চট্টগ্রাম   শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১  

শিরোনাম

দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার আন্তর্জাতিক নারী পাঁচারকারী চক্রের গডফাদার জামাত নেতা ভূয়া সাংবাদিক আজম খানের কু-কীর্তির খতিয়ান 

জিএসএসনিউজ ডেস্ক :    |    ০৮:৪৫ পিএম, ২০২০-০৮-১৫

দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার আন্তর্জাতিক নারী পাঁচারকারী চক্রের গডফাদার জামাত নেতা ভূয়া সাংবাদিক আজম খানের কু-কীর্তির খতিয়ান 

আসাদুজ্জামান বাবুল : সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া  আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের গডফাদার জামাত নেতা ভূয়া সাংবাদিক আজম খানের সীমাহীন কু-কীর্তি একটার পর একটা বেরিয়ে আসছে। তিনি দুবাই, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে শত শত সুন্দর চেহারার তরুণী-কিশোরী মোট বেতনের প্রলভোন দেখিয়ে পাঁচার করেছেস। জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিতে সক্রিয় এই অপরাধী কয়েকজন সাংবাদিক নেতার হাতধরে নারায়নগঞ্জ ঢাকায় চক্র গড়ে তুলেছেন।

দুবাইয়ে তার ফাইভ স্টার হোটেলসহ দুবাইয়ের ফরচুন পার্ল হোটেল এ্যান্ড ড্যান্স ক্লাব, হোটেল রয়েল ফরচুন, হোটেল ফরচুন গ্রান্ড হোটেল সিটি টাওয়ার নামে পাঁচটি হোটেল আছে। সেখানে নাচ, গান, মদ-পানীয়সহ অসামাজিক কাজ চলে। জামাত বিএনপি, শীর্ষনেতারা এবং তাদের সাংবাদিক নেতারা দুবাই গেলেই উঠতেন আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের গডফাদা আজম খানের হোটেলে এমনটাই দাবীতার। সম্প্রতি এই কুখ্যাত নারী পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।

প্রথমে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিতে জড়িত ছিল আজম খান। এরপর একজন প্রভাবশালী সাংবাদিক নেতা তার সাঙ্গপাঙ্গদের দীর্ঘদিন নানামূখী সেবাযত্ন করাই সাংবাদিক নেতার আর্শিবাদেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন। তিনি শুধু বিএনপি রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়েই ক্ষান্ত হননি। এই আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের গডফাদার জামাত নেতা আজম খানকে ভূয়া সাংবাদিক বানিয়ে সাংবাদিকদের প্রাণপ্রিয় সংগঠন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য বানিয়ে সাংবাদিকদের র্তীথস্থান জাতীয় প্রেসক্লাব অঙ্গন কলুষিত করা হয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন এর কাউন্সিলর নং-১৬৬ এবং  ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের গত নিবাচনে ভেটার তালিকার সদস্য-১৬০০। জামায়াত-বিএনপি ঘরানার প্রায় সব রাজনৈতিক নেতার সঙ্গেই ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে তার। এমনকি দলীয় শীর্ষ নেতারা দুবাই গেলে আজম খানের হোটেলে উঠেন। জিয়া আদর্শ একাডেমি নামের একটি সংগঠন তৈরি করে সেটির কেন্দ্রীয় সভাপতি তিনি। দুবাই থেকে দেশে এলে সংগঠনের ব্যানারে সভা-সমাবেশ করেন। তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এসব সভা-সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকতেন বলেও অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রে আরো জানা গেছে, সিআইডির হাতে গ্রেফতার আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের হোতা আজম খানের দেয়া জবানবন্দী, জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য অনুসন্ধানের ভিত্তিতে জানা গেছে দুবাইয়ের ফরচুন পার্ল হোটেল এ্যান্ড ড্যান্স ক্লাব, হোটেল রয়েল ফরচুন, হোটেল ফরচুন গ্রান্ড হোটেল সিটি টাওয়ারের অন্যতম মালিক এবং বাংলাদেশে নারী পাচারকারী চক্রটির গডফাদার আজম খান। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় অর্ধশত দালালের মাধ্যমে অল্পবয়সী মেয়েদের অথবা বিশ-বাইশ বছরের তরুণীদের উচ্চ বেতনে কাজ দেয়ার কথা বলে প্রলুব্ধ করত। বিশ্বস্ততার প্রমাণের জন্য চাকরির আগেই আগাম হিসেবে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হতো। পাশাপাশি দুবাইয়ে যাওয়া-আসার সব খরচও তাদের দেওয়া বলে চক্রটি জানিয়েছেন। দালালরা নির্ধারিত দুটি বিদেশী এয়ারলাইন্স এজেন্সির মাধ্যমে তাদেরকে দুবাই পাঠাতেন। সেখানে যাওয়ার পরে প্রথমে তাদের ছোটখাটো কাজ দেয়া হতো। এরপর জোরপূর্বক ড্যান্সক্লাবে তাদের নাচতে বাধ্য করা হতো। অন্যথায় চলতো নানাপ্রক্রিয়ায় শারীরিকভাবে নির্যাতন অথবা বদ্ধ ঘরে আটকে রেখে বৈদ্যুতিক শক পর্যন্ত দেয়া হতো সুত্রটি নিশ্চিত করেছেন।তাদের দেয়া হতো না কোন খাবার। একপর্যায়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন অর্থাৎ প্রস্টিটিউশনে (পতিতাবৃত্তি) বাধ্য করা হতো তাদের।

পুলিশের কাছে হস্তগত হওয়া ছবিতে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের ১৪ জুলাই বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি সুচিকিৎসার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সভায় মঞ্চে আজম খানের একপাশে সাবেক আইনমন্ত্রী এবং অন্যপাশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। একই দাবিতে গত বছরের মে এক প্রতিবাদসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি। এসব ছবি দিয়ে প্রতারণা করে নারী পাঁচারের কাজে ব্যবহার করত এমন অভিযোগ আজম খানের বিরুদ্ধে। এদিকে সরকারি একটি সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মো. আকতার হোসেনের মালিকানাধীনগাঙচিল ড্যান্স ফ্লোর তারার মেলা