চট্টগ্রাম   শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১  

শিরোনাম

যশোরের বর্ষীয়ান রাজনীতিক  ও সাবেক সাংসদ খালেদুর রহমান টিটোর মৃত্যু

যশোরের বর্ষীয়ান রাজনীতিক  ও সাবেক সাংসদ খালেদুর রহমান টিটোর মৃত্যু

জিএসএসনিউজ ডেস্ক :    |    ০৮:৪২ পিএম, ২০২১-০১-১০

যশোরের বর্ষীয়ান রাজনীতিক  ও সাবেক সাংসদ খালেদুর রহমান টিটোর মৃত্যু

মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি : যশোরের বর্ষীয়ান রাজনীতিক সাবেক সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টি আমলে মহাসচিব এবং প্রতিমন্ত্রী খালেদুর রহমান টিটোর (৭৬) মারা গেছে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।রোববার ১০ জানুয়ারী দুপুর একটা ২০ মিনিটে যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  যশোর- আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) ডা. নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মরদেহ তার ষষ্ঠিতলাপাড়ার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।এর আগে এদিন সকাল ১০ টায় শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে উঠলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।  

তার মেজ ছেলে অ্যাডভোকেট খালিদ হাসান জিউস জানান, ফুসফুসে ইনফেকশন জনিত কারণে তিনদিন আগে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার ১০ জানুয়ারী সকাল ১০ টায় অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। 

খালেদুর রহমান টিটো ১৯৪৫ সালের মার্চ কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম অ্যাডভোকেট হবিবুর রহমান। তিনি একজন এমএ, বিএল ছিলেন। মা মরহুম করিমা খাতুন একজন এমএ, এম-এড ছিলেন। সাত ভাইবোনের মধ্যে টিটো দ্বিতীয়। বড়ভাই মাসুকুর রহমান তোজো ১৯৭১ সালে রাজাকার বাহিনীর হাতে নৃশংসভাবে খুন হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডবল অনার্স নিয়ে ফিজিক্সে মাস্টার্স পাশ করেছিলেন।

রাজনৈতিক সহকর্মী পরিবার সদস্যদের দেওয়া তথ্যমতে, খালেদুর রহমান টিটোর শিক্ষাজীবন শুরু হয় যশোর জিলা স্কুলে। ১৯৬০ সালে এখান থেকে তিনি ম্যাট্রিক পাশ করেন। ১৯৬৩ সালে ঢাকার কায়েদে আজম কলেজ হতে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। ১৯৬৭ সালে কারাগারে অবস্থানকালে যশোর এমএম কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন করেন। পরবর্তীতে মাস্টার্স করতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হয়েও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মাস্টার্স আর শেষ করা সম্ভব হয়নি।খালেদুর রহমান টিটো রাজনৈতিক পরিমলে বেড়ে উঠেছেন। ১৯৬৩ সালে যশোর এমএম কলেজ ছাত্র ইউনিয়নে সম্পৃক্ততার মধ্যদিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

১৯৬৭ সালে কলেজের লেখাপড়া শেষে করে তিনি বাম ধারার শ্রমিক রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬৯ সালের শেষের দিকে তিনি কৃষক আন্দোলন জোরদার করতে কোটচাঁদপুর, মহেশপুর কালীগঞ্জ এলাকায় যান। ১৯৭০ সালের শেষের দিকে তার সাথে দলের রাজনৈতিক মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। শ্রেণিশত্রু উৎপাটনের লাইন তিনি মেনে নিতে পারেননি। ফলে এক সময়ে দল থেকে বের হয়ে আসেন। এসময় তিনি পুলিশি অভিযানের কারণে কুষ্টিয়ায় চলে যান। ওই বছরের মার্চ মাসে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি আবার ভারতে চলে যান। বাম রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার কারণে সেখানে তিনি শান্তিতে থাকতে পারেননি। আবার পূর্ব পাকিস্তানেও ঢুকতে পারতেন না। এর কারণ হিসেবে ওই সময় পাকিস্তানি আর্মি তার মাথার দাম ধার্য করেছিল দশ হাজার টাকা।

স্বাধীনতার পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। ইতোমধ্যে বড়ভাই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হলে সংসারের দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়ে। সাংসারিক ব্যয়ভার বহন করার জন্য তিনি ব্যবসা শুরু করেন এবং আব্দুস সামাদ মেমোরিয়াল স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি গ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সালের প্রথমদিকে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী-ন্যাপ) যোগ দেন। ১৯৭৪ সালেই ন্যাপের জেলা সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।