শিরোনাম
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : | ০৪:৩৪ পিএম, ২০২৩-০৯-২৪
রোকনুজ্জামান সবুজ জামালপুরঃ ইসলামপুর উপজেলার বারটি ইউনিয়ন একটি পৌরসভা নিয়ে জামালপুর-২ নির্বাচন আসনটি গঠিত। এ আসনটি আওয়ামী লীগের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে সু পরিচিত হলেও। এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের কোন্দল অবস্থান রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ১১ তম সংসদ নির্বাচনের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামীলী আট বার,জাতীয় পার্টি এক বার এবং বিএনপির দুইবার জাতীয় সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন। জাতীয় পার্টি এবং বিএনপির আমলে এক বার করে মোট দুইবার সংসদ নির্বাচন অংশ গ্রহন করেনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। এছাড়া ৯ বার অংশ গ্রহন করে মোট আট বার আওয়ামীলী,দুই বার বিএনপি এবং এক বার জাতীয় পাটি (জাপা) আসন ধরে রেখে ছিল। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-২ আসনে দলের মনোনয়ন পেতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাত জন চেষ্টা চালাচ্ছেন, একই ভাবে বিএনপির দুইজন এবং জাতীয় পার্টির একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী এলাকায় জোড় প্রচার- প্রচারণা চালাচ্ছে। তাকিয়ে আছেন কেন্দ্রের নির্দেশনার অপেক্ষায়। তবে বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা-না করা নিয়ে কেন্দ্রের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাই বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রচার-প্রচারনার দিক থেকে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছেন। জানাগেছে, আওয়ামীলীগ প্রার্থী প্রয়াত সাবেক ভূমি প্রতিমন্ত্রী রাশেদ মোশাররফ ৬বার নির্বাচন করে ৫বার জাতীয় সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হয়ে একবার তিনি ভূমিপ্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ইং সালে সংসদ নির্বাচনে দলীয় কোন্দলের কারণে তিনি বিএনপির প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বাবুর কাছে পরাজিত হন। পরবর্তি ২০০৮ইং সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হিসাবে আলহাজ ফরিদুল হক খান (দুলাল) তিনি বিএনপির প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বাবুকে পরাজিত করে এমপি পদে নির্বাচিত হন। পরবর্তি তিনি টানা ৩বার নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন ফরিদুল হক খান (দুলাল)এমপি। এ ছাড়া ১৯৮৮ইং সালে আওয়ামীলী সংসদ নির্বাচন বর্জন করায় জাতীয় পার্টি (জাপা) এর প্রার্থী সাবেক ডাকসুর জিএস আশরাফ উদ দৌল্লাহ পাহলোয়ান এমপি পদে দায়িত্ব পালন করেন। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামপুর বৃহৎ তিনটি দলের মধ্যে বিএনপি-জামায়াত জোট শুধু নির্দলীয়, নিরপেক্ষ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে নির্বাচন দাবীতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালন করে যাচ্ছেন। অপর দিকে ক্ষমতাসিন দল আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টি (জাপা) দল নির্বাচনী সভা-সমাবেশ,পোষ্টার,ব্যানার,শোডাউনের পাশাপাশি এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। জামালপুর-২ ইসলামপুর আসনে ক্ষমতাসিন আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ৭জনের নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন,বর্তমান সংসদ সদস্য, ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, ফরিদুল হক খান (দুলাল)এমপি। তিনি একজন সফল পাট ব্যবসায়ী থেকে ৯০ দশকে তিনি উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পার্টি (জাপায়) যোগদেন। ৯১সালে গণ আন্দোলনের পরবর্তি উপজেলা পরিষদ বাতিল হলে তার চেয়ারম্যান পদও বাতিল হয়ে যায়। ১৯৯৬ ইং সনে তিনি সাবেক ভুমি প্রতিমন্ত্রী রাশেদ মোশাররফ এমপির হাত ধরে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। ২০০৮ইং সালে তিনি হাজী রাশেদ মোশাররফ এর সাথে দলীয় মনোনয়ন প্রতিদ্বন্দিতা করে বাগিয়ে নিয়ে বিজয়ী হন। পরবর্তি রাশেদ মোশাররফের মৃত্যুর পর তিনি টানা ৩ বার এমপি পদে বিজয়ী হয়ে বর্তমানে ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এবারও মনোনয়ন পেতে মরিয়া হয়ে কাজ করে যাছেন তিনি। অপরদিকে ফরিদুল হক খান প্রথমবার এমপি হয়ে তিনি দুর্দ্দিনের কান্ডারী পরীক্ষিত আওয়ামীলীগ,প্রবীণ আ'লীগ,বংশগত ও পারিবারিক আ'লীগ এমনকি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক,যিনি ছাত্রলীগ,যুবলীগ এবং সর্বশেষ আ'লীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে অবদান রেখেছেন। তার আমলে ঐসব নেতাদের বাদ দিয়ে হাইব্রিড এমনকি নব্য আ'লীগ দিয়ে তিনি উপজেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন-ওয়ার্ড কমিটি স্থান দিয়ে নিজেকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলেছেন। ফলে দূর্দিনের ত্যাগি,পরীক্ষিতরা বাদ পড়ায় দলের মধ্যে কোন্দল সৃষ্ঠি হয়েছে। কারণে ত্যাগি নেতা-কর্মীরা বঞ্চিত হয়ে নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্ধি হতে যাচ্ছেন। বিশেষ করে আওয়ামী রাজনীতিতে যার সবচেয়ে বেশী অবদান এমনকি দীর্ঘ দিন দায়িত্ব পালন করছেন জিয়াউল হক জিয়া এর সাথে তিনি সর্ব প্রথম উপজেলা সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করে এমপির প্রভাব খাটিয়ে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। তারপর থেকে ফরিদুল হক খান (দুলাল) এমপি পিছনে দিকে তাকাতে হয়নি তার। তিনি এমপি এবং উপজেলা আ’লীগের সভাপতি হওয়ার সুবাদে গত সাড়ে ১৪বৎসরে বিএনপি-জামায়াত থেকে অগণিত হাইব্রীড নব্য আওয়ামীগ তৈরি করে নিজের দল ভারী করেছেন। ফলে দুর্দ্দিনের কান্ডারী পরীক্ষিত সৈনিক, প্রবীণ আওয়ামীলীগ এবং বংশগত ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক,নামে এলাকায় যারা সুপরিচিত তাদের বাদ দিয়ে উপজেলা কমিটি থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে তার পছন্দনীয় হাইব্রীড এমনকি নব্য আওয়ামীলীগ কমিটিতে স্থান দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যার পরিপেক্ষিতে তার বিরোদ্ধে ত্যাগি-পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা বর্তমানে ফুঁসে উঠেছে। কারণ তার বিরোদ্ধে কেউ প্রতিদ্বন্দিতা করতে চাইলে তাকে রাজনৈতিক কোণ ঠাসা করাসহ বিভিন্ন ধরনের হয়রানী শিকার এমনকি শাররীক ও মানষিক ভাবে হেনেস্তর শিকার করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগি নেতা/কর্মীরা। বিশেষ করে তার হাত থেকে রেহাই পাননি জামালপুর-শেরপুর জেলার সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি বেগম হোসনে আরা। ৩ বারের সফল মেয়র আব্দুল কাদের সেখ, বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডঃ জামাল আব্দুন নাছের বাবুল প্রমুখ। এছাড়া কমিটিতে ঠাঁই হয়নি সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি,পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি নুর ইসলাম নুর,তৎকালিন ছাত্র নেতা,যিনি ইসলামী ছাত্র শিবির এর হাতে নির্মম ছুরিকাঘাতে পেটের ভোরি পেঁচে ২মাস হাসপাতালে মৃত্যুও সাথে পাঞ্জা লড়েছেন সেই মৃতুঞ্জয়ী এসএম জাহাঙ্গীর। ৯০গণ আন্দেলনের সারা জাগানো উপজেলা ছাত্রলীগের তৎকালিন সভাপতি,মীর জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, ঠাঁই হয়নি প্রয়াত মীর হুমায়ুন কবীর গণির পরিবারের সদস্যদের মত অসংখ্য বংশগত/পরিবারিক ভাবে আওয়ামী পরিবার হিসাবে পরিচিত তাদের। এ কারণে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলী দলটি পরীক্ষিত দূর্দিনের আ'লীগ বনাম হাইব্রিড নব্য আ'লীগের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি হয়ে পড়েছে। যদি দুইপক্ষের বিভেদ মিটানো সম্ভব না হয়,তা’হলে গত ২০০১ সালের মত আসনটি হাত ছাড়া হতে পারে বলে এলাকার অভিজ্ঞমহল মনে করছেন। এছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাশীরা অন্যান্য হলেন,স্বাধীনতার পর থেকে দুর্দ্দিনের কান্ডারী দীর্ঘদিনের আওয়ামী পরীক্ষিত সৈনিক,যিনি ছাত্রলীগ,যুবলীগ এবং সর্বশেষ আওয়ামীলীগের সভাপতি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন, বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা জিয়াউল হক জিয়া। জামালপুর-শেরপুর জেলার বর্তমান সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি বেগম হোসনে আরা। ৯০দশকে গণ আন্দেলনে সারা জাগানের ছাত্র নেতা,সাবেক উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক,বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তিন বারের সফল মেয়র,আব্দুল কাদের শেখ। জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক উপদেষ্টা ও বিমানবন্দও থানা আ’লীগের সাবেক সভাপতি শাহজাহান আলী মন্ডল। সাবেক আওয়ামীলীগের অন্যতম নেতা কৃষিবিদ মঞ্জুর মুর্শেদ হ্যাপী। এবং ৮৫ দশকের পরবর্তি উপজেলা আওয়ামীলীগের দুর্দ্দিনের কান্ডারী সাবেক থানা ও পরবর্তি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রয়াত ডাঃ খোরশেদুজ্জান মিশ্রি মিয়া এর সুযোগ্য কণিষ্ঠ সন্তান বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য,শাহিনুজ্জামান শাহিন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে জোর প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ আসনে বিএনপি’র দলীয় মনোনয়ন প্রতার্শী দুইজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন,উপজেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি, সাবেক এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু এবং মনোনয়ন চাইবেন সাবেক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক,বর্তমানে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নবী নেওয়াজ খান লোহানী বিপুল। এ আসনে জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হলেন,জাতীয় পার্টি (জাপা)র প্রেসিডিয়াম সদস্য, জামালপুর জেলা ও ইসলামপুর উপজেলা সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ। তিনি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তার দলের নেতা/কর্মী সমর্থক নিয়ে জোরেসুরে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন,আমি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আদর্শের একজন সৈনিক। দলীয় মনোনয়ন পেলে এ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আসনটি জাতীয় পার্টিকে উপহার দেব। সর্ব্বোপরি বিএনপি নির্বাচনী মাঠে নেই,ক্ষমতাসিন আওয়ামীলীগের অধিক প্রার্থী এবং দ্বিধাবিভক্তি,দলীয় কোন্দলের কারণে জাতীয় পার্টি (জাপা) একক প্রার্থী হিসাবে ভাল অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসি।
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : রোকনুজ্জামান সবুজ জামালপুরঃ জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে কৃষকের মাঠে-মাঠে সবুজে...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : নিউজ ডেস্ক: বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বার্তাসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, গতকাল (মঙ্গলবার) বাংলাদেশের হাইকমিশ...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : সরাইল(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নয়স্থ ১নং ও ২ ন...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : নিউজ ডেস্ক: চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের আগে প্রতি বছর যে পরিমাণ মানুষ কারা হেফাজতে মারা যেতেন, সেই ...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : নিউজ ডেস্ক : সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় নি...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : রোকনুজ্জামান সবুজ জামালপুরঃ শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর আত্মার মাগফিরাত কামনা ও বিএনপি`...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 gssnews 24 | Developed By Muktodhara Technology Limited