চট্টগ্রাম   মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১  

শিরোনাম

আজ শুভ জন্মাষ্টমী

আজ শুভ জন্মাষ্টমী

জিএসএসনিউজ ডেস্ক :    |    ০৪:১৫ পিএম, ২০২১-০৮-৩০

আজ শুভ জন্মাষ্টমী

বেঞ্জামিন রফিক : সনাতন ধর্মালম্বীদের বিশ্বাস, প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে অশুভ শক্তিকে দমন করে সত্য সুন্দরের প্রতিষ্ঠায় ধরাধামে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। তাঁর আবির্ভাব বিশ্বের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে। নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষকে রক্ষায় তিনি পরিত্রাতার ভূমিকা পালন করেন, অন্ধকার সরিয়ে পৃথিবীকে আলোয় উদ্ভাসিত করেন। সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের আরাধ্য ভগবান শ্রী কৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী আগামীকাল। এদিনটিতে দেশের হিন্দু সম্প্রদায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী পালন করেন

তবে এবার জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠান যথারীতি ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে পালিত হবে এবং জন্মাষ্টমী সংশ্লিষ্ট সকল অনুষ্ঠানমালা মন্দিরাঙ্গনে সীমাবদ্ধ থাকবে। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সকল প্রকার সমাবেশ, শোভাযাত্রা বা মিছিল করা থেকে বিরত থাকারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।পাশবিক শক্তি যখন ন্যায়নীতি, সত্য সুন্দরকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছিল, তখন সেই শক্তিকে দমন করে মানবজাতির কল্যাণ এবং ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। তাদের আরো বিশ্বাস, দুষ্টের দমন করতে এভাবেই যুগে যুগে ভগবান মানুষের মাঝে নেমে আসেন এবং সত্য সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করেন

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ জেলা, মহানগর শাখাসমূহের মধ্যে ভার্চ্যুয়াল সভার মতামতের আলোকে বৈশ্বিক করোনা অতিমারীজনিত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠান যথারীতি ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে পালন এবং জন্মাষ্টমী সংশ্লিষ্ট সকল অনুষ্ঠানমালা মন্দিরাঙ্গনে সীমাবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।  

 

শ্রীকৃষ্ণ কি আল্লাহর প্রেরিত নবী ছিলেন?

আল্লাহ সকল জাতিগোষ্ঠীতে ও জনপদে ঐ এলাকার ভাষায় রচিত ধর্মগ্রন্থ সহকারে তাঁর নবী-রসুলদেরকে পাঠিয়েছেন। কিন্তু ঐ নবীদের বিদায়ের পরে তাঁর শিক্ষা ও ধর্মগ্রন্থ বিকৃত করে ফেলা হোয়েছে। ফলে ঐ এলাকার মানুষকে নতুন করে পথ দেখাতে আবির্ভূত হোয়েছেন অন্য নবী যারা পূর্বের বিকৃত গ্রন্থকে রদ ঘোষণা করেছেন এবং নতুন বিধান জাতিকে প্রদান কোরেছেন। কেউ তাকে মেনে নিয়েছে, কেউবা মেনে নেয়নি।

এভাবে জন্ম হয়েছে একাধিক ধর্মের। কালক্রমে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, এক এলাকার ধর্মের অনুসারীরা অন্য এলাকায় অন্য ভাষায় নাযিলকৃত ধর্মকে ধর্ম হিসাবে এবং ঐ ধর্মের প্রবর্তককে নবী হিসাবে স্বীকৃতি দিতে নারাজ। যেমন ইহুদিরা ঈসা (আ:) কে আল্লাহর প্রেরিত বলে স্বীকার করে না, খ্রিস্টানরা আখেরী নবী মোহাম্মদ (দ:)-কে নবী হিসাবে স্বীকার করে না একইভাবে ভারতীয় অঞ্চলে ভারতীয় ভাষার মানুষের প্রতি আল্লাহর প্রেরিত বুদ্ধ, রাম ও শ্রীকৃষ্ণ এঁদেরকে নবী হিসাবে স্বীকার করেন না। কিন্তু তাদের প্রচারিত ধর্মগ্রন্থের মধ্যে আখেরী নবী মুহাম্মাদ (স) এর আগমনের বহু ভবিষ্যদ্বাণী উল্লেখিত আছে যা গবেষণা কোরলে স্পষ্ট বোঝা যায় যে ঐ ধর্মগুলিও আল্লাহরই প্রেরিত (যা এখন বিকৃত হোয়ে গেছে), এবং স্বভাবতই সেগুলির প্রবক্তারা আল্লাহরই বার্তাবাহক অর্থাৎ নবী ও রসুল।

যেমন :

এই শিশুর এই তরুনের কাজ বড়ই বিচিত্র। সে স্তন্য পানের জন্য মায়ের কাছে যায় না। এর মায়ের স্তন গ্রহন নেই, তবু এ জন্ম মাত্রই দেবপ্রদত্ব কর্মভার গ্রহন করল।

(সাম বেদ, আগ্নেয় কান্ড: ৬৪)

আমরা জানি মুহাম্মাদ (স) তার মায়ের দুধ পান করেননি তিনি ধাত্রি মা হালিমা দ্বারা পালিত হয়েছিলেন।

নিখিল বিশ্বের হিতকারী ১০ হাজার অনুচর সহ বিখ্যাত হবেন। ( ঋগবেদ : ৫;২৭;১, ১;৯৪;১৭, ১;৯৬;৯)

মুহাম্মাদ (স) যখন মক্কা বিজয় করেন তখন তার অনুচর বা সাহাবির সংখ্যা ছিল ১০,০০০।

"অল্লো পনিষদ" এ বেদে উল্লেখ আছে,

"হোতার মিন্দ্রো হোতার মিন্দ্রো মহাসুরিন্দ্রবো:। অল্লো জ্যেষ্ঠং শ্রেষ্ঠং পরমং পূনং ব্রক্ষণং অল্লাম।

অল্লো রাসুল মুহাম্মাদ রকং বরস্য অল্লো অল্লাম।

আদল্লাং বুকমেকং আল্লাবুকং ম্লান লিরখাতকম।"

অর্থাৎ দেবতাদের রাজা আল্লাহ আদি ও সকলের বড় ইন্দ্রের বড় গুরু। আল্লাহ পূর্ন ব্রক্ষা, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল পরম বরনীয়, আল্লাহই আল্লাহ। তাহার অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ আর কেহ নাই। আল্লাহ অক্ষয়, অব্যয়, সয়ংসম্পূর্ন।

শ্রীকৃষ্ণকে হিন্দু ধর্মের অবতার বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে হিন্দু বলে কোনো ধর্ম বা হিন্দু শাস্ত্র বলে কোনো শাস্ত্র পৃথিবীতে নেই। বেদ, উপনিষদ, গীতায়, পুরাণে কোথাও কোন হিন্দু শব্দই নেই।

শব্দটি খুব সম্ভব আরব দেশ থেকে এসেছে সিন্ধু শব্দের অপভ্রংশ হিসাবে। উপমহাদেশে প্রচলিত এই ধর্মের প্রকৃত নাম সনাতন ধর্ম,

সনাতন শব্দের অর্থ আদি বা চিরন্তন, শ্বাশ্বত।

সনাতন হল সেই সত্য ধর্ম যা আদিতে ছিল, বর্তমানে আছে, ভবিষ্যতে থাকবে। সনাতন হল সেই ধর্ম যা চিরন্তন ও শ্বাশ্বত।

কোরআনে যেটাকে বলা হোয়েছে দীনুল কাইয়্যেমা, শ্বাশ্বত, চিরন্তন ধর্ম, (সুরা রূম, আয়াত ৪৩, সুরা বাইয়্যেনা, আয়াত ৫)।

অর্থাৎ তওহীদ বা একত্ব বাদ। অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই।

যা সনাতন ও ইসলাম ধর্মের মুল কথা

যেমন

একমেবা দ্বিতীয়ম (ছান্দেগ্য উপনিষদ ৬:২:১)

অর্থাৎ তিনি কেবল ১ জনই দ্বিতীয় কেহ নেই।

তিনি সেই স্বত্তা যাকে কেউ জন্ম দেননি, তার কোন শুরু নেই, তিনি সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী।(শ্রীমদ্ভগবদ গীতা, অধ্যায় ১০, শ্লোক ৩)

অবতার শব্দের অর্থ পৃথিবীতে আগমন। ঈশ্বরের অবতার বলতে বুঝায় যে, নিখিল বিশ্বে ঐশী প্রত্যাদেশ প্রচারকারী মহামানবের পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করা।

দুনিয়াতে আল্লাহ ধারাবাহিকভাবে নবী রসুল (অবতার, মহামানব) প্রেরণ কোরেছেন। এ ব্যাপরে কোরআনে অসংখ্য দলিল রয়েছে…

আল কোরআন বলছে,

আন সূরা ইউনুস ৪৮ নং আয়াতে বলা আছে “ওয়ালি কুল্লি উম্মাতির রাসুলুন। "

অর্থঃ প্রত্যেক জাতীর জন্যই রয়েছে রাসুল।

সূরা ফাতির ২৫ নং আয়াতে বলা আছে

“ওয়া ইম্মিল উম্মাতি ইল্লা খালাফিহা নাজির।"

অর্থঃ এমন কোন জাতি নেই যার কাছে সতর্ককারী আগমন করে নাই।

"ওয়া লাকাদ বায়াছনা ফি কুল্লে উম্মাতির রাসুলান " (সূরা নাহল ৩৭ আয়াত)

অর্থঃ নিশ্চয় আমি প্রত্যেক জাতি গোষ্ঠীর মধ্যে কোন না কোন রাসুল পাঠিয়েছিলাম।

সূরা রাদ ৮ নং আয়াতঃ

"ওয়া লিকুল্লে কাওমিন হাদ"-

অর্থাৎ প্রত্যেক জাতির জন্য হাদী বা পথ প্রদর্শক রয়েছে।”

পবিত্র কোর’আনে মাত্র ২৫ জন নবীর নাম উল্লেখ করা হোয়েছে। হাদিস পাঠে আমরা এক লক্ষ চব্বিশ হাজার বা মতান্তরে দু-লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী রসুলগণের পৃথিবীতে আগমনের কথা জানতে পারি। কোর’আন বলছে-

আমরা তোমার পূর্বেও অনেক রসুল পাঠিয়েছি, যাদের মধ্যে কারো বিষয় তোমার কাছে বর্ণনা করেছি এবং তাদের মধ্যে কারো কারো বিষয় বর্ণনা করি নাই (সুরা মো’মেন-৭৯)।

যদি সব নবীদের নাম-ধাম বৃত্তান্ত আল-কোর’আনে বর্ণনা করা হত তাহোলে একটি বিশ্বকোষের আকার ধারণ করতো। বাইবেলে বর্ণিত সকল নবীর নামও কোর’আনে উল্লেখ করা হয় নাই, আর তার প্রয়োজনও নেই। প্রত্যেক নবী-রসুলগণ তাঁদের জাতির ভাষায় তথা মাতৃভাষায় ঐশীবাণী প্রচার কোরেছেন, যাতে তাদের জাতির লোকেরা সহজেই নবীর শিক্ষাকে বুঝতে ও অনুসরণ করতে পারে। আর এ বিষয়েই আল-কোর’আন বলছে, –

আমরা প্রত্যেক রসুলকেই তাঁর জাতির ভাষায় পাঠিয়েছি, এই জন্য যে, যেন তাদের নিকট স্পষ্ট করে (আমার বাণী) প্রচার করতে পারে (সুরা এব্রাহীম-৫)।

এই আয়াতের মর্মবাণী হোচ্ছে, অতীতের প্রত্যেক নবী-রসুলগণ যে যে অঞ্চল ও জাতিতে আগমন কোরেছেন, সেই জাতি ও সেই জাতির ভাষাতেই তারা ওহী, এলহাম, দিব্যজ্ঞান, বোধি লাভ করে সেই অঞ্চলে একই ভাষা-ভাষীর মধ্যে প্রচারকার্য চালিয়েছেন। ঐসব ভাষা হিব্র“ পার্শী, সংস্কৃত,পালি, চীনা বা অন্য যে কোনো ভাষাই হোক না কেন। সুতরাং অতীত জাতির নবীদের জানতে হলে আমাদের অবশ্য বিভিন্ন ভাষায় রচিত ধর্মগ্রন্থগুলি যথা ‘বেদ-বেদান্ত, পুরাণ-গীতা-সংহীতা, উপনিষদ, মহাভারত, ত্রিপিটক, দিঘা-নিকায়া, জেন্দাবেস্তা, তওরাত-যবুর-ইঞ্জিল’ ইত্যাদি গবেষণা ও পাঠ করে কোর’আনের আলোকে অতীত নবীদের সম্বন্ধে সত্যিকার পরিচয় জানতে হবে।

উপরোক্ত আলোচনার সাপেক্ষে নিশ্চিত করে বলা যায় যে, পাক-ভারত উপমহাদেশেও আল্লাহ নবী-রসুল-অবতার প্রেরণ কোরেছেন এবং তাঁদের প্রচারিত বাণী-ঐশীগ্রন্থ বিকৃত অবস্থায় হলেও ঐ জাতির মধ্যে এখনও বংশ-পরম্পরায় অনুসৃত হোয়ে আসছে, তাদের ভক্ত-অনুরক্ত অনুসারীদের মাধ্যমে। এখন আমরা জানার চেষ্টা করবো যে, শ্রীকৃষ্ণ ও মহামতি গৌতম বুদ্ধ আমাদের প্রস্তাবিত উপমহাদেশের আল্লাহ প্রেরিত নবী-রসুল-অবতার ছিলেন কিনা।

ইসলামী চিন্তাবিদ ও মোসলমান মনীষীদের দৃষ্টিতে কৃষ্ণ হয়তোবা একজন নবী ছিলেন।

মাওলানা জাফর আলী খান লিখেছেন, এমন কোনো জাতি বা দেশ নেই; যার দোষ-ত্র“টি সংশোধনের জন্য উপযুক্ত সময়ে আল্লাহ তা’লা কোনো নবী রসুল প্রেরণ করেন নাই। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ কোরেছেন যে , শ্রীকৃষ্ণ মহান প্রভুর রেসালতের ধারায় ভারতীয় নবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন (প্রতাপ, ২৮ শে আগস্ট ১৯২৯)।

ইসলামের চতুর্থ খলিফা, আলী (রা:) বলেছেন, “আল্লাহ তা’লা কৃষ্ণবর্ণের এক নবী পাঠিয়েছিলেন, যার নাম কোর’আনে উল্লেখ করা হয় নাই।” (কাশশাফ, মাদারেক) এই বর্ণনা থেকে একজন কৃষ্ণ বর্ণের নবীর আবির্ভাবের সংবাদ পাওয়া গেল, যা নবী করিম (দ:) কর্তৃক ইতোপূর্বে উল্লেখিত হাদিসের “আসওয়াদুল ও এসমুহু কাহেন” কৃষ্ণবর্ণ ও কানাই নামে ভারতীয় নবী-অবতার শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।

বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ডা: জাকির নায়েক বলেন,

‘রাম ও কৃষ্ণের’ নাবী হওয়ার ব্যাপারে, আমরা বলতে পারি হতে পারে,আবার নাও হতে পারে তবে আমরা নিশ্চিত নই। কিছু মুসলমান আছেন, তারা বলেন, ‘রাম আলাইহিস সালাম’। এটা ভুল।কারন আল্লাহ কোরআনের কোথাও বলেনি রাম ও কৃষ্ণ এর নাম ।

(ডাঃ জাকির নায়েক -এর ২ নং ভলিয়াম, ১৬২ পৃষ্ঠার লেকচারের অংশ বিশেষ)

শ্রীকৃষ্ণের জীবনাচার ও বৈশিষ্ট্য কি বলে?

প্রাচীন যুগ হতে প্রত্যেক ধর্মে কোরবানি বা উৎসর্গের রীতি চালু আছে। কোরবানির সময় এলে শ্রীকৃষ্ণ পশু কোরবানি কোরেছেন। এর মধ্যে একটি গাভীও ছিল (ভগবত, দশম স্কন্দ, অধ্যায়-৫৮)।

এছাড়াও শ্রী-কৃষ্ণের জীবনী থেকে আমরা জানি তিনি ছোটবেলায় মেষপালক ছিলেন, যা এসলামের অনেক নবীর জীবনীতেও আমরা পাই।

এছাড়াও তাঁর জন্মের পূর্বে উনার জন্মকে ঘিরে ভবিষদ্বাণীও করা হোয়েছিল বলে জানতে পারি, যে ভবিষ্যদ্বাণীর প্রেক্ষিতে কংস রাজা বহু শিশু হত্যা করে।

শ্রীকৃষ্ণ এসেছিলেন দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন করার জন্য।

মহাভারতে আছে

“ধর্মব্যুচ্ছিতি মিচ্ছিন্তো যেই ধর্মস্য প্রবর্তকঃ অর্থাৎ- যারা ধর্মের উচ্ছেদ কামনা করে অধর্মের প্রবর্র্তন করে, সেই দুরাত্মাদেরকে বিনাশ করা একান্ত কর্তব্য (১২/৩৩/৩০)।

ধর্মদ্রোহীদের বিরুদ্ধে তাঁর সংগ্রাম ছিল আপোষহীন। তিনি কোনো নতুন ধর্ম প্রবর্তন করতে আসেননি (ভগবত ধর্মের প্রাচীন ইতিহাস, ১ম খণ্ড ১৭২ পৃ.)।

তিনি চির-সত্য, সনাতন অর্থাৎ ইসলাম ধর্মেই প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। মহাভারত বলছে, “সত্যে প্রতিষ্ঠিতঃ কৃষ্ণ সত্যমত্রা প্রতিষ্ঠিতম (মহাভারত ৫/৮৩/১২)।

তিনি কখনো ঈশ্বরত্বের দাবী করেন নি। তিনি ছিলেন একেশ্বরবাদী। “গীতার শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন একেশ্বরবাদী।"

ঘর সংসার সমাজ পরিবার-পরিজন নিয়ে তিনি বসবাস কোরেছেন। তার পিতা, মাতা, স্ত্রী, পুত্র সবই ছিল। তিনি জন্ম-মৃত্যুর অধীন মানুষই ছিলেন। যেমন মহাভারতে বলা হোচ্ছে “মানুষং লোকমতিষ্ঠ বাসুদেব ইতিশ্র“ত (মহাভারত ৬/৬৬/৮-৯)।

তিনি একাধিক বিয়ে করেছিলেন। তন্মধ্যে মামাতো ও ফুফাতো বোনদের মধ্যে ভদ্রা, মিত্রবিন্দাকে বিয়ে করেছিলেন। অন্যান্য স্ত্রীদের নাম-রুক্সিনী, কালিন্দী, সত্যা, জাম্ববতী, রোহিনী, লক্ষণা, সত্যভামা, তম্বী। এক কথায় তিনি ছিলেন, “মানুষীং যোনি মস্তায় চরিষ্যতি মহিতলে (মহাভারত ৬/৬৬/১০২)। অর্থাৎ এই ধরার বুকে একজন মানুষের মত মানুষ’। তাঁর যুগের আদর্শ মানব, মহামানব।

তিনি ছিলেন সত্য ধর্মের প্রচারক তথা বৈদিক ঋষিদের প্রচারিত ধর্র্মের বাহক ও প্রচারক যাহা ছিল সত্য, সুন্দর ও মঙ্গলের ধর্ম ইসলাম। সত্য ও সত্যধর্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। যেমন মহাভারত বলছে “নাস্তি সত্যাত পরোধর্ম” সত্যই ধর্র্ম আর ধর্মই সত্য। আর এই সত্য ধর্মের পবিত্রতা রক্ষায় শ্রীকৃষ্ণ ধর্মদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতেন। সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হওার পরে তিনি যুদ্ধের অনুমতি দিতেন (ভগবৎ পুরাণ ৫/১৫১/৪৫)।

অন্যান্য নবী-রসুলদের ন্যায় তিনিও অযথা রক্তপাত, অন্যায় যুদ্ধ পছন্দ করতেন না। ভগবৎ পুরাণ দেখুন তাই বলছে ঃ “সর্বোথা যতমানা নামযুদ্ধ ভিকাংষ্কতাম সান্তে প্রতিহতে যুদ্ধং প্রসিদ্ধং নাপরাক্রমঃ” (ঐ ৫/৭২/৮৯)। তিনি বলেছেন, এই ধর্মযুদ্ধে নিহত