Home / চলতি খবর / ইসলামপুরে হু হু করে বাড়ছে যমুনার পানি

ইসলামপুরে হু হু করে বাড়ছে যমুনার পানি

রোকনুজ্জামান সবুজ, ইসলামপুর (জামালপুর) :  উজান থেকে নেমেআসাভারতীয় পাহাড়ীঢলে ও ভারী বর্ষনে ইসলামপুর বিভিন্ন অঞ্চলে যমুনারপানিহু হু করে বাড়ছে। এতে নিম্ন অঞ্চল সমূহের বন্যা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে। পানিবৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়ছেনদী ভাঙ্গন। জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ পাঠক আব্দুল মান্নান জানান, বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্ট রবিবার বিকালে যমুনা নদীর পানি বিপদ সীমার ৬৩সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে গত চারদিন ধরে বন্যার পানি হুহু করে বাড়ছে।বন্যায় যমুনা তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বহু নিম্ন অঞ্চল ইতিমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে উপজেলাধীন যমুনার চরাঞ্চল সমূহের অসংখ্য নিম্ন অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।এতে ইসলামপুর বন্যা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে। ইসলামপুর সাপধরী ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানান,যমুনার পেটে জেগে উঠা সাপধরী ইউনিয়নের নতুন চরাঞ্চল সমূহে আষাঢ় মাসেই অতিরিক্ত বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।
এতে প্রজাপতি,চরশিশুয়া,চরনন্দনেরপাড়া,আমতলী,কাশারীডোবা,কটাপুর,আকন্দ পাড়া,মন্ডলপাড়া ও চেঙ্গানিয়া চরাঞ্চল সমুহের অসংখ্য নিম্ন অঞ্চল প্লাবিত হয়ে বহু কৃষকের পাট ও আউশ ধান ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে।এসব চরাঞ্চলের অন্ততঃ ৩হাজার বাড়ীঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।
পাথর্শী ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আলম বাবুল জানান, শশারিয়াবাড়ী, পশ্চিম মোরাদাবাদ, পাথর্শী আংশিক, পশ্চিম মোজাআট, পশ্চিম হাড়িয়াবাড়ী, পশ্চিম গামারিয়া, খলিশাকুড়ি, পশ্চিম ঢেংগারগড়, জারুলতলা, বেড়েগাঁও, মহিষকুড়া গ্রামগুলো পানির নিচে তলিয়ে ২ হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে ও মলমগঞ্জ-জারুলতলা বাজারের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকার কাচা-পাকা রাস্তাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে।
বেলগাছা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান,পানি বৃদ্ধির ফলে যমুনার দ্বীপ চরের বাদাম ক্ষেত ও বীজ তলার কাঁচা শাক সবজি,উঠতি ফসল ইক্ষু ও পাট পানির নিচে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মন্নিয়ারচর ও নোয়ারপাড়া মাজইবাড়ী সহ বেশ কিছু এলাকায় বিরামহীন ভাঙ্গন চলছে।
চিনাডুলি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম জানান, এ বছরের আগাম বন্যায় নিম্ন অঞ্চল এলাকায় রাস্তা ঘাট যাতায়াত বন্ধ এবং যমুনা চরাঞ্চল বন্যা কবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।নিম্ন অঞ্চল এলাকায় বেশীরভাগএলাকাপানিরনিচেতলিয়েএতে ৪হাজারপরিবারেরপ্রায়৬হাজার মানুষপানিবন্দি হয়েপড়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু জানান- উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৩২টি গ্রামের ৭হাজার ৮৭০টি পরিবারের প্রায় ৩১ হাজার ৪৮৫ জন মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকারিভাবে ১০৭টি আশ্রয়ন কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে ও পানিবন্দী মানুষদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ, শুকনো খাবার, ওষুধ সামগ্রী মজুদ রয়েছে।

 

About gssnews2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*