শিরোনাম
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : | ০৬:২৫ পিএম, ২০২৪-০৮-১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশি অর্থায়নে চট্টগ্রাম বন্দরে Bay Terminal নির্মান প্রকল্প চলমান।এরই মধ্যে এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িরা। তারা বলছেন, সরকারি ও বেসরকারিভাবে বর্তমানে যে জেটিগুলো কার্যকর ও নির্মাণাধীন আছে সেগুলিই এখনো ঠিকমতো ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এসব জেটির মাত্র ৫০% ব্যাবহৃত হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রনাধীন জেটির সংখ্যা ১৭ টি, যার মধ্যে ১১ টি কন্টেইনার জেটি, বাকি ৬টি বাল্ক কার্গো জেটি এছাড়াও সরকারী ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান জেটিগুলি, পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (PCT) এর জেটি ডলফিন ওয়েল জেটি, গ্রেইন সাইলো জেটি, সিমেন্ট ক্লিংকার জেটি, টিএসপি জেটি, CUFL জেটি, ড্রাই ডকের জেটি, KAFCO Urea জেটি, Eastern Refinery Ltd (ERL), পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানসমূহের নিজস্ব জেটি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ড্রাইডকের দুটি জেটি যাহা ১১ মিটার ড্রাফট পর্যন্ত জাহাজ হ্যান্ডলিং করতে পারে, তাহা কার্যকর আছে। উপরন্ত প্রস্তাবিত মাতারবাড়ি সি পোর্টের দুইটি জেটি, MARESK Lines র লাল দিয়ার চরে চারটি জেটি এবং কর্ণফুলী ড্রাইডকের আরো ৪টি জেটি সরকারি অনুমোদন প্রাপ্ত হয়ে নির্মাণাধীন বা নির্মাণ প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে।
উপরোক্ত হিসাব মতে বন্দরের স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় মোট প্রায় ৩৭ টি জেটি রয়েছে। ৬টা নির্মাণাধীন/ নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন জেটিগুলো সহ চট্টগ্রামে মোট জেটির সংখ্যা ৪৩ টি।
২০১৯-২৩ সাল সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের ১১ টি কনটেইনার জেটি ও ৬টি কার্গো জেটি দিয়ে গড় হিসাবে বৎসরে ৩.৩ মিলিয়ন টি ই ইউ এবং ৬ কোটি টন বাল্ক কার্গো হেন্ডলিং করা হয়। আন্তর্জাতিক রিসেশন এর কারণে বাৎসরিক মালামাল ওঠানামার সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এ সময়ের মধ্যে বন্দরে জাহাজ আগমনের পরিমাণ অনেক কমেছে । বর্তমানে কন্টেইনার এবং বাল্ক কার্গোর হ্রাসকৃত চাহিদার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের ১৭টি জেটির মধ্যে সবসময়ই দুই-চারটি জেটি অলস অবস্থায় বসে থাকে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন সংবাদপত্রের সংবাদ ও রিপোর্ট সংযুক্ত হলো।
এখানে উল্লেখ্য যে সিমেন্ট ক্লিংকার, ড্রাইডক এবং কর্ণফুলী জেটি সহ অন্যান্য জেটি সমূহ কারগোর অভাবে খালি থাকে। তাছাড়া পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের (PCT)র ৩ জেটি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও সচরাচর জাহাজের দেখা মেলে না। MARESK Lines র এর জেটি চালু হলে বন্দর ৪০% কন্টেইনার কার্গো হারাবে । সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে অনুমোদিত জেটিগুলো যাহার মধ্যে কিছু কার্যকর, কিছু নির্মাণাধীন এবং কিছু নির্মান প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে, সেগুলি পূর্ণভাবে চালু হলে দেশের বাৎসরিক কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ক্যাপাসিটি হবে নিম্নরূপ: চট্টগ্রাম বন্দরের ৩.৩ মিলিয়ন, MARESK Line-এর ২.০ মিলিয়, কর্ণফুলী’র ২.০ মিলিয়ন, পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের ১.০ মিলিয়ন, অর্থাৎ মোট ৮.৩ মিলিয়ন TEUS I এই ৮.৩ মিলিয়ন টি ই ইউ ক্যাপাসিটি সম্পন্ন জেটি গুলোর চাহিদা ১০০% মেটাতে আরও ৩০ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।
মাতারবাড়ি ডিপ সি পোর্ট যেখানে ১৪ থেকে ১৬ মিটার deep draft র জাহাজ ভিড়তে পারবে বলে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে সেটি চালু হলে আরও ৩ মিলিয়ন টিইইউ হ্যান্ডলিং ক্যাপাসিটি যোগ হবে। ফলে দেশের কনটেইনার জেটিগুলি বাৎসরিক মোট হ্যান্ডলিং ক্ষমতা হবে প্রায় ১১.৩ মিলিয়ন টিইইউ, যার ১০০% চাহিদা মেটাতে বর্তমান ও সম্ভাব্য ভবিষ্যত চাহিদা বিবেচনায় কমপক্ষে আরো ৫০ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।
বাস্তব অবস্থা যখন এতটাই ভয়াবহ, অর্থাৎ যখন দেশের বিদ্যমান জেটি গুলি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে, বন্দর ও অন্যান্য সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে জেটির জন্য বিনিয়োগকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার যেখানে অগ্রাধিকার পাওয়ার দাবি রাখে, যেখানে দেশের কন্টেইনার কারগো ও বাল্ক কারগোর, বর্তমান ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ চাহিদা অনুপাতে বিদ্যমান জেটির সংখ্যা ও ক্যাপাসিটি অনেক গুণ বেশি এবং সাধারণ বিবেচনায়ও এটি পরিষ্কার যে বর্তমানে বন্দরের জেটি ও অন্যান্য বিদ্যমান ও নির্মাণাধীন জেটি সমূহের ১০০% চাহিদা মেটাতে আরো ৫০ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে, যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি অপ্রয়োজনীয়, অনিশ্চিত এবং ব্যয়বহুল প্রকল্প বাদ দিতে বলেছেন। সেই অবস্থায় বে টারমিনাল এর মত অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি প্রকল্প যাহার অর্থনৈতিক সূচক সমূহ IRR, BCR কোনভাবেই ইতিবাচক নয় এবং যেটা গ্রহণ করলে Required Port Charges এত বেশি হতে পারে, যার কারনে বাংলাদেশ আঞ্চলিক দেশ সমূহের বন্দরগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় হেরে যেতে পারে, সেটা জাতির উপর চাপিয়ে দেওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বই কিছুই নয়।
এখানে উল্লেখ্য যে সম্প্রতি বিশেষজ্ঞগণ এবং কনসালটেন্টসগন এর বে টারমিনাল এর ব্যাপারে যতগুলো সমীক্ষা করেছেন তার সবগুলিতেই নেতিবাচক সুপারিশ করেছেন। বর্তমান বন্দর নিজস্ব সুযোগ সুবিধা ব্যবহার করে বৎসরে যে 2000 থেকে ২৫০০ হাজার কোটি টাকা উপার্জন করছে, বে টারমিনাল নির্মান হলে বন্দর সেই উপার্জন ও হারাবে।
যদিও চট্টগ্রাম বন্দর সম্প্রসারণে এক দশক আগে নেওয়া নতুন ‘বে টার্মিনাল’ প্রকল্প নতুন করে গতি পাচ্ছে। এই প্রকল্পের জন্য প্রতীকী মূল্যে ৫০১ একর জমি দেওয়ার প্রক্রিয়া গত মে মাসে চূড়ান্ত হয়েছে। গত শুক্রবার প্রকল্পের ব্রেক ওয়াটার বা স্রোত প্রতিরোধক তৈরি এবং জাহাজ চলাচলের পথ তৈরি তথা খননকাজের জন্য ৬৫ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পর্ষদ।
বিশ্বব্যাংকের নতুন এই ঋণ অনুমোদনের সুবাদে বে টার্মিনাল প্রকল্পের উন্নয়নকাজে গতি পাওয়ার বিষয়টি আবার সামনে এসেছে। এই প্রকল্প এলাকা চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান টার্মিনাল এলাকার চেয়ে বড়। বন্দর জলসীমার
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : শরীয়তপুর প্রতিনিধি : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন পরীক্ষিত সংগঠক ও প্রবাসী রাজনীতির ...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : গিয়াস রনি,নোয়াখালী: প্রতিনিধি ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক তরুণকে ছুরিক...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : নিউজ ডেস্ক: সদ্য স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী সন্তান হারানো বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) সভাপতি ...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : নিউজ ডেস্ক: অনলাইন বিবাহ-তালাক রেজিস্ট্রেশন চালু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদ...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : নিউজ ডেস্ক:ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিন জারা ‘ফুটবল’ প্রতীক পেয়েছেন। বুধবার (২১ জা...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : সিলেট প্রতিনিধি: ২০০৪ সালের বিএনপির ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনের পরপ্রায় ২২ বছর পর সিলেটে আসছেন বি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 gssnews 24 | Developed By Muktodhara Technology Limited