Home / চলতি খবর / ক্যাসিনো’র কারবারি সাংবাদিক আছেন বহাল তবিয়তে : দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রশাসনের নাকের ডগায় 

ক্যাসিনো’র কারবারি সাংবাদিক আছেন বহাল তবিয়তে : দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রশাসনের নাকের ডগায় 

নিউজ ডেস্ক : গোটা দেশ তোলপাড় করা ক্যাসিনোকান্ডে রাঘব-বোয়ালদের অনেকেই ধরা পড়লেও প্রশাসনের নাকের ডগায়  ফাঁকা মাঠে দৌর্দন্ড প্রতাপে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

ক্রিষ্টাল ১৮৬ ডট কম নামে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছিলেন অনলাইন ব্যবসার জন্য। পল্টনে প্রীতম জামান টাওয়ারে আলিশান অফিসও নিয়েছিলেন। তার ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুর ক্রমিক নম্বর -২৯৪৮। লাইসেন্স পাতার নম্বর-০২০৯০১৪৮। ট্রেড লাইসেন্সে তার পাসপোর্ট সাইজের ছবিও রয়েছে। তখন এই ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সাংবাদিক লাভলু ছিল ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক। আর এই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে টানা দুইবছর চালিয়েছেন অনলাইনে ক্যাসিনো ব্যবসা। বাংলাদেশে অনলাইন ক্যাসিনোর জনক হিসাবেই পরিচিত তিনি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এ অনলাইন জুয়ার আসরের খবর। এ জুয়ার আসর বন্ধ করার জন্য ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পল্টন থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়র বরাবর লিখিত আবেদন (যার স্বারক নম্বর-১২৪৭) করা হয়েছিল। সূত্র পল্টন মডেল থানার জিডি নম্বর-১৩১২।

তারপরে অনলাইন জুয়ার ব্যবসা করা সেলিম প্রধান এখন জেলে আছে, কিন্তু বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মাহবুব আলম লাভলু। পুলিশ তাকে একবার আটক করলেও পরে আবার ছেড়ে দেয়। অথচ এই ক্যাসিনো ব্যবসার কারণে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি তাকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করে। তাকে পুলিশ কেন ছেড়ে দেয় এই নিয়ে তখন ডেইলি ষ্টার, সংবাদ, প্রথম আলোসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ প্রকাশিত ডেইলি স্টারের এক রিপোর্টে বলা বলা হয় ডিএমপির তৎকালীন উর্ধতন একজন পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশে লাভলুকে গ্রেফতারের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ছেড়ে দেয়া হয়, কিন্তু ওই কর্মকর্তা কোনো তদবিরের কথা অস্বীকার করেন। রহস্য সেখানেই, এরপরও লাভলু কিভাবে ছাড়া পেলেন, যেখানে যুবলীগ নেতা সম্রাট,খালেদরা জেলে আছেন! কিভাবে বিএনপির রাজনীতি করা সত্ত্বেও বর্তমানে অঢেল সম্পদের মালিক মাহবুব আলম লাভলু এখন বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন! গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও লাভলু ছিলেন বিএনপি-জামাত জোট সমর্থিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী তাবিথ আওয়ালের মিডিয়া ম্যানেজার। ছাত্রজীবনে লাভলু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ক্যাডার ছিলেন। সেখানেও ভর্তি হয়েছিলেন জাল সার্টিফিকেট দিয়ে। অবাক হয়েছিলেন মানিকগঞ্জের ঘিওরের তার গ্রামের লোকজনও। কারণ যে ছেলে এইচএসসি পাসই করেননি, সে কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলো।

হিন্দু সম্প্রদায়ের ১০ বিঘা জায়গা দখল করার মধ্য দিয়েই লাভলুর উত্থান। তখন তিনি জনকণ্ঠ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন। গত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময় দলীয় ও সাংবাদিকতার প্রভাব খাটিয়ে ওই হিন্দু পরিবারগুলোকে দেশ ছাড়া করেন তিনি। তার ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস করেনি। অথচ লাভলুর বাবা ফেরি করে গ্রামে গ্রামে হাড়িপাতিল বিক্রি করতেন। তার স্ত্রী নার্সের চাকুরী করতেন। তার এই ভূমি দস্যুতার ঘটনা মানিকগঞ্জের ঘিওর থানার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের দুলন্ডী গ্রামের সবার মুখে মুখে। ওই হিন্দু পরিবারগুলো এরপর কয়েকবার দেশে এসেও মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন, কিন্তু কোনো সুরাহা করতে পারেননি। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে লাভলু তাদেরকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে দেশ থেকে বিদায় করেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের সেই জায়গায় লাভলু গড়ে তুলেছেন প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশাল অট্টালিকা ও বাগান বাড়ি। যেখানে প্রায়ই বসে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মনোরঞ্জনের আসর।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঢাকা উদ্যানে তার রয়েছে এক সুরম্য প্রাসাদ। জায়গা সহ যার আনুমানিক মূল্য ১২ কোটি টাকা। এই পাঁচ তলা বাসার একটি ফ্লোরে প্রতিরাতেই বসে মদ ও জুয়ার আসর । এলাকাবাসী জানান, সন্ধ্যা হলেই সেখানে গাড়ি আর নারীর দেখা পাওয়া যায়, কিন্তু ভয়ে কেউ কিছু বলেন না। ওই বাসার তিন তলার একসময়ের বাসিন্দা এনামুল কবির জানান, একবার এই বেলেল্লাপনার প্রতিবাদ করায় তাকে মাস্তান দিয়ে পিটিয়ে বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়। তিনি থানায় গিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি।

মিরপুরের পশ্চিম শেওড়া পাড়া শামীম সরণিতে ৫৩০/১ নম্বর বাসা অপ্সরা পান্থশালায় তার রয়েছে আরেকটি ফ্ল্যাট। যেখানে যুব মহিলা লীগ নেত্রী পাপিয়া ভাড়া নিয়ে নারী ব্যবসা করতেন। পরে ভবন মালিক সমিতির প্রতিবাদের মুখে লাভলু তাদেরকে বাসা থেকে বের করে দিতে বাধ্য হন। স্থানীয় কাউন্সিলরকেও সেখানে জড়িত হয়ে তাদেরকে বাসা থেকে বের করতে হয়।

চাকুরীচ্যুত হবার পর লাভলু রাজধানীর পান্থপথে একটি ফ্ল্যাট কিনে সেখানে খুলেন মিডিয়া হাউজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এই মিডিয়া হাউজের আড়ালে সেখানে প্রতিরাতেই বসে মেয়ে ও মদ-জুয়ার আসর। এই আসরের অধিকাংশই মিডিয়ার লোকজন। সবই চলছে পুলিশের নাকের ডগায়।

তার ঢাকা শহরে রয়েছে ছয়টি পাবলিক বাস। ছড়েন নিত্য নতুন মডেলের গাড়িতে। প্রায়ই সাড়ে তিন কোটি টাকা মূল্যের একটি ভি-৮ গাড়িতে তাকে দেখা যায়। মানিকগঞ্জের ঘিওরে রয়েছে একটি গরুর খামার, যেখানে ব্যয় করেছেন ২ কোটি টাকার উপরে। ৪০ হাজার টাকা বেতনের একজন সাংবাদিক কিভাবে এতো অঢেল সম্পদের মালিক হলেন, কিভাবে একজন ফেরিওয়ালার ছেলে লাভলু রাজধানীতে সাংবাদিকতার আড়ালে দুই বছর নির্বিঘ্নে ক্যাসিনো ব্যবসা করেছেন, কি সেই রহস্য?

 

About gssnews2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*