্ভব। বাংলাদেশের উন্নয়ন মহাবিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে- মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে যেমন ফেরৎ না দিলেও চলে, এভাবেই ব্যাংকগুলোকে ব্যবহার করা হয়েছে। এ নির্বাচনের সবচেয়ে বড় কুফল হচ্ছে- অনির্বাচিত কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতিকে চূড়ান্তভাবে ন্যায্যতা দেয়া হয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকার বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন যে- বাংলাদেশে কেয়ারটেকার ব্যবস্থা ছাড়া কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব? আমার মনে হয় না, বলতে পারবেন তারা। হয়তো জোর করে পারবেন, তাও ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ পর্যন্ত অন্য রাজনৈতিক দলগুলো রাজনৈতিক শক্তিতে বলিয়ান হয়ে না ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ফরেন পলিসি জার্নাল’ প্রণীত বিশ্বের শীর্ষ ১০০ চিন্তাবিদের মধ্যে স্থান পেয়েছেন, ভালো কথা। কিন্তু- অন্য আরেকটি সংগঠনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথিবীর সবচেয়ে পাওয়ারফুল মানুষের মধ্যেও একজন। শুনতে খুবই সুন্দর…! কিন্তু, এ বিষয়টি একটি জাতির জন্য অবশ্যই দুঃসংবাদ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রধান যদি খুব বেশি শক্তিমান হয়ে ওঠেন, তাহলে তাঁর জবাবদিহিতা থাকে না। বিশ্বের, শক্তিমান রাষ্ট্রের যত উদাহরণ সব এমনই। ইতিহাসের প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষপর্বের সবচেয়ে বড় নেতা ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু, তাঁর জন্মশতবার্ষিকী পালন করার জন্য তাঁর দলকেই এমন করে ক্ষমতায় থাকতে হবে, এটা- তাঁকেই অপমান করার শামিল। এটা রাজনৈতিক হিনমন্যতার পরিচয়।

 

About gssnews2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*