Home / চলতি খবর / বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা : বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা : বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশ

ইফতেখার হোসাইন চৌধুরী: সে দিনটি ছিল ২৩ মে। বাঙ্গালি জাতির জীবনে এক উল্লেখযোগ্য দিন।বাংলার অবিসাংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শান্তিতে জুলি ও কুরি পুরষ্কার প্রাপ্তিতে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণের ৪৭ বছর পূর্তি।১৯৭৩ সালের এমনি দিনটিতে তিনি পুরষ্কার প্রাপ্তিতে তার অনুভূতি তুলে ধরেন।ফ্যাসিবাদ বিরোধী, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামকে বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে চির অম্লান করে রাখার লক্ষ্যে বিশ্ব শান্তি পরিষদ ১৯৭৩ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বঙ্গবন্ধু কে “জুলি ও কুরি”শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করেন। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের উন্মুক্ত প্লাজায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ব শান্তি পরিষদের তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুকে জুলি ও কুরি পদক প্রদান করেন এবং বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শুধু বঙ্গবন্ধু নন, আজ থেকে তিনি বিশ্ববন্ধুও বটে।’ ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর পৃথিবীর ১৪০টি দেশের শান্তি পরিষদের ২০০ প্রতিনিধির উপস্থিতিতে বিশ্ব শান্তি পরিষদ বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জুলিও কুরি’ শান্তিপদক দেয়ার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়। পুরষ্কার প্রাপ্তির ৩ সপ্তাহ পর তিনি তার বক্তব্যে কৃতজ্ঞতা জানান বিশ্ব শান্তি আন্দোলনের তার সকল সহকর্মীকে।তিনি তার এই অর্জন উৎসর্গ করেন স্বাধীনতা আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের প্রতি।
তিনি কৃতজ্ঞতা জানান বিশ্ব নেতৃত্বকে বাংলাদেশ এর মুক্তি আন্দোলনে পাশে থাকার জন্য। “বঙ্গবন্ধু” শুধু মাত্র একটি উপাধি নয়, এটি মানবতার অন্য নাম। নয় শুধু বাঙ্গালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, তিনি বিশ্বমানবতায় ও তার হাতকে প্রসারিত করেছেন। বিশ্বশান্তি ছিলো তার দর্শনের মূলনীতি। ১৯৫২ সালে চীনের সাবেক রাজধানী পিকিং এবং ১৯৫৬ সালে স্টকহোমে অনুষ্ঠিত শান্তি সম্মেলনে তিনি অবিভক্ত পাকিস্তান এর প্রতিনিধি হয়ে সম্মেলননে যোগ দেন। সকলের সাথে বন্ধুত্ব,কারো সাথে বিদ্বেষ নয় নীতি অনুসরণে সচেষ্ট ছিলেন বঙ্গবন্ধু। পররাষ্ট্র ব্যবস্থার একটি অংশ হল অপর দেশে দুর্যোগকালীন সময়ে পাশে থাকা।যেটি করে দেখিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। ভিয়েতনাম,কম্বোডিয়া, মোজাম্বিক সহ আরো অনেক দেশের উপ-নিবেশ বিরোধী সংগ্রামে অকুন্ঠ সমর্থন। ইসরাইল কতৃক আমেরিকানি সহায়তায় ফিলিস্তিন এর ভূমি দখলের তীব্র নিন্দা জানান বঙ্গবন্ধু। ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলন এর নেতা ইয়াছির আরাফাত এর পাশে থেকে তাকে সাহস যুগিয়েছেন।দুঃখের বিষয়, বিশ্ব শান্তি পুরষ্কার পাওয়ার মাত্র ২ বছর, ৩ মাস পর কিছু বিপদগামী সেনাবাহিনী’র গুলিতে নিহত হন বঙ্গবন্ধু। বাঙ্গালি জাতির ভাগ্যে তখন নেমে এসেছিল ঘোর অমানিশা। এর ৬ বছর পর সেই মে মাসেই দেশে ফিরলেন তার সুযোগ্য উত্তরসূরী শেখ হাসিনা। তিনি ও তার বাবার মতো বিশ্বমানবতায় হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে অনেক বাধা থাকার পরেও তিনি সব বাধা অতিক্রম করতে সদা সচেষ্ট। ব্রিটিশ মিডিয়া কতৃক “মাদার অফ হিউম্যানিটি”ঘোষণা মিয়ানমার এর রোহিঙ্গা ইস্যুতে তার অগ্রণী ভূমিকার পুরষ্কার। যখন শান্তুিতে নোবেল বিজয়ী অং সাং সূচি তার দেশের রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সেনাবাহিনী এবং তথাকথিত স্থানীয়দের নির্যাতন এর বিষয়ে নিশ্চুপ,ঠিক তখন ই মানবতার স্বার্থে বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দেয়ার নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে ও মানবিক বিবেচনায় রোহিঙ্গা দের আশ্রয় দেয়া অনেক কঠিন কিন্তু তা করে দেখিয়েছেন শেখ হাসিনা।জাতিসংঘ এর তথ্য মতে বিগত কয়েক বছরে ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে।যেখানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা শুধু মাত্র বিবৃতি দিয়ে দায় সারছে,সেখানে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব ত্রাণ তহবিল এবং বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থার দেয়া অপ্রতুল সাহায্য দিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিনিয়ত নিয়োজিত রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে। রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক ভাবে দেশে ফেরাতে তৎপর বাংলাদেশ সরকার। বিশ্বমানবতায় শেখ হাসিনা এক জ্বলন্ত নাম।আন্তজার্তিক শান্তিরক্ষীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছেন তিনি। আমেরিকার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে,জেরুজালেম এ ইসরাইলি দূতাবাস নির্মাণের তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন। বঙ্গবন্ধু যেমন নিজ দেশের বাইরে পুরো পৃথিবীর নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষের কথা ভাবতেন,ঠিক তার কন্যাও চেষ্টা করে যাচ্ছেন বিশ্বমানবতায়। বঙ্গবন্ধুর শান্তি পুরষ্কার প্রাপ্তির ঐতিহাসিক ভাষণের ৪৭ বছর পূর্তিতে একটাই চাওয়া পাহাড়ে শান্তি বিরাজমান রাখা’র সকল প্রক্রিয়া দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করা হোক। জয় হোক মানবতার।
লেখক:   রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ-সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

 

About gssnews2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*