Home / চলতি খবর / পরিবেশ পুলিশ গঠনের উপযূক্ত সময় কি এখনই নয়?

পরিবেশ পুলিশ গঠনের উপযূক্ত সময় কি এখনই নয়?

সাজ্জাদ হোসেন : মুদ্রার যেমন দু’টো পিঠ থাকে হেড ও টেল।  তেমনি প্রতিটি বিষয়েরও ভালো ও মন্দ দু’টি দিক আছে।করোনার ভযাবহ দিক সম্পর্কে আমরা এখন সবাই দেখেছি। কিন্তু এরও কিছু ভালো দিক ও দৃষ্টান্ত আমরা সবাই কম বেশি উপলব্ধি করতে পারছি। সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা।দেশে যে আইনের প্রয়োগ আছে তা এখন জাতির কাছে দৃশ্যত: প্রমানিত। যেমন সরকার জরুরী অবস্থা জারি করে সবাইকে নিজ গৃহে অবস্থান করতে নির্দেশ প্রদান করেছেন। এছাড়া আরো কিছু নির্দেশনা এর সাথে এসেছে যেমন মাস্ক পরা, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়া, দলবদ্ধভাবে চলাফেরা না করা, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা তথা একজন থেকে আরেকজন তিন ফুট দুরত্ব বজায় রাখা, কারো সাথে হাত না মেলানো,যত্রতত্র থুধু ও কফ না ফেলা ইত্যাদি। জনগণ ভালোই সাড়া দিয়েছে। অবশ্য সরকার যেভাবে আর্মি, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করেছে তাতে সকলে নির্দেশনা মেনে নিয়েছে।

কোরোনা একটি সমসাময়িক সমস্যা। যে কোনো সমস্যার চাইতে ভযাবহ। কিন্তু একটি সমস্যা যা চোখ এ্ড়িয়ে যায় না আর তা হচ্ছে যত্রতত্র ময়লার ভাগার,ডাস্টবিন উপচে ময়লা রাস্তার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়া। জনগনের চরম ঔদাসিন্য,সরকারী নির্দেশনা ও আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা ও তা ভাঙার জন্য চরম ঔদ্ধত্য। অনেকে এমনকি প্রকাশ্যে বলেন ও যে আবর্জনা যদি বিনেই ফেলে দিই তাহলে সুইপাররা কি করবে? তাদেরকে কি এমনিই বেতন দেয়া হবে?  সিটি কর্পোরেশন তাহলে কি করবে? আমরা ট্যাক্স দেইনা? তাহলে সরকার কি করবে? অনেকেই আছে এন্টি অথরিটি অর্থাৎ কর্তৃপক্ষ বিরোধী যাকে মন:স্তত্ত্ববিদ্যায় একটি মানসিক ব্যাধি বলে চিহ্নিত করা হয। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে বিনে জমে থাকা ও ছড়ানো আবর্জনা থেকে প্রায় ৪৭ রকমের রোগ বালাই হযে থাকে যা গনস্বাস্থের জন্য ভযাভহ হূমকি স্বরূপ।

করোনার ভযাবহতা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থপনাকে জরুরী অবস্থার আওতায় এনে কিছু কঠোর আইন প্রনোয়ন ও তার বাস্তবায়ন করতে হবে।  আইনগুলো এমন হতে পারে – বিনে ময়লা না ফেললে বাড়িওয়ালাকে ,ব্যাক্তিকে, কর্পোরেট হাউস ও ব্যবসা প্রতিস্ঠান, শপিং মল, দোকান, হাসপাতাল ক্লিনিক, সরকারি বেসরকারি অফিস, কোর্ট কাচারী যদি বিনে আবর্জনা না ফেলে অন্যত্র ফেলে তাহলে উচ্চ হারে জরিমানা করা হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ভযাবহ বৈশ্বিক সমস্যার কথিও মিথায় রাখতে হবে। কার্বন নি:গর্মন প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি, গাছ কেটে ফেলা,নদী খাল জলাধার দখল ও ভরাট করে শহরায়ন, হিমবাহের বরফ গলে যাওয়া করোনার চেয়েও ভযাবহ সমস্যা ও আতংক  যা দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে মানবজাতিকে বিপদগ্রস্থ করবে।সমুদ্রের জলরাশি আর মাত্র ৩ ফুট বাড়লেই বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল বছরের ছযমাস পানিতে ডুবে থাকবে। সমযে অসমযে প্রবল বৃষ্টিপাত হবে। বন্যা হবে সারাবছর। মানুষ হবে গৃহহীন, ফসলি জমি কমে আসবে, ফসলি জমি সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যাবে বলে লবনাক্ততা বৃদ্ধি পাবে, অভাব অনটন বাড়বে, কৃষিকে কেন্দ্র করে বিশাল জনগোস্ঠি বেকার হযে পডবে,অপরাধ বাড়বে, মানুষ শহরমুখী হবে, বাসস্থান সংকট হবে চরম আকারে, গৃহযুদ্ধ, অসুখ বিসুখ মহামারিতে রূপ নেবে, মৃত্যু ঘটবে বিশাল জনগোস্ঠীর। বিখ্যাত ম্যাগাজিন ইকোনমিস্ট এর মতে অভিবাসন ঘটবে চরম আকারে যা সীমান্ত ও প্রতিবেশী দেশের সাথে যুদ্ধ ঘটাবে। তাই সরকারকে এখনই করোনা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি মাথায় রেখে ও সেই আলোকে ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন আকারে পরিবেশ আইন প্রনয়ন ও প্রয়োগ ঘটাতে হবে।

পৃথিবীর বহু দেশে বিনে আবর্জনা না ফেললে জরিমানা করা হয়। এই দেশেও তেমন করতে হবে। সরকার ও সিটি কর্পোরেশনকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক ও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে, আধুনিক যান ব্যবহার করে বর্জ্য রিসাইক্লিং, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলতে হবে। যা পরে বর্জ্যের বিভিন্নতা অনুযায়ী আলাদা করে তা  রিসাইক্লিং, পুন:ব্যবহার ও পতিত করতে হবে।

লেখক: কলামিস্ট, গবেষক ও বিশ্লেষক।

 

 

About gssnews2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*