শিরোনাম
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : | ০৫:০৮ পিএম, ২০২৬-০৫-২৪
নিউজ ডেস্ক: ছাত্র আন্দোলনে গুলিবর্ষণে অর্থ সহায়তার অভিযোগসহ হত্যা ও একাধিক হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি রাইসুল ইসলাম সৈকত (৪৩) এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাগালের বাইরে রয়েছেন। এলবিয়ন গ্রুপ ও ডেলটা হাসপাতালের চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত এই ব্যবসায়ীর গ্রামের বাড়ি সীতাকুণ্ডে হলেও তিনি চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার পূর্ব নাসিরাবাদে বসবাস করেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের আগের দিন নিউ মার্কেট, দুই নম্বর গেইট ও বহদ্দারহাট এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালানো হেলমেটধারী অস্ত্রধারীদের অর্থ সহায়তা করেছিলেন তিনি। তবে এসব অভিযোগে একাধিক মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও এখনো তার গ্রেপ্তার না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনো রাইসুল ইসলাম সৈকতের সঙ্গে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠতার একাধিক ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এসব ছবিতে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ এলিট, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার ভাই ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক প্রশাসক ও নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, যুবলীগ নেতা আরশাদুল আলম বাচ্চু, যুবলীগ নেতা বোরহানুল হাসান চৌধুরী সারেহীন, পটিয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে যুবলীগ নেতা শারুন চৌধুরী এবং পিএইচপি ফ্যামিলির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ পারভেজের উপস্থিতি দেখা যায়।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—বিশেষ করে একাধিক মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তার গ্রেপ্তার না হওয়ার প্রেক্ষাপটে। যদিও এসব সম্পর্কের প্রকৃতি বা প্রভাব নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি। এদিকে স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করছে, প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন এবং স্বাভাবিকভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রভাব বলয়ের কারণেই হয়তো দীর্ঘদিন ধরেও তিনি আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছেন—যদিও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রাইসুল ইসলাম সৈকতের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা একাধিক মামলায় তার নাম রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচলাইশ থানার একটি হত্যা চেষ্টা মামলা (নং- ৮০৭/২৪)-এ তিনি ১৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। এছাড়া আকবর শাহ থানার একটি হত্যা মামলায় ৪৭ নম্বর আসামি হিসেবেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গুরুতর এসব মামলায় অভিযুক্ত থাকা সত্ত্বেও তাকে প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, ছাত্র আন্দোলনের সময় অবৈধ অস্ত্রধারীদের হামলায় তিনি ইন্ধন জুগিয়েছেন এবং নিজেও অস্ত্র বহনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন—যা তদন্তসাপেক্ষ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই এলাকায় সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখলের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সমালোচকরা বলছেন, বিগত সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন রাইসুল ইসলাম সৈকত। এমনকি পরিবেশ সংরক্ষিত এলাকায় সীতাকুণ্ডে ইকোপার্কের পাশে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে, যা পরিবেশের জন্য হুমকি বলে দাবি করা হচ্ছে। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, আন্দোলনের সময় বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক ক্যাডারদের সংগঠিত করতে অর্থ ও লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছেন তিনি। এমনকি গোপন বৈঠকের মাধ্যমে সহিংস কর্মকাণ্ডে দিকনির্দেশনার অভিযোগও রয়েছে—যদিও সব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।
সরকার পরিবর্তনের পর কিছু সময় আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে আবারো প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন বলে জানা গেছে। এমনকি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নতুন করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার কথাও শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন মহলে। এ বিষয়ে আকবর শাহ ও পাঁচলাইশ থানার কর্মকর্তারা জানান, যেকোনো অপরাধ ও অপরাধীর বিরুদ্ধে পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। এজাহারভুক্ত বা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
একাধিক গুরুতর মামলার আসামি হয়েও যদি কেউ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে পারে, তাহলে তা বিচারব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি করে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কেউ দোষী নন—এটি যেমন সত্য, তেমনি অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তও সময়ের দাবি।
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : ঢাকা মেডিকেল প্রতিনিধি: ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মুখে টেপ মারা অবস্থায় যে ব্যক্তির মরদে...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : রোকনুজ্জামান সবুজ জামালপুরঃ জামালপুরের ইসলামপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি’র) ৪৮তম প্রত...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : রোকনুজ্জামান সবুজ,জামালপুরঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ...বিস্তারিত
টঙ্গী প্রতিনিধি : রোকনুজ্জামান সবুজ জামালপুরঃজামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও মেলান্দহ উপজেলায় পৃথক বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘট...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : রোকনুজ্জামান সবুজ,জামালপুরঃজামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পুলিশের ঝটিকা অভিযানে ৮৮ বোতল ভারতীয় মদসহ আ...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : রোকনুজ্জামান সবুজ, জামালপুরঃ জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা বাজারে রাজীব বাসের রোড পারমিট বাতিল ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 gssnews 24 | Developed By Muktodhara Technology Limited