Home / ফিচার / ওরা বিষফোঁড়া

ওরা বিষফোঁড়া

জহিরুল ইসলাম : প্রথম সারির জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে জানা গেল প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়তা প্রকল্পের টাকা (আড়াই হাজার)এক ইউপি সদস্য তার স্বজনদের প্রাপ্তির সুযোগ করে দেয়ার অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। ঘটনাটি গাজীপুরের কাপাসিয়ার। গোপন সংবাদে জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী হাকিম তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ শাস্তি দেন। ভিতরের পাতায় সিঙ্গেল কলামে প্রকাশিত সংবাদটি সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ না হলেও একটি বড়সড় বার্তা দিয়ে যায়। এ রকম কুট কৌশলে হয়তো সরকারি সহায়তার এ টাকা প্রাপ্য লোকজন পায়নি জনমনে এমন প্রশ্ন মোটা দাগে । সাধারণ জনগনের ভাবনা একটি চক্র সহায়তা প্রকল্পের টাকা নয়-ছয় করেছে। এমনটা ভাবা অস্বাভাবিক নয়। কারণ স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের কর্মকাণ্ডে প্রথমেই পঞ্চাশ লাখের মধ্যে প্রায় দশ লাখ মোবাইল সিমে অনিয়ম ধরা পরে। যা পরে সংশোধিত হয়। চিত্র ভেসে উঠে ভয়াবহ অনিয়মের। নড়েচড়ে বসে সরকারের দায়িত্বশীলরা।নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হয় সব।কোন ব্যক্তি যেন একাধিক ‘সিম’ দ্বারা টাকা উত্তোলন করতে না পারে সেটা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যথাযথ ভাবে নিশ্চিত করলেও স্বজন প্রীতির কাছে কতটা অসহায় হয়েছেন তা বলা মুশকিল। প্রথম থেকেই সোসাল মিডিয়াতে জোরালো দাবি ছিল সুবিধা ভোগীদের নামের তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করার। কিন্তু সেটা করা হয়নি।ফলে মন্দরা মন্দ কাজটি অনায়াসে সম্পাদন করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে সফল হলো। প্রধানমন্ত্রী বারবার হুশিয়ার করার পরও ‘দুষ্ট’রা ভয় পায়নি। একজন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এত রাহু দমন করা সম্ভব নয়। মন্ত্রী- এমপিরা সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সর্বদা প্রফুল্লচিত্তে কাজ করেছেন। কিন্তু এ মহামারী কালে তাঁদের অনেকেই নির্বাচনী এলাকায় যাননি।এতে করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এধরনের অপকর্মে জড়িত হতে সাহসী হয়েছেন। আমার পরম শ্রদ্ধেয় এক শিক্ষক প্রায়ই বলতেন ‘অনেক খানি দুধে একটুখানি তেঁতুল’। অনেক খানি দুধে একটুখানি তেঁতুল পড়লে কি হয় বা হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। করোনা কালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি পদক্ষেপ জনকল্যাণমুখী যা প্রশংসার দাবি রাখে।কিন্তু এ সমস্ত দুর্নীতি বাজদের নানা অনিয়ম সব অর্জনের বিসর্জন কার্যক্রম ক্রমেই জোরদার করছে। সম্প্রতি সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী কড়া ভাষায় সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন।দেশবাসী ভেবেছিল মন্ত্রীদের গর্জনে ‘নষ্ট’রা ভয় পাবে। না পায়নি। এ লেখাটি যখন লিখছি তখন দূরদর্শনের খবর চাল পাচারের অভিযোগে সাত জনকে আটক করেছে পুলিশ। নষ্টরা নষ্টামি করে চলছে দাপটেই। এ প্রসঙ্গে একটা সংস্কৃত শ্লোক মনে পড়ে গেলো। শ্লোকটি হলো-অজাযুদ্ধে, ব্রাহ্মণ শ্রাদ্ধে, মেঘডম্বরে, দাম্পত্য কলহে, বহ্বারম্ভে লঘুক্রিয়া। অর্থ হচ্ছে – ছাগলের লড়াই, কোনো ব্রাহ্মণের শ্রাদ্ধে, মেঘের তর্জন- গর্জন এবং স্বামী- স্ত্রীর ঝগড়াঝাঁটিতে দৃশ্যত অনেক তুলকালাম কান্ড ঘটে উত্তাপ ছড়ায় কিন্তু শেষ পর্যন্ত যোগ ফল শুন্যই থেকে যায়।জনগণ জানে এ সমস্ত দূর্নীতিবাজদের অধিকাংশই শাসক দলের। তাদের ক্ষমতার শিকড় অনেক গভীরে পুথিত।আর অতীত অভিজ্ঞতা বড়ই তিক্ত এ কারণে জন মনে সংশয় বেশি। ক্ষমতাসীনরা যদি বিষয়টি দ্রুত আত্মস্থ করতে পারেন তবেই এ সমস্ত দুর্নীতি বাজদের লাগাম টেনে ধরা সম্ভব। লেখাটির শেষপ্রান্তে এসে মনে পড়ে গেল সেই তৈলাক্ত বাঁশ ও বানরের জটিল অংকের কথা। ভরা চৌবাচ্চা আর খালি চৌবাচ্চার কঠিন অংক টাও। কিন্তু কঠোর বাস্তবতার স্লেটে যেন আর সে সব অংক মেলানো যাচ্ছে না। মনে পড়ে গেল বনফুলের সেই বিখ্যাত ‘ঈশ্বর’ গল্পটি। ঈশ্বরকে তাবৎ সমস্যার কথা শোনানো হলো। তিনি এক কাত হয়ে পড়ে ছিলেন। সবকিছু শোনার পর বিশুদ্ধ সরষের তেল নাসারন্ধ্রে প্রবিষ্ট করিয়ে আবার অপর পাশ ফিরে গভীর সূষুপ্তির কোলে ঢলে পড়লেন। না অবস্থা অতটা হতাশাজনক নয়। এমনটি শুভবুদ্ধিসম্পন্ন কারোরই কাম্য না। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা নিয়ে দুর্মখেরাও প্রশ্ন তুলবেন না।কিন্তু অন্য দায়িত্বশীলরা কি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠ? এসব প্রশ্ন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে। সরকারকে বুঝতে হবে অপরাধীদের কোন দল নেই। তারা দলের বোঝা, রাষ্ট্রের শত্রু। ওরা সরকারের জন্য বিষফোঁড়া। এটা ভুলে না গেলেই মঙ্গল। সমালোচনা হচ্ছে পরিশীলিত হবার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পন্থা। সরকারকে গঠন মূলক সমালোচনা শোধরাতে সহায়তা করে। তার পরও ভয় মনে কখন জানি বিপদ এসে যায়। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নকারী দুর্নীতিবাজদের দমাতে হবে শক্ত হাতে।নিশ্চিত করতে হবে শাস্তি। তাহলেই সরকারের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার হবে,মঙ্গল হবে রাষ্ট্রের। লেখক- সাংবাদিক এবং কলামিষ্ট

About gssnews2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*