চট্টগ্রাম   শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১  

শিরোনাম

কীর্তিমান সমাজ সেবক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর কর্মজীবন ও কমলগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ছলিমবাড়ী পরিবারের কৃতিত্ব 

জিএসএসনিউজ ডেস্ক :    |    ০৮:০২ পিএম, ২০২০-১১-০২

কীর্তিমান সমাজ সেবক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর কর্মজীবন ও কমলগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ছলিমবাড়ী পরিবারের কৃতিত্ব 

শাহ মোঃ মোতাহির আলী আজমী, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার): মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলা একটি বৈচিত্র্যময় উপজেলা, যে উপজেলার সুনাম-সুখ্যাতি রয়েছে দেশ ও বিদেশজুড়ে। চা বাগান, নৃ-গোষ্ঠী, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর এলাকা কমলগঞ্জ। এখানে জন্ম নিয়েছেন অসংখ্য দেশবরণ্য মানুষেরা। নিজ জন্মভূমি ছেড়ে অনেকেই বিদেশেও সমাদৃত হয়েছেন। কমলগঞ্জের এমনি এক আলোকিত সন্তান যুক্তরাজ্য প্রবাসী আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। শুধু দেশেই নয় বরং বিদেশেও কমলগঞ্জ তথা দেশের মানুষের মুখ উজ্জ্বল করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন নীরবে নির্ভৃতে। 
বংশ পরিচয়: সপ্তদশ শতকে খুশালপুরে বসতি স্থাপন করেন তরফ বিজয়ী সিপাহশালার সৈয়দ নাসির উদ্দিন (রহঃ)এর অধঃস্থন বংশধর সৈয়দ দিলাওয়ার আলী (রহঃ)। হবিগঞ্জের কালিনজুড়া সাহেব বাড়ি থেকে আগত এই ওলীর পৌত্র সৈয়দ কাছিম আলী (রহঃ) বিয়ে করেন এই চৌধুরী বংশেরই বিশিষ্ট জমিদার আহসান উল্ল্যাহ চৌধুরীর মেয়ে হালিমা ভানু চৌধুরীকে। পরবর্তীতে সৈয়দ কাছিম আলী (রহঃ ) এর পুত্র সৈয়দ আব্দুল মান্নান এমনকি এর পরবর্তী শিল্পপতি সৈয়দ রহমান আলী সাহেবের দুই মেয়ের বিয়ে হয় ওই একই পরিবারে। খুশালপুরের এই ঐতিহ্যবাহী সৈয়দ পরিবার আর চৌধুরী পরিবার যাদের অন্য একটি অংশ ছলিমবাজারে বিদ্যমান তাঁদের মধ্যে শুধু বৈষয়িক সম্পর্কই নয় পারিবারিক সম্পর্কও প্রায় দুইশত বছরের পুরোনো। অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার ভাদেশ্বর গ্রামের মোহাম্মদ আলম উল্ল্যাহ চৌধুরী ও ছলিম উল্ল্যাহ চৌধুরী ভ্রাতৃদ্বয় নিজ জমিদারি দেখা শুনার নিমিত্তে তৎকালীন আসাম ত্রিপুরা মহাসড়কের পার্শ্বাধীন খুশালপুর গ্রামের উত্তরাংশে বসত বাড়ি গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে ছলিম উল্ল্যাহ পাশের গ্রাম মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলাধীন শ্রীনাথপুরে বেশ কয়েকটি তালুক নিয়ে ছলিম বাড়ি আর ছলিম বাজারের ভিত্তি স্থাপন করেন। ঐতিহ্যবাহী ছলিমবাড়ীর মরহুম ছলিম উল্লাহ পরিবারে ১৯৬৩ সনে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। বাড়ির সুনির্মল পরিবেশে বড় হয়ে উঠেন ছলিম উল্ল্যাহর বংশধরদের মধ্যে এই প্রজন্মের অন্যতম প্রাণপুরুষ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর পিতার নাম মরহুম সিকন্দর আলী চৌধুরী আর মা আলেয়া বেগম চৌধুরী। তাঁর দাদার নাম হচ্ছে মরহুম মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরী। 
পিতার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর পিতা মরহুম সিকন্দর আলী চৌধুরী ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলার অন্যতম একজন সমাজ সেবক। সিকন্দর আলী চৌধুরী কমলগঞ্জ গণমহাবিদ্যালয় গভর্নিং বডির প্রথমে অভিভাবক সদস্য ও পরবর্তীতে সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দরিদ্রতা বিমোচনের জন্য কমলগঞ্জে গঠিত ‘আত্ম উন্নয়ন সংস্থা’ আউস গঠনের তিনি ছিলেন অন্যতম উদ্যোক্তা। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা কমলগঞ্জ ইউনিটের কোষাধ্যক্ষেরও দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ছাত্র জীবনে তুখোড় ফুটবল খেলোয়াড়ও ছিলেন। তিনি স্কুল পর্যায়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফুটবল, ভলিবল, হাইজ্যাম্প, লং জাম্প এ তাঁর কৃতিত্ব রয়েছে। তাঁর ঘনিষ্ট সহপাঠী ছিলেন কমলগঞ্জের স্বনামধন্য ঐতিহ্যবাহী সফাত আলী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষক ও ওলিয়ে কামিল হযরত শাহ আজম (রহ.) এর সুযোগ্য পুত্র মাওলানা শাহ্ মোঃ মোশররফ আলী। যিনি মোকামবাড়ী হুজুর নামেও পরিচিত ছিলেন। মরহুম সিকন্দার আলী চৌধুরী সহপাঠী ও বন্ধুদের যথাযথ সমীহ করতেন। তিনি একজন মহৎ প্রাণ মানুষই নয়, বিদ্যুৎসাহী ও সমাজ সংস্কারক হিসাবে সিকন্দর আলী চৌধুরীকে এখনও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে এলাকার মানুষ। 
জনহিতকর কর্ম ও ব্যবসা-বাণিজ্য: তাঁর চাচা নাজির উদ্দিন চৌধুরী কর্তৃক ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত নজরানা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ট্রাষ্টের তিনি ছিলেন অন্যতম ট্রাষ্টি। পাশাপাশি আমৃত্যু ট্রাষ্ট্রের সেক্রেটারীর দায়িত্বও পালন করেন তিনি। আশির দশকে বৃহত্তর সিলেটের শিল্প সাহিত্যে নিবেদিত মানুষদের নিয়ে গঠিত হয় কবি দিলওয়ার পরিষদ। কবি দিলওয়ারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও একজন একনিষ্ঠ শিল্প অনুরাগী হওয়ায় জনাব সিকন্দর আলী চৌধুরী কবি দিলওয়ার পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হওয়ার দুর্লভ গৌরব অর্জন করেন। দেশে ও বিদেশে বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ১৯৯৪সাল থেকে ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসরত।তিনি অলঙ্কৃত করেছেন বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন ও গ্রেটার সিলেট ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের ইন্টার ন্যাশনাল এফেয়ার্স সেক্রেটারীর মতো গুরুত্বপূর্ন পদ।  ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স ইন্ড্রাস্ট্রিজ এর অন্যতম একজন ডাইরেক্টর ছিলেন। যুক্তরাজ্য প্রবাসী মৌলভীবাজার জেলা সমিতির প্রতিষ্ঠাতা জয়েন্ট সেক্রেটারীও ছিলেন। কমলগঞ্জের প্রাবসীদের লন্ডন ভিত্তিক সর্ব বৃহৎ সংগঠন কমলগঞ্জ উপজেলা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের অন্যতম উপদেষ্টা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রেস সেক্রেটারী, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কাজী আক্তার উদ্দিনের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত ‘হিউম্যানিটি অব বাংলাদেশ’ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি এই সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা। ১৯৮৬-১৯৮৯ সাল পর্যন্ত সরকার মনোনীত মৌলভীবাজার জেলার বিশিষ্ট সমাজকর্মী হিসাবে জেলা সমাজ কল্যাণ পরিষদের সদস্য ছিলেন। কমলগঞ্জের প্রখ্যাত নজরানা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ট্রাষ্টের একজন ট্রাস্টির দায়িত্বের পাশাপাশি চৌধুরী সিকন্দর আলী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি অনেক মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিম খানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হত দরিদ্র, অসহায় মানুষের পাশে নিবেদিত ভাবে আর্থিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। তাছাড়াও অনেক ধর্মীয়, সামাজিক ও কল্যাণমূলক কাজে জড়িত রয়েছেন। 
জীবনবোধ: বংশীয় আভিজাত্য রক্ষা করে পরিপাটি চলাফেরা আর মার্জিত রুচিবোধ সম্পন্ন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে বলতে হয় অনেকটাই এ যুগের ছলিম উল্ল্যাহর নতুন সংস্করন। কমলগঞ্জের অত্যন্ত অভিজাত ও সম্ভ্রান্ত পরিবার হিসাবে এই চৌধুরী পরিবার তাঁদের অতীত ঐতিহ্য এখনও ধরে রাখতে সচেষ্ট। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর আচার ও আচরণে যেমনি আভিজাত্যের অহমিকা ফুঁটে উঠে তেমনি শিশুর সারল্য দেখা যায়। একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজ কর্মী হিসাবে দেশে ও বিদেশে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সমাদৃত। প্রচার বিমুখ এই মানুষটি নীরবে আর নিভৃতে মানুষের জন্য কাজ করাটাকে পছন্দ করেন যেমনটি তাঁর পূর্ব পুরুষরা করে গেছেন। 
 আলোকিত বংশধরেরা : ভাদেশ্বর থেকে খুশালপুরে আগত এই চৌধুরী বংশেই জন্ম নিয়েছেন বরেণ্য রাজনীতিবিদ, সিলেট অঞ্চলের রাজনীতির প্রবাদপুরুষ, বাংলাদেশের সুমহান মুক্তিযুদ্ধের ৪নং সেক্টরের প্রধান রাজনৈতিক সমন্বয়ক, কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল থেকে নির্বাচিত আজীবন মহান জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য, মোহাম্মদ ইলিয়াস (এম.পি), জমিদার আহসান উল্ল্যাহ চৌধুরী, আর খান বাহাদুর, ডাক্তার বজলুল হাসান চৌধুরীর মতো দেশ বিখ্যাত মানুষ। এই প্রজন্মের গর্বিত উত্তরাধিকারী হচ্ছেন বিএনপি জাতীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্জ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব), জেলা শিল্পকলা একাডেমি এ্যাওয়ার্ড ও সৈয়দ মাসুম ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্ট সম্মাননা পদক প্রাপ্ত প্রখ্যাত কলামিস্ট, লেখক ও লোক গবেষক আহমেদ সিরাজ, কমলগঞ্জ উপজেলার সাবেক নন্দিত চেয়ারম্যান শামীম আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ। স্বাধীনতাত্তোর সময়ে কমলগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মরহুম আলতাফুর রহমান চৌধুরী আলতু, তিনিও একই রক্তধারা প্রসূত।                             
চাচার মানবিক কর্মজীবন: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর চাচা নাজির উদ্দিন চৌধুরী ষাটের দশকে উচ্চ শিক্ষার্থে বিলেত আসেন। কমলগঞ্জ থেকে প্রথম দিকে বিলেত গমনকারীদের মধ্যে তিনিও একজন। ব্রিটেনের রয়ষ্টনে ১৯৬৭ সালে নাজির উদ্দিন চৌধুরী প্রতিষ্ঠা করেন ব্রিটিশ রাজ রেষ্টুরেন্ট। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রিটেনের ব্যবসায়ীদের প্রাচীনতম সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন এর তিনি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। যুক্তরাজ্যস্থ ঐতিহাসিক ব্রিট্টিশ-বাংলাদেশ ক্যাটারার্স ভবন ক্রয়ে জনাব নজির উদ্দিন চৌধুরী এক বিরাট অংকের নগদ অর্থ প্রদান করেন, বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন এর তিনি একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যই নয় দাতা সদস্যও বটে। আশির দশকের প্রথম দিকে তাঁর ব্যবসায়িক সুনাম আর ব্যক্তিগত দক্ষতার বলে তিনি এই প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ অলঙ্কৃত হন।
ভাই-বোন: ছয় বোন আর দুই ভাইয়ের মধ্যে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী হচ্ছেন সবার বড়। তাঁর বোনদের মধ্যে দিলরুবা চৌধুরী কমলগঞ্জ উপজেলা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ইউকের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা। শাহনাজ সুলতানা চৌধুরী কমলগঞ্জস্থ বৃহৎ চ্যারেটি সংস্থা অরফান এ্যাকশনের কর্নধার। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ছোট ভাই কামরুল হাছান চৌধুরীও সামাজিক ও বৈষয়িক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। কামরুল হাছান চৌধুরীর প্রত্যক্ষ তত্তাবধানেই পরিচালিত হয় নজরানা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ট্রাষ্ট অরফান এ্যাকশন ও চৌধুরী সিকন্দর আলী ফাউন্ডেশনের জনহিতকর কার্যক্রম। কামরুল হাছান চৌধুরী নজরানা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ট্রাষ্টের ট্রাষ্টি ছাড়াও চৌধুরী সিকন্দর আলী ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর বোন ফেরদৌস আরা চৌধুরী, দিলরুবা চৌধুরী, নাছিমা আক্তার চৌধুরী আইরিন চৌধুরী হ্যাপি, শাহনাজ সুলতানা চৌধুরী ও রেহানা চৌধুরী (মণি) সকলেই চৌধুরী সিকন্দর আলী ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি। 


সন্তানাদি ও তাদের কর্মজীবন: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর একমাত্র মেয়ে নিশাত তাসনিম চৌধুরীও চৌধুরী সিকন্দর আলী ফাউন্ডেশনের ট্রাষ্টি, তিনি পেশায় একজন শিক্ষানবীশ আইনজীবী। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত চৌধুরী সিকন্দর আলী ফাউন্ডেশনের ডাইরেক্টর জেনারেল হিসাবে আছেন তাঁর পুত্র ট্রাস্টি মোহাম্মদ আলী সাফওয়ান চৌধুরী। আর অন্যান্যদের মধ্যে ট্রাষ্টি হিসাবে আছেন তাঁর মা আলেয়া বেগম চৌধুরী, স্ত্রী জেনিফা চৌধুরী, ভ্রাতৃ বধূ নাজু হাসান চৌধুরী ও প্রখ্যাত কলামিস্ট, লেখক ও লোক গবেষক আহমেদ সিরাজ। ব্রিটিশরাজ রেস্টুরেন্টটি এখন আর না থাকলেও এরই ধারবাহিকতায় উত্তরসূরি হিসাবে এখন রয়স্টনে আছে ব্রিটিশরাজ এক্সপ্রেস। প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্নধার হচ্ছেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর একমাত্র পুত্র মোহাম্মদ আলী সাফওয়ান চৌধুরী।
কমলগঞ্জ উপজেলা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ইউকের সোসিয়্যাল ওয়েলফেয়ার সেক্রেটারী হার্ডফোর্ড শায়ার ইউনিভার্সিটি থেকে মার্কেটিং এ গ্রেজুয়েট সাফওয়ান ইতিমধ্যে তাঁর ব্যবসায়িক সফলতা আর কর্মদক্ষতার গুনে মুখোমুখি হয়েছেন বিবিসি সহ বেশ কয়েকটি ব্রিটিশ মূলধারার প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার। কোভিড-১৯ আক্রান্ত কালীন বিপর্যস্ত ব্রিটেনে এন এইচ এস কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে রয়স্টন, কেমব্রিজ ও লন্ডনের হাজার হাজার এনএইচএস কর্মীরা তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বিনামূল্যে খাবার সরবরাহ করেছেন। স্বীকৃতি হিসাবে হার্ডফোর্ডশায়ার কাউন্ট্রির HER MAJESTY THE QUEENÕS LORD-LIEUTENANT OF HERTFORDSHIRE I HIGH SHERIFF OF HERTFORDSHIRE জনাব সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও তাঁর সুযোগ্যপুত্র মোহাম্মদ আলী সাফওয়ান চৌধুরীকে ‘হিরো অব হার্ডফোর্ডশায়ার’ সনদে করেছেন সম্মানিত। একত্রে পিতা-পুত্রের প্রাপ্ত এ সম্মননা সত্যিই বিরল। যা যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও কমলগঞ্জ বাসীদের জন্য দুর্লভ সম্মানের। 
ব্রিটেনের তৃতীয় প্রজন্মের ব্রিটিশ বাংলাদেশী কারী ব্যবসায়ীদের নিকট মোহাম্মদ আলী সাফওয়ান চৌধুরী একটি মডেলই নয় অনুপ্রেরণার উৎসও বটে।

শেষ কথা: ‘মানুষ মানুষের জন্য” এ বাক্যটির প্রমাণ মিলে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের জনহিতকর কাজে। পরিবারটি চিরকাল বেঁচে থাকুক কমলগঞ্জের মাটি ও