Home / আন্তর্জাতিক /  আখাউড়ায় ৫ বছর পর ফিরে এলো নিঁখোজ মা 

 আখাউড়ায় ৫ বছর পর ফিরে এলো নিঁখোজ মা 

ইসমাঈল হোসেন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : হারিয়ে যাওয়ার ৫বছর পর পরিবারে ফিরলেন মানসিক ভারসাম্যহীন ৫৫ বছর বয়সের আমেনা বেগম। বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ত্রিপুরাস্থ আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের সহযোগিতায় মেয়ে মোমেনার কাছে হস্তান্তর করে মাকে।ঢাকার তেজগাঁও এলাকা থেকে ২০১৫ সালের মার্চে হারিয়ে যান তিনি। মানবাধিকার কর্মীর খাইরুল কবীরের মাধ্যমে তার পরিবার খোঁজ পায় পাশের দেশ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মডার্ন সাইক্রেটিক হসপিটালে (মানসিক হাসপাতাল) চিকিৎসাধিন রয়েছেন তিনি।
এ নিয়ে দুই দেশের সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠি চালাচালির দীর্ঘ পাঁচ বছর পর সীমান্ত পেরিয়ে মেয়ে মোমেনার কাছে আপনালয়ে ফিরেছেন আমেনা।দীর্ঘ পাঁচ বছর পর মাকে কাছে পাওয়ার ব্যাকুলতা আর বাঁধভাঙ্গা খুশি যেন কোন বাঁধাই মানছিল না বড় মেয়ে মোমেনাকে। সকাল থেকেই ত্রিপুরা সীমান্তের এপারে আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টের নো-ম্যান্সল্যান্ডে অপেক্ষা করছিলেন। এই বুঝি মাকে নিয়ে ওরা আসছে। হ্যাঁ, অপেক্ষার প্রহর ভেঙ্গে দুপুর ঠিক পৌনে ১টার দিকে ভারতের ত্রিপুরাস্থ আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের ফাষ্ট সেক্রেটারী (প্রথম সচিব) মো. জাকির হোসেন ভূঁইয়া আমেনা বেগমকে আখাউড়া-আগহরতলা নো-ম্যান্সল্যান্ডে নিয়ে আসেন। নোম্যান্সল্যান্ডের (শূণ্যরেখা) সাদা দাগের এপাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়ে মোমেনাকে দেখেই সীমান্ত রেখা পার হয়ে দৌঁড়ে এসে মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে মাথা রাখেন আমেনা।হাউ মাউ করে কাঁদতে থাকেন মা ও মেয়ে সঙ্গে মেয়ের জামাতা শেখ মো. আব্দুল হান্নান।
এসময় আমেনা তার মেয়ে মোমেনাকে জড়িয়ে ধরে গালে মুখে কপালে চুম্বন করেন। সুস্থ্য হয়ে আসা মা পরম আদরে বুকে টেনে নেন তার মেয়েকে। মা-মেয়ের কান্নায় ক্ষণিকের জন্য পরিবেশটা ভারী হয়ে ওঠে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ২০১৫ সালের মার্চ মাসে মানসিক ভারসাম্যহীন আমেনা বেগম ঢাকার তেজগাঁও থেকে নিখোঁজ হন। অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও মায়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তারপরও আমেনার আশা ছাড়েননি তার পরিবার। মাঝেমধ্যে নানা স্থানে খুঁজেছেন তাকে। অবশেষে ভারতের ত্রিপুরায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন ও রাজ্যের মডার্ন সাইক্রেটিক হসপিটাল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় মানবাধিকার কর্মী সৈয়দ খায়রুল আলমের মধ্যস্থতায় পরিবার ফিরে পেলেন মানসিক ভারসাম্যহীন আমেনা বেগমকে। ২০১৫ সালের আগষ্ট মাসে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিশালগড় থানা পুলিশ তার সন্ধান পায় এবং আদালতে হাজির করে। তবে মানসিকভাবে অসুস্থ্য হওয়ায় তিনি কীভাবে ত্রিপুরায় গেছেন সেই তথ্য কেউ জানাতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চিঠি চালাচালি হয়।
আমেনা মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় ওই বছরের ২০আগষ্টে আদালতের নির্দেশে তাকে আগরতলা নরসিংগড় মডার্নসাইক্রেটিক হসপিটালে (মানসিক হাসপাতাল) ভর্তি করানো হয়। সেখানেই তিনি এতোদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ্য হওয়ায় ত্রিপুরাস্থ বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের সহায়তায় বুধবার দুপুরে নিজ দেশে ফেরেন আমেনা বেগম।ত্রিপুরার বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি মো. জাকির হোসেন ভূঁইয়া ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
তিনি বলেন, একজন হারিয়ে যাওয়া মাকে ফিরে পেয়েছে তার পরিবার। এটা অনেক বড় আনন্দের।মেয়ে মোমেনা বেগম বলেন, মাকে কাছে পেয়ে আমরা আবেগাপ্লুত। তিনি বলেন, কত আনন্দ লাগছে তা ভাষায় বোঝাতে পারব না। আমার মাথার ওপর ছায়া ছিল না। অনেকদিন পর সেই ছায়া পেলাম। আর কোনো শূন্যতা আমাকে কষ্ট দেবে না। আজ যেন সব খুঁজে পেলাম। তিনি বাংলাদেশ-ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নো-ম্যান্সল্যান্ডে ত্রিপুরার বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের প্রথম সচিব জাকির হোসেন ভূইয়া ছাড়াও আগরতলা মডার্নসাইক্রেটিক হসপিটালে চিকিৎসক স্বপন চন্দ্র বর্মণ, হাইকমিশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমান,আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার রেইনা, আখাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মহিউদ্দিন মিশু, আখাউড়া টেলিভিশন জার্নালিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম প্রমূখ।

 

About gssnews2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*