চট্টগ্রাম   বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১  

শিরোনাম

আখাউড়ায় বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন

আখাউড়ায় বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন

জিএসএসনিউজ ডেস্ক :    |    ০৬:১১ পিএম, ২০২১-০৪-১৮

আখাউড়ায় বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন

মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন,আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।এ উপলক্ষে আজ দুপুরে আখাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাব ও টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্দ্যোগে তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়ার আয়োজন করা হয়। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন মোগড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির হোসেন,আখাউড়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম,সাধারণ সম্পাদক জালাল হোসেন মামুন,আখাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো.জুয়েল মিয়া,সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন,সাধারণ সম্পাদক অমিত হাসান আবির,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ পারভেজ, সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল আহমেদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন,মোহনা টিভির আখাউড়া প্রতিনিধি কবির হোসেনসহ আরো অনেকে।

এসময় বক্তারা বলেন,১৯৭১ সালের এই দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের দরুইন গ্রামে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন তিনি।সেদিন তিনি একাই লড়াই করে বাঁচিয়ে দিয়েছেন সহযোদ্ধাদের প্রাণ।জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে যেসকল বীর সৈনিকরা দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। উল্লেখ্য যে, ১৯৪৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার হাজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মোস্তফা কামাল। পিতা হাবিলদার মো. হাবিবুর রহমান ও মাতা মালেকা বেগম। ৫ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। তাঁর স্ত্রীর নাম পিয়ারা বেগম। আশির দশকে মেঘনা নদীর ভাঙ্গনে দৌলতখান উপজেলার হাজীপুর গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের পৈত্রিক বাড়িটি বিলীন হয়ে যায়।

১৯৮২ সালে সরকার সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নে মৌটুপি গ্রামে কিছু সম্পত্তিসহ তার-পিতা-মাতার জন্য একটি পাকা বাসভবন নির্মাণ করে তাদের পুনর্বাসিত করে। বর্তমানে এ গ্রামের নাম পরিবর্তন করে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল নগর রাখা হয়েছে। এ গ্রামের বাড়িতেই বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের মা মালেকা বেগমসহ পরিবারের অন্যন্য সদস্যরা বসবাস করেন। বাড়ির পাশেই ২০০৮ সালে সরকারিভাবে নির্মাণ করা হয়েছে ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর’।স্তফা কামালের ছোট বেলা থেকেই স্কুলের পড়ালেখার চেয়ে ভালো লাগত সৈনিকদের কুচকাওয়াজ। নিজেও স্বপ্ন দেখেন একদিন সৈনিক হওয়ার। ১৯৬৭ সালে কাউকে কিছু না বলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। ক্রমশই স্বাধীনতার দাবিতে সারা দেশ উত্তাল হতে থাকে। ৭মার্চ জাতির পিতার ঐতিহাসিক ভাষণ শুনে বীরদর্পে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন মোস্তফা কামাল।সিপাহী মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১৬ এপ্রিল ১টি মুক্তিযোদ্ধাদের দল ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়ার দিকে এগিয়ে আসা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে ঠেকানোর জন্য আখাউড়ার দরুইন গ্রামে অবস্থান নেয়। সংখ্যায় বেশি ও আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত পাকা-বাহিনীর সাথে মোকাবেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের ছিল অদম্য মনোবল। প্রচন্ড ঝুঁকির মধ্যেও মুক্তিযোদ্ধারা শত্রুর জন্য প্রস্তত থাকে অস্ত্র হাতে। এপ্রিল সকাল থেকেই আকাশে মেঘ ছিল। সকাল ১১টার দিকে শুরু হয় প্রচন্ড বৃষ্টি। একইসাথে শত্রুর গোলাবর্ষণ। মুক্তিযোদ্ধারাও পাল্টা গুলি করতে শুরু করলো। শুরু হলো সম্মুখ যুদ্ধ। মেশিনগান চালানো অবস্থায় এক মুক্তিযোদ্ধার বুকে গুলি লাগে। মুহূর্তের মধ্যে মোস্তফা কামাল এগিয়ে এসে চালাতে লাগলেন মেশিনগান। গর্জন করে উঠে তার হাতের অস্ত্র।মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে কোন অত্যাধুনিক অস্ত্র ছিল না। সংখায়ও অনেক কম ছিলো তারা। আর পাকিস্থানী সৈন্যরা সংখায় ছিল অনেক বেশি ও ভারি অস্ত্র শস্ত্র সজ্জিত তারা। হয় সামনা সামনি যুদ্ধ করে মরতে হবে, নয় পিছু হটতে হবে। কিন্তু পিছু হটতে হলেও সময় দরকার। ততক্ষণ অবিরাম গুলি চালিয়ে শত্রুদের আটকিয়ে রাখতে হবে। কে নেবে এই মহান দায়িত্ব? 

এমন সময় আরো একজন মুক্তিযোদ্ধার বুকে গুলি বিঁধে। ততক্ষণে মোস্তফা কামাল সকল সহযোদ্ধাকে সরে যেতে বলেন। পরিখার মধ্যে সোজা হয়ে চালাতে লাগলেন স্টেনগান। মুক্তিযোদ্ধারা তাকে ছেড়ে যেতে না চাইলে তিনি আবারো সবাইকে নিরাপদে যেতে বলেন। অবিরাম গুলি চালাতে থাকেন তিনি। তার গোলাবর্ষণে শত্রুদের থমকে যেতে হয়েছে। মারা পড়েছে বেশ কয়েকজন পাক সৈন্য।

ততক্ষণে দলের অন্য সদস্যরা নিরাপদে পিছু হটেছেন। একসময় মোস্তফা কামালের গুলি শেষ হয়ে যায়। হঠাৎ করেই একটি গুলি এসে লাগে তার বুকে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। মারা যান মোস্তফা কামাল। তার এমন বীরত্বের কারণে সহযোদ্ধাদের প্রাণ রক্ষা পায়।জাতির এ শ্রেষ্ঠ সন্তানকে দরুইনের মাটিতে সমাহিত করা হয়। অসীম সাহসিকতার জন্য তাকে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ প্রদান করে বাংলাদেশ সরকার।

রিটেলেড নিউজ

শারদীয় দূর্গোৎসবে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন

শারদীয় দূর্গোৎসবে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন

জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : ফারুকুজ্জামান,কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ শারদীয় দূর্গোৎসবে সাম্প্রদায়িক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতি...বিস্তারিত


হোমনায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সমাবেশ 

হোমনায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সমাবেশ 

জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : মোর্শেদুল ইসলাম শাজু, হোমনা : কুমিল্লার হোমনায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সম্প্রীতি সমাবেশ ...বিস্তারিত


মুরাদনগরে সিএনজি চালক হেলাল হত্যার ঘটনায় আরো ৩ জন গ্রেপ্তার

মুরাদনগরে সিএনজি চালক হেলাল হত্যার ঘটনায় আরো ৩ জন গ্রেপ্তার

জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : বেলাল উদ্দিন আহাম্মদ, মুরাদনগর(কুমিল্লা) প্রতিনিধি: মুরাদনগরে নিখোঁজের ছয় দিন পর সিএনজি চলকের গল...বিস্তারিত


র‌্যাবের অভিযানে দাউদকান্দিতে ক্লু-লেস হত্যা মামলার একমাত্র আসামী গ্রেফতার

র‌্যাবের অভিযানে দাউদকান্দিতে ক্লু-লেস হত্যা মামলার একমাত্র আসামী গ্রেফতার

জিএসএসনিউজ ডেস্ক : :  মোহাম্মদ শাহ্ আলম শফি (কুমিল্লা) : রোববার (১৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানাধীন ...বিস্তারিত


কুমিল্লায় ইসকনের মানববন্ধন

কুমিল্লায় ইসকনের মানববন্ধন

জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : শাহ আলম শফি (কুমিল্লা) :  নোয়াখালী মন্দিরে পুরোহিত হত্যাসহ সারাদেশে শারদীয় দুর্গোৎসবে প্রতিমা ভ...বিস্তারিত


কমলগঞ্জে দোকানে হামলা-ভাংচুর, আহত-১

কমলগঞ্জে দোকানে হামলা-ভাংচুর, আহত-১

জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : চিনু রঞ্জন তালুকদার, মৌলভীবাজার ঃ কমলগঞ্জে রহিমপুর ইউনিয়নের কালেঙ্গা (কড়ালি টিলা) গ্রামে একটি ডিম ...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খোশনবীশের দুরদর্শীতায় মীরপুর বাংলা স্কুল এ্যান্ড কলেজের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মাননা লাভ

অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খোশনবীশের দুরদর্শীতায় মীরপুর বাংলা স্কুল এ্যান্ড কলেজের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মাননা লাভ

জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : আসাদুজ্জামান বাবুল : গ্রীক বীর 'আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেট' ভারতীয় উপমহাদেশে পদার্পণ করেই এখনকার প...বিস্তারিত


কীর্তিমান সমাজ সেবক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর কর্মজীবন ও কমলগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ছলিমবাড়ী পরিবারের কৃতিত্ব 

কীর্তিমান সমাজ সেবক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর কর্মজীবন ও কমলগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ছলিমবাড়ী পরিবারের কৃতিত্ব 

জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : শাহ মোঃ মোতাহির আলী আজমী, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার): মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলা একটি বৈচিত্র্যময় উ...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর