Home / চট্টগ্রামের খবর / সাংবাদিক মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত শিউলি হাবিবদের মূল্যায়ন সময়ের দাবি

সাংবাদিক মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত শিউলি হাবিবদের মূল্যায়ন সময়ের দাবি

এম. সাদ্দাম হোসাইন সাজ্জাদঃ যেখানে বাজারে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে হু হু করে। এক শ্রেণীর পয়সাওয়ালারা খাদ্য মজুদ করতে ব্যস্ত। এই সুযোগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এই সুযোগসন্ধানী মোনাফেকগুলোর আসলে কোন জাত-ধর্ম নাই। এই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সেই ক্রেতারাও সমান অপরাধে অপরাধী। সারা পৃথিবীতে কোন ক্রাইসিস তৈরী হলে সব দেশের সমস্ত অরগ্যান এক হয়ে যায়, জিনিসপত্রের দামসহ সবকিছু মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা হয়।

জনগণ, সরকার, বিরোধীদল একযোগে দুর্যোগ থেকে মুক্তির জন্য কাজ করে, একমাত্র বাংলাদেশ ব্যতিক্রম। এই মজুতদার মুনাফালোভীদের কারণে ৭৪-এর মন্বন্তরে অসংখ্য মানুষ খাদ্যাভাবে মারা গিয়েছে। এদেরকে রুখতে উচ্চ ক্ষমতসম্পন্ন খাদ্য নিরাপত্তা সেল গঠন করে কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তির আওতায় আনার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে জেল জরিমানা সম্পদ বাজেয়াপ্ত কিংবা আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

দেশে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের সংখ্যা বেশী।পেটের দায়ের কাছে কোভিড-১৯ তাদের কাছে কিছুনা। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবী। বিভিন্ন সমিতি, এনজিও কিংবা ব্যাংক ঋণের কিস্তিগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হবে। নইলে প্রান্তিক জনগণের জীবনযাত্রায় হতাশা নেমে আত্মহননের মত ঘটনা ঘটতে পারে। টাকার অভাবে মরিয়া হয়ে চুরি ছিনতাই ডাকাতির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। মানুষের মধ্যে হতাশা যেন জেঁকে বসতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার এখনি সময়। যার পেটে ক্ষুধা লাগে প্রত্যেক বেলায়, সে কিভাবে নিজেকে ঘরবন্দী রেখে কোভিড মোকাবেলা করবে! তারমধ্যে আছে বাড়ী-অফিস-দোকান ভাড়ার খড়গ। আয়-রোজগার না থাকলে মানুষের জীবনযাত্রা চলবে কিভাবে?

এদিকে আশার কথা হলো ইতিমধ্যে কিছুক্ষণ আগের খবরে দেখলাম ঢাকার হাবিব শিউলি নামের এক বাড়ির মালিক তার সকল ভাড়াটিয়ার ভাড়া মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে সারাবিশ্ব। সম্প্রতি নাগরিকদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার সুবিধার্তে বাড়ির মালিকদের তিন মাসের ভাড়া না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উগন্ডার সরকার। বাংলাদেশে এমন কোনো ঘোষণা না এলেও ব্যক্তি উদ্যোগে সামান্য কিছু মানুষ ঠিকই এগিয়ে এসেছেন। যেমন শেখ শিউলী হাবিব। ঢাকা শহরে তার একটা বাড়িতে বসবাসরত ভাড়াটিয়াদের মার্চ মাসের ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছেন তিনি!

শুধু ভাড়া মওকুফই নয়, নিজের বাসার গৃহকর্মীদের জন্যও করোনাভাইরাসের এই সময় জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছেন শিউলী হাবিব। নিজের দুই গৃহকর্মীকে তিনি একমাসের ছুটি দিয়েছেন। সঙ্গে দিয়ে দিয়েছেন বেতন এবং এক বস্তা করে চাল। কাজ করতে বাসায় আসার পথে সেই গৃহকর্মীরা আক্রান্ত হতে পারেন করোনায়। তাদের মাধ্যমে বাসায় ছড়াতে পারে এই মারাত্মক ভাইরাস। তাই এই চমৎকার এবং প্রশংশনীয় উদ্যোগটি নিয়েছেন শিউলী হাবিব। তিনি এর মাধ্যমে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

দেশের এই মহা বিপর্যয়ে যেখানে কোটিপতি, শিল্পপতি, এম্পি-মন্ত্রী, গার্মেন্টসের মালিক ও এলিট সোসাইটির লোকদের নীরব ভূমিকা করতে পালন করতে দেখা যায়, সেখানে এরকম একটি খবর আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, ভালো মানুষ এখনো এই দেশে আছে।

এদিকে বিগত ৩০ বছর ধরে দেশ ও দেশের জনগণের পক্ষে বিদ্রোহী ভূমিকা পালন করে আসছে চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলার আরেক কিংবদন্তি সাংবাদিক। নাম তার মিজানুর রহমান চৌধুরী। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে গণমানুষের কথা বলে আসছেন তিনি। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সনে প্রতিষ্ঠা করেন দেশপ্রেমিক মানবাধিকার সংগঠন লাভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন। এছাড়া তিনটি জাতীয় পত্রিকা সহ ৫টি পত্রিকার মালিক তিনি।

লাভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্টার পর থেকে তিনি দেশ ও দেশের সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলে আসছিলেন। এছাড়া সমাজের অবৈধ সম্পদ অর্জনকারী দেশের মাফিয়াদের বিরুদ্ধে তিনি আন্দোলন করে যাচ্ছেন। এছাড়া তিনি দেশের ক্রান্তিলগ্নে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি ডিরেক্ট অথবা ইনডিরেক্টলি দেশের মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। তার প্রতিষ্ঠিত লাভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন দেশের আনাচে কানাচে নিরলসভাবে দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

তার মতে, দেশের মালিক জনগণ। জনগণের হক মেরে খেয়ে এদেশের কিছু মানুষ টাকা ও সম্পদের পাহাড় গড়েছে। কিন্তু দেশের ক্রান্তিকালে তাদের কোন সাড়া শব্দ থাকেনা। তারা আরাম আয়েশে ইটের দালানে উঠে মাস্তি করে। অথচ করোনার মত এই মহামারীতে তাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করার কথা। কিন্তু এই অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের আজ কোন সাড়া নেয়।

তিনি সরকারকে আহবান জানান, অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের ছিনিয়ে নিয়ে দেশের গরীবদের মাঝে বিলয়ে দিন। এই মহামারীতে দেশের গার্মেন্টস, অফিস-আদালত বন্ধ করুন। শিউলি হাবিবদের মত সকল বাড়ির মালিকদের ভাড়াটিয়াদের ভাড়া মওকুফ করতে চাপ প্রয়োগ করুন। ব্যাংক লোন কিস্তি, সমিতির কিস্তি বন্ধ করতে চাপ প্রয়োগ করুন। এছাড়া তিনি এই পর্যন্ত সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ও সরাসরি যতোগুলো কথা বলেছেন, সবগুলো কথায় ছিল লজিক্যাল ও সময়োপযোগী।

এ হলো দেশের কয়েকজন দেশপ্রেমিকদের চাপায়। অথচ সরকারের গদিতে থাকা কয়েকজন মন্ত্রী ইতিমধ্যে বোগাস মন্তব্য করে হাসির খোরাক হয়েছেন। তাদের কথা শুনে মনে হয়, এ সমস্ত রামছাগলগুলো গদি থেকে টেনে নামানো সময়ের দাবি। অথচ সাংবাদিক মিজানুর রহমান চৌধুরীদের মত যোগ্য দেশপ্রেমিক মানুষগুলোর কথা কর্ণপাত করার সুযোগ নেয়। তাদের এরকম দেশপ্রেমিকরা আছে বলেই দেশের মানুষরা এখনো স্বস্তি পায়, সাহস পায়, বেঁচে থাকার ধারণা পোষণ করে। উন্নত বিশ্বে যেখানে করোনা মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে মন্ত্রীরা পদত্যাগ করে, সেখানে আমার দেশের মন্ত্রীরা করোনা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে তামাশাসূচক বক্তব্য প্রদানে ব্যস্ত।

তাই আমরা দাবি করবো যে, দেশের ক্রান্তিলগ্নে মেকি মন্তব্যকারী মন্ত্রীদের গদি থেকে সরিয়ে মিজানুর রহমান চৌধুরীদের মত দেশপ্রেমিকদের গদিতে বসান। তাদের মূল্যায়ন এখন সময়ের দাবি।

আসুন আমরা এই সিরিয়াস বিপর্যয়কে আমলে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে নজির স্থাপন করি। দোষারোপ বা ট্রল করার সংস্কৃতি বদলাই। আশার খবর চীন কোভিড সংক্রমণ রোধে সক্ষম হয়েছে, চীনে ফেইসবুক নেই। সারা বিশ্বের কোন সীমান্তে যুদ্ধ চলছেনা।

কোভিডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সারা পৃথিবী। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শান্তি নেমে আসুক অশান্ত পৃথিবীতে।বিশ্বমানবতার জয় হউক। আসুন আতঙ্ক কাটিয়ে সচেতন হই, সবাই পজিটিভ এবং হাসিখুশী থাকি। যার যার ধর্ম মোতাবেক সৃষ্টিকর্তার কাছে মানুষের মুক্তির জন্য প্রার্থনা করুন। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হউন। আমিন।

 

About gssnews2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*