শিরোনাম
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : | ১০:১৭ পিএম, ২০২৫-১০-০৬
শরীয়তপুর থেকে ফিরে বিশেষ প্রতিনিধি: শরীয়তপুর সদর উপজেলার ধানুকা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে একটি দুর্ধর্ষ জালিয়াত চক্র সরকারি ও দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে—ধানুকা গ্রামের ৮০ নম্বর নিবাসী ফজলুল হক বেপারী গং (পিতা মৃত মো. বেপারী) ১৯৫৮–৫৯ সনের একটি জাল নিলামের নকল দলিল তৈরি করে প্রায় ১৪.৭৯ একর সরকারি জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাদের এই নকল নিলাম দলিলের নম্বর ৭১সি, যা পর্যালোচনায় অসংখ্য অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা শ্রী গোবিন্দ চক্রবর্তী (বর্তমানে নড়িয়া উপজেলা কার্যালয়ে সংযুক্ত) এই চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। একাধিক সূত্রের দাবি, এই সংঘবদ্ধ চক্র সরকারি ও স্থানীয় মানুষের সহ-সম্পত্তি কৌশলে আত্মসাতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্তের দাবি তুলেছেন অভিজ্ঞ মহল। অবৈধ নিলামের অজুহাতে সরকারি সম্পত্তি বেদখল বিশেষজ্ঞদের মতে, তথাকথিত এই নিলামে মোট ১৯টি খতিয়ানের ৭০টি দাগ দেখানো হয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে দেবোত্তর সম্পত্তি, জেলা পরিষদের জমি, এমনকি শরীয়তপুর পুলিশ সুপার (S.P) কার্যালয়ের জমিও! অথচ, Public Demands Recovery (P.D.R.) Act অনুযায়ী কোনো সার্টিফিকেট মামলায় এত বিপুল পরিমাণ জমি নিলাম হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তদন্তে আরও দেখা গেছে, এই ১৪.৭৯ একর জমি মাত্র ১৩৬ টাকায় নিলামে খরিদ দেখানো হয়েছে—যা সম্পূর্ণ অবাস্তব এবং চরম প্রতারণার উদাহরণ। আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, তথাকথিত ওই নিলামে বয়নামা ও দখলনামা থাকলেও চালানের কোনো কপি নেই, অর্থাৎ টাকা জমার কোনো প্রমাণ নেই—যা একে প্রকৃত অর্থেই ‘চালানশূন্য নিলাম’ প্রমাণ করে। ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্র এলাকার সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। কেউ ঘরবাড়ি নির্মাণ বা জমি বিক্রির চেষ্টা করলেই জাল কাগজ দেখিয়ে বাধা দেওয়া হয়। অর্থের বিনিময়ে মামলা ‘মিমাংসা’ করার নাটকও করছে তারা। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতারণার পেছনে একাধিক প্রভাবশালী গডফাদারের ছত্রছায়া রয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশ অমান্য ১৯ ডিসেম্বর ১৯৮৫ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার P.D.R. Act-এর ৫৩ ধারা অনুযায়ী উক্ত জাল নিলাম (৭১সি/১৯৫৮-৫৯) বাতিল ঘোষণা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। আবারও জাল নকল দাখিল আদালতে সর্বশেষ, ১৬ মার্চ ২০২৫ তারিখে শরীয়তপুরের যুগ্ম জেলা জজ আদালত-১ এ চলমান দেওয়ানি আপিল মামলা (নং–৪৯/২০২২)-এ চক্রটি ফের একই জাল নিলামের একটি সহী মোহরী নকল দলিল দাখিল করে। ওই নকল দলিলে ফরিদপুর রেকর্ড রুমের তিন কর্মকর্তার নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহৃত হয়েছে— ১️ মো. আকবর আলী বিশ্বাস ২️ মো. আমিনুর হোসেন ৩️ সুজন পাল কিন্তু বর্তমান রেকর্ডকিপার আবু বকর নিশ্চিত করেছেন যে, দলিলটি সম্পূর্ণ জাল এবং উল্লিখিত কর্মকর্তারা কোনোভাবেই তাতে স্বাক্ষর করেননি। দ্রুত তদন্তের দাবি এলাকার সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা এই ভয়ঙ্কর প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের যৌথ তদন্ত ও হস্তক্ষেপই এখন সময়ের দাবি শরীয়তপুরে সরকারি ও দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের এই জাল নিলামচক্র শুধু প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রতারণা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর সরাসরি আঘাত। অবিলম্বে এর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে, ভবিষ্যতে এমন চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : বেঞ্জামিন রফিক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ(৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ ...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাত্র ৮০ টাকা রোজে লোড-আনলোডের শ্রমিক থেকে শ্রমিক লীগ ন...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত নকলনবিশ মোসাব্বির আহমেদ কিরণের বিরুদ্...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : আলম খান: জাকের পার্টি মৃত্তিকা খনন ফ্রন্টের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দ...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : নরসিংদী প্রতিনিধি :নরসিংদী সদর উপজেলা চিনিসপুর নন্দীপাড়া মৌজায় ৪ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট জায়গার উপ...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও ১২ সদস্য নি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 gssnews 24 | Developed By Muktodhara Technology Limited