শিরোনাম
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : | ০৬:৩০ পিএম, ২০২৫-১১-১৩
টিপু সুলতান ,নাটোর প্রতিনিধি: পুরো জেলা বিএনপির রাজনীতি এখন তীব্র অভ্যন্তরীণ সংকটে নিমজ্জিত। দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও মাঠের নেতাকর্মীরা প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং 'এক নেতা' কেন্দ্রিক ক্ষমতার রাজনৈতিক চাপে আজ বড়ই অসহায় হয়ে পড়েছেন। বিএনপির মনোনয়ন ও সাংগঠনিক অবস্থান ঘিরে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে গভীর মতবিরোধ ও বিভাজন দেখা দিয়েছে। প্রকাশ্যে কেউ প্রতিবাদ না করলেও, অভ্যন্তরে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দিন দিন বাড়ছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও ভোটারদের আশঙ্কা, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া): এই আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে, বিএনপি'র চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্রবিষয়ক পরামর্শ কমিটির বিশেষ সহকারী ও দলের মিডিয়া সেলের সদস্য অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুলকে। সদ্য তিনি নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বও পেয়েছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে পুতুলের অবস্থান ব্যতিক্রমধর্মী। তিনি ব্যক্তিকেন্দ্রিক নন, দলের রাজনীতি করেন বলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। তবে মনোনয়ন ঘিরে নতুন দ্বন্দ্বও তৈরি হয়েছে, কারণ পুতুলের আপন বড়ভাই ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজনও একই আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। রাজন হলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর ঘনিষ্ঠ অনুসারী।
জানা গেছে, দুলু নিজের বলয়কে শক্ত করতে রাজনকে সমর্থন দিয়ে পুতুলের বিরোধিতা করাচ্ছেন। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ মনে করেন, নাটোর জেলা বিএনপির রাজনীতিতে রুহুল কুদ্দুস দুলু দীর্ঘদিন ধরে নিজের অনুসারী গোষ্ঠীকে প্রভাবশালী করে তুলছেন।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি দলের চেয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি ও নিজস্ব বলয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। এই প্রভাবের কারণে দলীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের অনেক ত্যাগী ও আদর্শিক নেতা উপেক্ষিত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর দুলুর অনুসারীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য অপরাধ কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। যে কারণে ভোটারদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, নাটোর-১ আসনে ১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী মমতাজ উদ্দিন নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির নওশের আলী সরকার জয়ী হন। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত চারবার সংসদ সদস্য ছিলেন বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান পটল। ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টির আবু তালহা, ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের আবুল কালাম, ২০১৮ সালে শহিদুল ইসলাম বকুল এবং ২০২৪ সালে আবারও আবুল কালাম (স্বতন্ত্র) নির্বাচিত হন।
স্থানীয় ভোটাররা মনে করেন, বর্তমান সময়ে সাহসী নেত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল এখানে দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ এবং তিনিই মাঠে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় প্রার্থী। নাটোর-২ (নাটোর সদর-নলডাঙ্গা): এই আসনে দলের প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কিন্তু দুলুকে ঘিরে দলের ভেতরেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তার অনুসারীদের দাপট, বলয় তৈরি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ক্ষোভ জমেছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে।
জেলা পর্যায়ের অনেক নেতা অভিযোগ করেছেন, দুলুর ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নেবেন। নাটোর-২ আসনের রাজনীতি মূলত দুলু কেন্দ্রিক। ১৯৯৬ সালের দুই নির্বাচনে এবং ২০০১ সালে তিনি এই আসনের এমপি ছিলেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের আহাদ আলী সরকার, আর পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের তিনটি নির্বাচনে আ.লীগের মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শিমুল জয়ী হন। তবে এই আসনে এখনো বেশ কয়েকজন তরুণ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা রয়েছেন। তাদের মধ্যে জেলা বিএনপির সদস্য ও আমরা বিএনপি পরিবারের উপদেষ্টা মোঃ আবুল কাশেম এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ অন্যতম। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আবুল কাশেম ও আসাদুজ্জামান আসাদের মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে দুলুর বলয়ের লোকজন প্রতিনিয়ত তাদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও মানবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে আসছেন। দুলুর প্রভাবের কারণে নাটোরে তাদের সার্বিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।এদিকে দুলুর একনিষ্ঠ অনুসারী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক ফরহাদ আলী ওরফে দেওয়ান শাহীনকে স্থানীয়রা নাটোরের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি অর্থাৎ 'গডফাদার' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। দেওয়ান শাহিনের বিরুদ্ধে অসংখ্য চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও অপরাধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কাজে শাহীনকে সহযোগিতা করছেন আবুল বেপারী, এ. হাই তালুকদার ডালিম, রাসেল রনি, কামরুল ও শামসুল ইসলাম রনিসহ আরও বেশ কয়েকজন চিহ্নিত ব্যক্তি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছর ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জেলার ঠিকাদারি, বাস মালিক ও দলিল লেখক সমিতি এবং চামড়া ব্যবসাসহ বিভিন্ন সংগঠনে দুলুর অনুসারীদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।
নাটোর জেলা বিএনপির তিনজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই সব কার্যক্রম পরিচালিত হয় রুহুল কুদ্দুস দুলুর প্রত্যক্ষ নির্দেশে। অ্যাডভোকেট রুহুল
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : রাঙ্গাবালী প্রতিনিধি সামুদ্রিক প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনà...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : মোঃ শরীফ ভূইয়া,রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ): নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ কাঞ্চন পৌরসভায় দলীয় কর্মসূচির তালিকা...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : আলম খান :আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম আলী পাঠানের পক্ষে দিন-রাত গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ নরসিংদী–৩ (শিবà...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : বিশেষ প্রতিনিধি | শরীয়তপুর শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলাধীন কনেশ্বর ইউনিয়নের আতলা কুড়িগ্রà¦...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গহীন পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল ছলিমপুরে মসজিদের ...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : ডেস্ক নিউজ: যতই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসছে ততই একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে শনিবার (১৭ জা...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 gssnews 24 | Developed By Muktodhara Technology Limited